সংগৃহীত ছবি
লাক্স চ্যানেল আই সুপারস্টার প্রতিযোগিতা দিয়ে শোবিজে যাত্রা শুরু তার। এরপর কাজ করেছেন বহু বিজ্ঞাপন ও নাটকে। এরপর অভিনয় থেকে বিরতি নেন। বলছিলাম লাক্স সুন্দরী সিফাত তাহসিনের কথা।
এরপর মাঝে মধ্যে পর্দায় দেখা দিলেও নিয়মিত হননি। বছর কয়েক আগে বিয়ে করে স্থায়ী হন কানাডাতে। অনেক বছর পর আবারও অভিনয়ে ফিরেছেন তিনি, আসছে ভালোবাসা দিবসের একটি নাটকে দেখা যাবে তাকে। শুধু তা-ই নয়, চলতি সপ্তাহে দেশে আসছেন তিনি।
অভিনয়ে ফেরা, ক্যারিয়ার ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছেন ইমরুল নূর।
প্রায় ছয় বছর পর অভিনয়ে ফিরলেন…
যতদূর মনে পড়ে, ২০১৯ সালে শেখর শাহনিয়াত পরিচালিত ‘ভাইরাল মাসুদ’ নাটকে মোশাররফ করিমের বিপরীতে সর্বশেষ অভিনয় করেছিলাম। এরপর তো দেশে করোনা মহামারি শুরু হলো, আর কাজ করা হয়নি। এরপর আমি কানাডাতে চলে আসি।ইউএসএ এটিভি চ্যানেলের যে প্রেসিডেন্ট তিনি আমার পূর্বপরিচিত। উনি যখন জানালেন কিছু করতে চাচ্ছেন তখন সব কিছু মিলিয়ে নতুন এই ‘ফাঁদের প্রেমে’ নাটকটি করতে রাজি হই।
ইমিগ্রেশনে আমাদের যেসব ঝামেলা হয়, গল্পটা সে রকমই একটা প্রেক্ষাপট নিয়ে নির্মিত। যেহেতু সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট পরিবর্তন হলো। তা ছাড়া এখানে যারা আছেন তারা কী কী সমস্যার মুখোমুখি হন, সেসব নিয়ে গল্প।আমার কাছে মনে হয়েছে এটা এখনকার জন্য বেশ সময়োপযোগী একটা গল্প।
কেমন ছিল অভিজ্ঞতা?
আমার খুব ইচ্ছা করে কাজ করার। অনেক দিন কাজ না করলে যেটা হয়, মনের সেই ক্ষুধা মেটাতেই আবার অভিনয় করা। কাজটা করতে খুবই ভালো লেগেছে। আমি কানাডা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের জ্যামাইকাতে গিয়ে শুট করেছি। দেশের বাইরে শুটিং করতে হলে তো ক্রু ছাড়া শুটিং করতে হয়। সে জন্য করতে পারব কি না, কষ্ট হবে কি না সে রকম একটা শঙ্কাও ছিল আবার ভালো লাগাও ছিল। তবে সবচেয়ে বেশি সমস্যা হয়েছে ঠাণ্ডার কারণে। তাপমাত্রা মাইনাস আট-নয় হলেও মনে হচ্ছিল মাইনাস এগারো-বারোর মতো। এত ঠাণ্ডার মধ্যে আমাদের শুট করতে খুব বেগ পেতে হয়েছিল। তার মধ্যে আবার আমি পরেছিলাম শাড়ি। ঠাণ্ডায় পুরো জমে থাকতে হয়েছে আমাকে, খুব কষ্ট করতে হয়েছে। সব কিছু মিলিয়ে অভিজ্ঞতা ভালো। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি, সুন্দরভাবেই কাজটি করেছি। পরিচালকও কোনো প্রেশার দেননি, স্বাধীনতা দিয়েছেন এবং আমি আমার মতো চেষ্টা করেছি।

কানাডাতে এখন কী করা হয় আপনার?
