সময়ের সঙ্গে তাল মেলাতে না পারলে বেকারত্ব দূর হবে না : উজ্জ্বল

আশরাফ উদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বল

বাংলাদেশের খ্যাতিমান চলচ্চিত্র নায়ক আশরাফ উদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বল মনে করেন, সময়ের সঙ্গে তাল মেলাতে না পারলে চলচ্চিত্র অঙ্গনের বেকারত্ব দূর হবে না। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তথ্য-প্রযুক্তি অনেক দূর এগিয়ে গেছে। সেই প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে না পারলে কোনো পরিচালক সফল হতে পারবেন না।

উজ্জ্বল বলেন, সত্তরের দশকে আমরা যখন চলচ্চিত্রে এসেছি, তখন নির্মাতারা সেই সময়কে ধারণ করে কাজ করেছেন।

কিন্তু সময়ের সঙ্গে পাল্টেছে দর্শকের রুচি, চিন্তাধারা এবং গল্প বলার ধরন। বর্তমান সময় প্রযুক্তির যুগ। এ ক্ষেত্রে প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষ না হলে সিনেমা তৈরি করা যাবে, কিন্তু সেগুলো সফল হবে না। এ সমস্যা বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে স্পষ্ট।আমরা যথাযথভাবে আধুনিক হতে পারিনি।

তিনি মনে করেন, চলচ্চিত্রের এই সংকট দূর করতে সরকারের বড় ভূমিকা পালন করার সুযোগ রয়েছে। উজ্জ্বল বলেন, চলচ্চিত্রকে চাঙ্গা করতে হলে প্রযুক্তিনির্ভর একাডেমি খুলে তরুণ প্রজন্মকে সহযোগিতা করতে হবে। তা হলেই আবার চলচ্চিত্র ঘুরে দাঁড়াতে পারবে।

উজ্জ্বল তাঁর অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, আমরা অ্যানালগ যুগে কাজ করেছি। ডিজিটাল যুগ আসার পর সব কিছু বদলে গেছে, কিন্তু আমরা নিজেরা বদলাতে পারিনি। নতুন করে আমাদের শুরু করতে হবে। চলচ্চিত্র একটি শক্তিশালী মাধ্যম। এটি মানুষের কথা বলে, দেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য তুলে ধরে।

সরকারের উচিত এই শক্তিশালী মাধ্যমকে টিকিয়ে রাখতে উদ্যোগ নেওয়া।

তিনি আরো বলেন, সব সরকারের আমলে চলচ্চিত্রকে শিল্পের মর্যাদা দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে, কিন্তু কেউই যথাযথ গুরুত্ব দেননি। অথচ গার্মেন্টস বা ট্যুরিজম ইন্ডাস্ট্রির মতো চলচ্চিত্রও অর্থনীতির সঙ্গে জড়িত। এটি শুধু বিনোদন দেয় না, কর্মসংস্থান ও দেশের ভাবমূর্তি বিশ্বব্যাপী তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করে।

উজ্জ্বল আরো বলেন, একসময় নতুন মুখের সন্ধানের মাধ্যমে নায়ক-নায়িকা খোঁজা হতো। বর্তমানে টিকটক ও ইউটিউবের মতো প্ল্যাটফরমে অনেক প্রতিভা রয়েছে। সেখান থেকেও নতুন শিল্পী খুঁজে আনা সম্ভব।

তিনি বর্তমান প্রেক্ষাপট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন, অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে চলচ্চিত্র বিভাগ রয়েছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করছেন। কিন্তু যদি সিনেমা তৈরি না হয়, তাহলে তাঁরা কী করবেন? বর্তমানে চলচ্চিত্রের অনেক মানুষ বেকার অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এটি খুবই দুঃখজনক। তাঁদের জন্য জরুরি ভিত্তিতে কিছু করা প্রয়োজন।

তিনি জানান, আমি বিএনপির সাংস্কৃতিক সম্পাদক হিসেবে আছি। ভবিষ্যতে দল নির্বাচিত হলে চলচ্চিত্রের জন্য কিছু করার ইচ্ছা আছে। তবে আমি মনে করি, এই দায়িত্ব সরকারের। একটি সুনির্দিষ্ট নীতি গ্রহণ করে চলচ্চিত্রকে বাঁচাতে উদ্যোগ নিতে হবে।

চলচ্চিত্রের সংকট কাটিয়ে ওঠার জন্য উজ্জ্বল যেমন সরকারের ভূমিকার ওপর জোর দিয়েছেন, তেমনি তরুণ প্রজন্ম ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরেছেন।

LEAVE A REPLY