ভারতীয় দর্শকদের চুপ করাতে চান স্যান্টনার

নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার।

আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ফাইনালে স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে মাঠে নেমে আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামের গ্যালারি স্তব্ধ করে দিতে চান নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার। 

এক লাখেরও বেশি দর্শক ধারণক্ষমতার আইকনিক এই ভেন্যুতেই ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যেখানে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্সের দল ভারতের বিপক্ষে ছয় উইকেটের জয় তুলে নিয়ে শিরোপা জিতেছিল। সেই ম্যাচে নীল জার্সির সমুদ্রকে নীরব করে দিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। এবার সেই পথেই হাঁটতে চান স্যান্টনার।

শনিবার ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে স্যান্টনার স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ভারতের বিপক্ষে ফাইনালে তার দলের অন্যতম লক্ষ্যই হবে গ্যালারিতে থাকা হাজারো ভারতীয় সমর্থককে নীরব করে দেওয়া।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) কোনো টুর্নামেন্টে দ্বিতীয়বারের মতো নিউজিল্যান্ডকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন স্যান্টনার। এর আগে ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ফাইনালেও তিনি দলকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, যদিও সেখানে ভারতের কাছে হেরে রানার্সআপ হয়েছিল কিউইরা।

সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দাপুটে জয় পেয়েই ফাইনালে জায়গা করে নেয় নিউজিল্যান্ড।

নয় উইকেটের সেই জয়ের আগে পর্যন্ত টুর্নামেন্টে অপরাজিত ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা।

তবে নিউজিল্যান্ডের যাত্রা খুব মসৃণ ছিল না। গ্রুপ পর্বে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে এবং সুপার এইটে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হেরে গিয়েছিল তারা। তবু টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের অনিশ্চয়তার কথা উল্লেখ করে স্যান্টনার বিশ্বাস করেন, তার দল আবারও বড় কোনো দলকে চমকে দিতে পারে।

স্যান্টনার বলেন, ‘টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট কখনো কখনো খুব অনিশ্চিত। আমরা দেখেছি দক্ষিণ আফ্রিকা পুরো টুর্নামেন্টে দারুণ খেলছিল, কিন্তু আমাদের বিপক্ষে ছোট একটি ভুলেই তারা ছিটকে গেছে। তাই আমরা সেই ম্যাচ থেকে আত্মবিশ্বাস নিচ্ছি। যদি একইভাবে খেলতে পারি, তাহলে আরেকটি বড় দলকেও চমকে দেওয়া সম্ভব।’

গত ১১ বছরে আইসিসি টুর্নামেন্টে পাঁচটি ফাইনাল খেলেছে নিউজিল্যান্ড, কিন্তু একবারও শিরোপা জিততে পারেনি তারা।

পুরুষদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে তাদের একমাত্র উপস্থিতি ছিল ২০২১ সালে, যেখানে অস্ট্রেলিয়ার কাছে আট উইকেটে হেরে গিয়েছিল কিউইরা।

এবার ভারতের বিপক্ষে ফাইনালটি নিউজিল্যান্ডের জন্য সেই শিরোপা খরা কাটানোর বড় সুযোগ। স্যান্টনার স্বীকার করেছেন, এই ম্যাচে তার দল ফেভারিট নয়, কিন্তু ট্রফি জিততে হলে কিছু হৃদয় ভাঙতেও তিনি প্রস্তুত।

তিনি বলেন, ‘আমি অবশ্যই একটি ট্রফি জিততে চাই। সবাই জানে আমরা হয়তো ফেভারিট নই। কিন্তু একবারের জন্য হলেও ট্রফি জিততে কিছু হৃদয় ভাঙতে আপত্তি নেই।’

অন্যদিকে, এই ম্যাচে জিতলে ভারতের সামনে তৈরি হবে একাধিক নতুন ইতিহাস। ইতিমধ্যে দুটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শিরোপা জেতা ভারত তৃতীয়বার ট্রফি জিতলে হবে টুর্নামেন্টের ইতিহাসে প্রথম দল। বর্তমানে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ডের শিরোপা দুটি করে।

এ ছাড়া ভারত যদি জেতে, তাহলে প্রথম দল হিসেবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা ধরে রাখার কৃতিত্বও পাবে তারা। পাশাপাশি নিজেদের মাঠে ট্রফি জেতার নজিরও গড়বে।

স্যান্টনার মনে করেন, এসব প্রত্যাশা ভারতের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে।

তিনি বলেন, ‘এই ধরনের প্রত্যাশা অবশ্যই অনেক বাড়তি চাপ নিয়ে আসে। আমরা যদি মাঠে গিয়ে সেই চাপটা আরো বাড়াতে পারি, তাহলে কী হয় দেখা যাবে।’

LEAVE A REPLY