আমি ২০২২ সালে স্টুডেন্ট হিসেবে এখানে আসি। তার আগ পর্যন্ত আমি বাংলাদেশেই ছিলাম। এরপর পড়াশোনা শেষ করে এখানে একটি কম্পানিতে চাকরি করছি (গত এক বছর ধরে)। এর পাশাপাশি মাঝেমধ্যে বিভিন্ন শো করা। একটা তথ্য দিয়ে রাখতে চাই, বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেখেছি আমি নাকি যুক্তরাষ্ট্রে থাকি। এটা আসলে সঠিক নয়। আমি কানাডাতেই সেটেল্ড আর যুক্তরাষ্ট্রে ট্যুরিস্ট হিসেবে মাঝেমধ্যে ঘুরতে যাওয়া হয় আমার।
অভিনয় থেকে বিরতি, বিরতি থেকে তাহসিনের বারবার ফেরা…
লাক্স থেকে বের হবার পর ২০১৪ সাল পর্যন্ত আমি একটা কাজ করেছি বিজ্ঞাপন, নাটকে। এরপর পড়াশোনা এবং চাকরির কারণে বিরতি নিতে হয়েছিল। যেহেতু ফ্যাশন ডিজাইনিং নিয়ে পড়েছি, এরপর আমি ওই সময়ে চাকরিতে ঢুকে গিয়েছিলাম। সেদিকে ফোকাস দেওয়ার কারণে তখন অভিনয়ে নিয়মিত থাকা হয়নি। এরপর কয়েক বছরে হয়তো এক-দুইটা বিজ্ঞাপন কিংবা নাটকে কাজ করেছিলাম। অভিনয়টাকে খুব মিস করি আর সে জন্যেই মাঝেমধ্যে কাজ করতে খুব আগ্রহবোধ করি। সময়-সুযোগ পেলেই কাজ করতে চাই। কানাডাতে আমি যখনই সুযোগ পাই সেটা অভিনয় নাহলেও চেষ্টা করি উপস্থাপনা কিংবা কোনো অনুষ্ঠানে অংশ নেবার। স্টেজ হোক কিংবা ক্যামেরার সামনে—এটা আমার অনেক ভালো লাগার জায়গা। কখনোই এটা মিস করতে চাই না।
এর বাইরে একটু ভিন্ন প্রসঙ্গে আসি। বিভিন্ন সময়েই বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে এই সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় তারকা মেহজাবীন চৌধুরী তার বেস্ট ফ্রেন্ড হিসেবে শুধু একজনের নাম উল্লেখ করেন এবং সেটা আপনার নাম। আপনাদের বন্ধুত্বের শুরুটা কেমন ছিল?
আমাদের দুজনের পরিচয় সেই লাক্স চ্যানেল আই প্রতিযোগিতা (২০০৯) থেকে। ও (মেহজাবীন) তখন বেশ ছোট ছিল, আমি ওর থেকে কয়েক বছরের বড় ছিলাম। ওই প্রতিযোগীদের মধ্যে মেহজাবীনই ছিল সর্বকনিষ্ঠ। যখন দেখেছি মেয়েটা অনেক ছোট, অনেক কিছু বুঝতে পারছে না, ভালোভাবে বাংলা বলতে পারছে না, এ রকম একটা নতুন পরিবেশে অনেক আনকমফোর্ট ফিল করছে—তখন বড় বোনসুলভ আমি তার কাছে যাই, তার সঙ্গে মিশি। মেশার পর থেকে বুঝতে পারলাম ও কোনো কিছু জটিলভাবে চিন্তা করতে পছন্দ করত না বা পারত না। ব্যক্তি হিসেবে মেহজাবীন একদম জেনুইন অ্যান্ড শি হ্যাজ আ পিওর হার্ট। ওর এই কোয়ালিটিগুলো আমাকে সে সময় অনেক বেশি টাচ করেছিল। ওর মধ্যে সব সময় যেকোনো কিছু জয় করার চিন্তাটা ছিল। এটা শুধু লাক্স না, সব কিছুতেই। সেই প্রতিযোগীতা থেকেই আমাদের বন্ধুত্বের শুরু এবং সেটা এখনো অটুট।

২০১০ সালে একই মঞ্চে যখন আপনিসহ অন্য প্রতিযোগীদের মধ্যে বিজয়ী হিসেবে মেহজাবীনের নাম ঘোষণা করার সঙ্গে সঙ্গে সবার আগে আপনাকে জড়িয়ে ধরেছিলেন এবং আনন্দে আত্মহারা হয়ে অশ্রুসিক্ত হয়েছিলেন তিনি। সেই মুহূর্তটার কথা কি মনে আছে?
