কুর্দি যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে সিরিয়াকে সহায়তায় আগ্রহী তুরস্ক

সিরিয়ার কামিশলিতে কুর্দিশ পিপলস প্রোটেকশন ইউনিট (ওয়াইপিজি) এবং উইমেনস প্রোটেকশন ইউনিট (ওয়াইপিজে) এর পতাকা চিত্রিত দেয়ালের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে একটি ছেলে। ফাইল ছবি : রয়টার্স

তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার বলেছেন, দামেস্ক সহায়তা চাইলে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর আলেপ্পোতে কুর্দি যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সিরিয়াকে ‘সহায়তা’ দিতে তুরস্কের সেনাবাহিনী প্রস্তুত।

চলতি সপ্তাহে সিরীয় সরকারি বাহিনী এবং কুর্দিপ্রধান সিরিয়ান ডিফেন্স ফোর্সেস (এসডিএফ)-এর মধ্যে প্রাণঘাতী সংঘর্ষ শুরু হয়। বছরের শেষ নাগাদ কুর্দি যোদ্ধাদের দামেস্কের মূল সামরিক বাহিনীতে একীভূত করার সময়সীমা নিয়ে দুই পক্ষ সমঝোতায় পৌঁছতে ব্যর্থ হওয়ার পর এই সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওই কর্মকর্তা সাংবাদিকদের বলেন, ‘তুরস্ক সন্ত্রাসী সংগঠনের বিরুদ্ধে সিরিয়ার লড়াইকে সমর্থন করে,’ এবং জানান যে আংকারা উত্তরের পরিস্থিতি ‘গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে’।

তিনি বলেন, ‘সিরিয়া যদি সহায়তা চায়, তুরস্ক প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে,’—দামেস্কের নতুন ইসলামপন্থী সরকারের মিত্রদের সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে আংকারার দীর্ঘদিনের প্রস্তাবের পুনরাবৃত্তি করে।

উত্তর-পূর্ব সিরিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণকারী কুর্দি এসডিএফের প্রতি তুরস্ক দীর্ঘদিন ধরেই বৈরী। আংকারা এই বাহিনীকে নিষিদ্ধ ঘোষিত কুর্দি সশস্ত্র সংগঠন পিকেকের সম্প্রসারণ হিসেবে দেখে এবং দক্ষিণ সীমান্তে একে বড় হুমকি মনে করে।

তুরস্ক বারবার ২০২৫ সালের মার্চে হওয়া একটি চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য চাপ দিয়ে এসেছে, যার আওতায় কুর্দিদের আধা-স্বশাসিত প্রশাসন ও সামরিক কাঠামোকে সিরিয়ার সামরিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় একীভূত করার কথা রয়েছে।

বুধবার সংঘর্ষের পর সিরীয় সামরিক বাহিনী আলেপ্পোর দুটি এলাকায় গোলাবর্ষণ শুরু করে এবং সব কুর্দি যোদ্ধাকে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেয়। এসব সংঘর্ষে হাজার হাজার বেসামরিক মানুষ ঘরছাড়া হয়েছে।

তুরস্কের সংসদের স্পিকার নুমান কুরতুলমুশ বলেন, সংঘর্ষের অবসানে তুরস্ক সহায়তা করতে চায়।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হলো আলেপ্পোতে বর্তমানে যে ধরনের সংঘর্ষ দেখা যাচ্ছে, তার অবিলম্বে অবসান ঘটানো… এবং সিরিয়ার জনগণের চাহিদা পূরণে সক্ষম একটি প্রকৃত বহুত্ববাদী, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা দ্রুত প্রতিষ্ঠা করা।

এ জন্য প্রয়োজনীয় সব সহায়তা দিতে তুরস্ক প্রস্তুত।’

তিনি দামেস্ক ও এসডিএফের চলমান বিরোধে ইসরায়েলের কোনো সম্পৃক্ততার বিরুদ্ধেও সতর্ক করেন। তুরস্কের কর্মকর্তারা প্রায়ই আশঙ্কা প্রকাশ করেন, ইসরায়েল এই অস্থিরতাকে নিজেদের স্বার্থে কাজে লাগাতে পারে।

ইসরায়েল বৃহস্পতিবার আলেপ্পোতে ‘কুর্দি সংখ্যালঘুর বিরুদ্ধে’ দামেস্কের অভিযানকে নিন্দা জানিয়ে একে ‘গুরুতর ও বিপজ্জনক’ বলে বর্ণনা করে এবং এতে সিরিয়ার সংখ্যালঘুদের ওপর প্রভাব পড়তে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করে।

কুরতুলমুশ বলেন, ‘আমি খুব স্পষ্ট করে বলতে চাই, ইসরায়েল সিরিয়ার সুন্নি আরবদের ভালোবাসে না, ইসরায়েল সিরিয়ার কুর্দিদেরও ভালোবাসে না।

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা জানি, এই অঞ্চলের কিছু দেশের মৌলিক লক্ষ্য হলো অঞ্চলটিকে আরো খণ্ডিত ও বিভক্ত করা, মানুষকে জাতিগত, ধর্মীয় ও সাম্প্রদায়িক ভিত্তিতে একে অপরের বিরুদ্ধে দাঁড় করানো, এমনকি তাদের শত্রুতে পরিণত করা।’

LEAVE A REPLY