দিল্লির বুকে এবার তৃণমূলের গর্জন

কংগ্রেস শিরোমণি রাহুল গান্ধীর পর এবার তৃণমূল কংগ্রেসের গর্জন স্পষ্ট শোনা গেল দিল্লির রাজনৈতিক আকাশে। সংসদের সামনেই সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে তৃণমূলের এমপিরা নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর (ভোটার তালিকা সংশোধন) প্রক্রিয়ার তীব্র বিরোধিতা জানালেন। হাতে প্ল্যাকার্ড, কণ্ঠে স্লোগানে ‘ভোট চুরি’ বন্ধ করো। ইন্ডিয়া জোটের অন্যান্য দলের নেতাদের সঙ্গেও কাঁধ মিলিয়ে দিল্লির প্রাণকেন্দ্রে প্রতিবাদের আবহ তৈরি করলেন তারা। 

বৃহস্পতিবার দিল্লিতে কংগ্রেসের সদর দফতরে সংবাদ সম্মেলন করে ভারতের নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) ‘ভোট চোর’ উপাধি দেন রাহুল। বলেন, ইসি যদি ভোট চুরি না করত, ২০২৪ সালের নির্বাচনের পর নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী হতে পারতেন না। ৭০-৮০ আসনে ভোট চুরি হয়েছে। ১০-১৫টি আসনেও যদি ভোট চুরি না হলে প্রধানমন্ত্রী হতে পারতেন না নরেন্দ্র মোদি। সেই একই সুর এবার মোদিবিরোধী ইন্ডিয়া জোটের প্রভাবশালী শরিক পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন দল তৃণমূলেও।

তাদের অভিযোগ, মহারাষ্ট্র-কর্ণাটকের মতো বিহার ও পশ্চিমবঙ্গসহ বেশকিছু রাজ্যে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এসআইআর চালু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি ইতোমধ্যেই সতর্ক করে বলেছেন, ‘এটি ভোটারদের সাংবিধানিক অধিকার হরণ করার ষড়যন্ত্র।’ আরও পড়ুন

দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ অভিষেক ব্যানার্জি এদিন বিক্ষোভ মঞ্চে দাঁড়িয়ে নির্বাচন কমিশনকে কটাক্ষ করে বলেন, ‘ইসি নির্লজ্জভাবে গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিচ্ছে। আমরা রাস্তায় এবং সংসদে, দুই জায়গাতেই লড়ব।’ 

রাজ্যসভার সাংসদ সুস্মিতা দেব এসআইআরকে ‘ভোট ফিক্সিং’ ভরীরহম-এর সঙ্গে তুলনা করে জানান, ‘এটি ফেয়ার ইলেকশন নিশ্চিত করার পরিবর্তে নির্বাচনি প্রক্রিয়াকে কলুষিত করবে।’

অন্যদিকে বিজেপির পালটা দাবি, তৃণমূল অবৈধ ভোটারদের রক্ষা করতেই এসআইআরের বিরোধিতা করছে। রাজ্য বিজিপির মুখপাত্র সমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘ঝওজ হলো প্রকৃত ভারতীয়দের ভোটের অধিকার সুরক্ষিত রাখার প্রক্রিয়া। অবৈধ ভোটারদের বাদ দেওয়া হবে, এটাই তৃণমূলের আতঙ্ক।’ 

এছাড়া আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা দাবি করেছেন, ভোটার তালিকায় ‘বাংলাদেশির নাম’ থাকার প্রমাণ রয়েছে, তাই ঝওজ প্রয়োজনীয়।

তৃণমূল স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এই লড়াই তারা শুধু দিল্লির মাটিতেই নয়, বাংলার রাস্তাতেও চালিয়ে যাবে। রাজনৈতিক মহলে মনে করা হচ্ছে, এই বিতর্ক আসন্ন নির্বাচনের আগে কেন্দ্রবিরোধী শক্তিকে আরও চাঙ্গা করবে। তবে নির্বাচন কমিশন এখনও পর্যন্ত বিরোধীদের অভিযোগের সরাসরি জবাব দেয়নি। দিল্লি থেকে আসা রাজনৈতিক তাপমাত্রা আজ কলকাতার রাজপথেও ছড়িয়ে পড়েছে ঝওজ ইস্যুতে দেশজুড়ে ভোটের রাজনীতি নতুন মোড় নিয়েছে।

LEAVE A REPLY