অসম্ভব চমৎকার। ওয়ান অব দ্য বেস্ট একটা মোমেন্ট ছিল। সেদিন আমি সবচেয়ে বেশি খুশি হয়েছিলাম। এমন না যে আমি হতে পারিনি দেখে খারাপ লেগেছিল। মেহজাবীন বিজয়ী হওয়াতে আমার বেশি ভালো লেগেছিল, ব্যক্তিগতভাবে অনেক খুশি হয়েছিলাম। কারণ আমার কাছে মনে হয়েছে শি ইজ মাচ মোর ডিজার্ভিং। এর পর থেকে সে তার মতো কাজ করতে শুরু করলো, আমিও। ওর শুরুর দিকে অভিনয় করতে গিয়ে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। কারণ স্ক্রিপ্ট বুঝতো না যেহেতু বাংলাতে থাকতো। অনেক স্ট্রাগল করতে হয়েছে। এরপর আমাদের কাজ আলাদা হলেও বন্ধুত্বটা ছিল।
এই প্রতিযোগীতায় নাম লেখালে হয়তো কিছু বন্ধু জুটতে পারে—এই লক্ষ্য নিয়ে এখানে তার আসা। প্রতিযোগিতা শেষে সেটা পেয়েছেও এবং আপনাদের সেই সম্পর্কের বয়স পনেরোতে পা দিল সদ্যই…
এটা সত্যি অন্য রকম। আমাদের মধ্যে সব সময় যোগাযোগ ছিল এবং সেটা একদমই স্পষ্ট। হয়তো মাঝে কিছুদিন বন্ধ ছিল কিন্তু দীর্ঘ এত বছরে কখনো কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। আমাদের দুজনের মধ্যে আন্ডারস্ট্যান্ডিংটা ভালো ছিল। আমি কী বলতে চাইছি, সেটা ও বুঝতে পারে; আবার ওর ক্ষেত্রে আমি। আমি খুবই ভাগ্যবতী ওর মতো বান্ধবী পেয়ে, তা-ও আবার লাইফ লং ফ্রেন্ড। মিডিয়াতে দুইটা মেয়ের মধ্যে হয়তো অনেক সময় ভালো সম্পর্কটা থাকে না, যেটা আমরা দেখে এসেছি। কিন্তু এদিক থেকে আমরা দুজনেই অনেক লাকি।
আপনি তো তাকে একদম শুরু থেকে এবং খুব কাছ থেকে দেখেছেন। সেদিনের সেই মেহজাবীন আজকে এত জনপ্রিয়, সবার প্রিয় হয়ে উঠেছেন। তার সবচেয়ে প্রিয় বান্ধবী হিসেবে আপনার কাছে কেমন লাগে?
মেহজাবীন সব সময়ই কম্পিটিটিভ। এটা আমার সঙ্গে পরিচয়েরও আগে থেকে, একদম ছোটবেলা থেকে। সে কোনো কম্পিটিশনে গেলে সে সব সময় সেটা উইন করতে চায়। এর জন্য যতটুকু এফোর্ট দেওয়া প্রয়োজন সে দেয়। এই কোয়ালিটিটা যার মধ্যে আছে সে অনেক দূর যাবেই। তা ছাড়া পরিচয়ের প্রথম দিন থেকেই আমার মনে হতো যে ও অনেক কিছু ডিজার্ভ করে। এত ছোট একটা মেয়ে অথচ এত ম্যাচিউর চিন্তা-ভাবনা তার, আমি তখন ভাবতাম এই মেয়ে তো অন্য আট দশটা মেয়ের মতো না। তাদের চেয়ে অনেক ডিফারেন্ট। বিশ্বাস ছিল অনেক ভালো কিছু করবে। সে স্ট্রাগল করেছে, প্রতিনিয়ত নিজেকে ইম্প্রুভ করার চেষ্টা করে গেছে। যার জন্য সে আজকে এই জায়গায়। আমি ওর জন্য প্রতিটা মুহূর্ত গর্ববোধ করি। আমি ওকে খুব ভালো করে জানি। আমি যখন ওর প্রতিটা কাজ দেখি কখনো মনে হয়নি যে, এটার চেয়েও ভালো হতে পারত। কারণ আমি জানি, সে যেটা করে তার সর্বোচ্চ এফোর্টটা দিয়ে করে। এত কিছু অর্জনের পর এখনো সে প্রতিনিয়ত নিজেকে আরো ইম্প্রুভ করে যাচ্ছে। একজন ফ্রেন্ড হিসেবে আমার খুবই ভালো লাগে বরং খুশিই লাগে।

‘নো প্রবলেম’ ধারাবাহিক নাটকে মেহজাবীন এবং আপনাকে একসঙ্গে দেখা গিয়েছিল ২০১০ সালে। এরপর আর পাওয়া যায়নি। সামনে কি আপনাদের দুই বান্ধবীকে একসঙ্গে পর্দায় পাওয়া যাবে?
হ্যাঁ, প্রায় পনেরো বছর আগে একটি মাত্র নাটকেই কাজ করা হয়েছিল আমাদের। এরপর আর হয়নি। আর আগামীতে দেখা যাবে কি না সেটা নির্ভর করে পরিচালক-প্রযোজকদের ওপর। সে রকম ভালো গল্প এবং পরিকল্পনা থাকলে কেন নয়। আমি তো অবশ্যই কাজ করতে চাই।
সর্বশেষ প্রশ্ন, দেশে ফিরবেন কবে?
যদিও আমার কাছের মানুষরা জানে। আমি আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে আসব। তবে খুব বেশি সময় থাকা হবে না। এক মাসের ছুটিতে আসা হবে। এই পুরো সময়টা কাছের মানুষদের সঙ্গে কাটাব। এর মধ্যে কিছু পরিচালক যোগাযোগ করেছেন, যদি ব্যাটে-বলে মেলে তাহলে হয়তো এক-দুইটা কাজ করা হতে পারে।









































