পাকিস্তানে চলতি বছর ভয়াবহ তাপপ্রবাহের আশঙ্কা করছে দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এনডিএমএ)। সংস্থাটি সতর্ক করে জানিয়েছে, মে ও জুন মাসে দেশের কিছু এলাকায় তাপমাত্রা প্রায় ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
এনডিএমএ ইতোমধ্যে তাপপ্রবাহ নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে। পাশাপাশি এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় প্রশাসনকে প্রস্তুত করতে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও শুরু হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ বলছে, মে মাসের শুরুতে যে তীব্র গরম অনুভূত হয়েছে, সেটি ছিল আসন্ন পরিস্থিতির প্রাথমিক ইঙ্গিত। সামনের সপ্তাহগুলোতে আরও শক্তিশালী তাপপ্রবাহ হতে পারে।
এনডিএমএর তথ্য অনুযায়ী, সিন্ধুর উত্তরাঞ্চল, দক্ষিণ পাঞ্জাব এবং বেলুচিস্তানের কিছু এলাকা সবচেয়ে বেশি গরমের ঝুঁকিতে রয়েছে। এছাড়া রাজধানী ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিন্ডিতেও তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।
সংস্থাটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত বছরের তুলনায় এ বছরের গরম আরো বেশি তীব্র হতে পারে। তাই আগেভাগেই প্রস্তুতি নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
এনডিএমএর প্রতিনিধি জাহরা হাসান বলেন, মধ্য পাঞ্জাব, দক্ষিণ পাঞ্জাব, বেলুচিস্তানের কিছু অংশ এবং সিন্ধুর উত্তরাঞ্চলে তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যেতে পারে। তিনি জানান, রাজধানী অঞ্চলেও তাপপ্রবাহের প্রভাব স্পষ্টভাবে দেখা যেতে পারে।
অন্যদিকে এনডিএমএর আরেক প্রতিনিধি হুদা কামাল বলেন, পাঞ্জগুর, করাচি, মিঠি ও থারপারকারসহ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে স্থানীয় প্রশাসন ও সাধারণ মানুষকে তাপপ্রবাহ মোকাবিলার প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই সতর্কতার মূল উদ্দেশ্য হলো সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে আগে থেকেই প্রস্তুত হতে সহায়তা করা। বিশেষ করে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা, পানি সরবরাহ, জননিরাপত্তা ও উদ্ধার কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রস্তুত রাখা হচ্ছে।
এনডিএমএ আরো বলেছে, তীব্র গরমে মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে সচেতনতামূলক প্রচার বাড়ানো জরুরি। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিদের জন্য বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।
এদিকে পাকিস্তানের আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, দেশটির কিছু এলাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। ইসলামাবাদে আংশিক মেঘলা আকাশ থাকতে পারে এবং বৃষ্টি হতে পারে।
খাইবার পাখতুনখোয়ার পেশোয়ার, মারদান, দির, চিত্রাল, মালাকান্দ, সোয়াত, কালাম, কোহাটসহ বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ। কিছু পাহাড়ি এলাকায় শিলাবৃষ্টির আশঙ্কাও রয়েছে।
এ ছাড়া হারিপুর, মানসেহরা, চারসাদ্দা, সোয়াবি ও বাজাউর এলাকাতেও আবহাওয়ার পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। এসব অঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
অন্যদিকে পাঞ্জাবের বেশির ভাগ এলাকায় গরম ও শুষ্ক আবহাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে। তবে মুরি, গালিয়াত, রাওয়ালপিন্ডি, আটক ও ঝেলমে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। লাহোর, ফয়সালাবাদ, গুজরানওয়ালা ও শিয়ালকোটেও বৃষ্টি হতে পারে।
সিন্ধুর বেশির ভাগ জেলায় তীব্র গরম অব্যাহত থাকতে পারে। আবহাওয়া বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, করাচিতে তাপমাত্রা ৩৪ থেকে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকতে পারে।
এ ছাড়া বেলুচিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলেও প্রচণ্ড গরম থাকার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে পাকিস্তান আবহাওয়া বিভাগ।










































