আমিনুলের কাছে ক্রিকেটারদের চাওয়া

ছবি : বিসিবি

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি হিসেবে তিন মাস মেয়াদ পূর্ণ হয়নি আমিনুল ইসলামের। এর মধ্যে বেশ কিছু প্রকল্প হাতে নিয়েছেন বাংলাদেশ দলের সাবেক এই অধিনায়ক। নিয়ম করে ক্রিকেটসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনার অংশ হিসেবে গতকাল জাতীয় দলের সদস্যদের সঙ্গে বসেন তিনি। রাজধানীর একটি পাঁচতারা হোটেলে এই আলোচনায় বেশ কিছু ইতিবাচক বিষয় উঠে এসেছে বলে জানান সেখানে উপস্থিত কয়েকজন ক্রিকেটার এবং বোর্ড পরিচালক।

 যেখানে ক্রিকেটাররা তাঁদের চাওয়া-পাওয়ার কথা তুলে ধরেন এবং এসবের উত্তর দেন সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রধানরা।

ছুটি কাটিয়ে সোমবার দেশে ফেরেন আমিনুল। গতকালের সাক্ষাতে ক্রিকেটারদের আটটি প্রশ্ন করেন তিনি। উইকেটের মান, অনুশীলনের সুযোগ-সুবিধাসহ একাধিক প্রশ্নে ১ থেকে ৫-এর মধ্যে নাম্বার দিতে হয়েছে ক্রিকেটারদের।

তার ওপর ভিত্তি করে গতকাল একটি পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন আমিনুল। সেখানে বাংলাদেশ ক্রিকেটের এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনার পথে বাধা এবং এর সমাধান তুলে ধরেন তিনি। এই কর্মশালা শেষে সংবাদমাধ্যমকে সেটাই শোনালেন আমিনুল, ‘খেলোয়াড়রা মাঠে খেলে কিন্তু আমরা তাদের কতটুকু সাহায্য করছি? এখানে কতটা ফাঁকফোকর আছে এবং ওই ফাঁকফোকর কবে, কিভাবে পূরণ করব, যাতে আমাদের খেলোয়াড়রা নিশ্চিন্তে ভালো মাঠে খেলতে পারে, সেসব নিয়ে কথা হয়েছে।’

আমিনুল একাই বলেননি, ক্রিকেটার এবং কোচরাও নিজেদের সুবিধা-অসুবিধা তুলে ধরেন।

 সে প্রসঙ্গ টেনে আমিনুল আরো বললেন, ‘আনন্দের ব্যাপার হচ্ছে, আমাদের যে এজেন্ডা ছিল, খেলোয়াড়রা সেটার বাইরে গিয়েও লাফিয়ে লাফিয়ে এসে তারা মাইক হাতে নিয়ে কথা বলেছে, তাদের মনের কথাগুলো প্রকাশ করেছে।’ এই কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন এমন একজন পরিচালক জানান, মিরপুরের উইকেট নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন ক্রিকেটাররা। এমনকি ইনডোরের আউটারে সন্ধ্যায় অনুশীলনের জন্য পর্যাপ্ত আলো পাওয়া যায় না বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।

ক্রিকেটারদের অভিযোগ ছিল ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগের (ডিপিএল) ভেন্যু নিয়েও। তীব্র যানজট ঠেলে ঢাকা থেকে সাভারের বিকেএসপিতে গিয়ে পঞ্চাশ ওভারের ম্যাচ খেলে আবার রাতে ফিরে কতটা ক্লান্ত হয়ে যান, সেসব নিয়েও কথা বলেছেন তাসকিন আহমেদ, নাজমুল হোসেনরা।

ক্রিকেটারদের দাবির মধ্যে অন্যতম ছিল বিসিবির চিকিৎসা বিভাগের লোকবল বাড়ানোর। খেলোয়াড়রা চোট কাটিয়ে উঠে পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার জন্য বোর্ড থেকে যথেষ্ট সহায়তা পান না বলেই জানান। এমন অভিযোগের পর বিসিবির সংশ্লিষ্ট বিভাগের চেয়ারম্যান সমাধানের আশ্বাস দেন ক্রিকেটারদের।

গতকাল আরো একটি কর্মশালায় অংশ নেন লিটন দাস, মুস্তাফিজুর রহমানরা। আপাতত এক দিনের জন্য ঢাকায় আসা আইসিসির দুর্নীতিবিরোধী বিভাগের সাবেক প্রধান অ্যালেক্স মার্শালের সঙ্গে বসেন তাঁরা। সেখানে ক্রিকেটকে দুর্নীতিমুক্ত রাখতে সব ধরনের সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দেন ক্রিকেটাররা। সেখান থেকে বের হয়ে অ্যালেক্স বললেন, ‘যেকোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগেই বড় হুমকি হচ্ছে যখন তাতে দুর্বলতা দেখা যায়। ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ পেশাদারভাবে না চললে কিংবা যথেষ্ট নিরাপত্তাবেষ্টিত না হলে দুর্নীতিবাজরা লক্ষ্য বানাবেই। আমাদের নিশ্চিত করতে হবে বিপিএলের যেন এমন ভাবমূর্তি না থাকে।’

এদিকে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের সর্বশেষ মৌসুমের স্পট ফিক্সিং তদন্তের প্রসঙ্গে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম স্বাধীন তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের অপেক্ষায় আছেন বলে মন্তব্য করেন, ‘আমাদের কাছে এখন পর্যন্ত প্রতিবেদন আসেনি। আসার পরে আমরা সিদ্ধান্ত নেব। আমি শতভাগ নিশ্চিত, অ্যালেক্স মার্শালকে সঙ্গে নিয়ে আমাদের খেলাটাকে রক্ষা করতে পারব।’

LEAVE A REPLY