চোটের কারণে বিশ্বকাপে খেলতে যাওয়া ভেস্তে যেতে পারে ইয়ামাল-মদরিচ-এমবাপ্পের। ছবি : কালের কণ্ঠ গ্রাফিক্স
দরজায় কড়া নাড়ছে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ। বিশ্বমঞ্চে নিজেদের পায়ের জাদু দেখাতে মুখিয়ে আছেন সবাই। তবে অনেকের বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন শুরুর আগেই চুরমার হয়েছে। চোটের কাছে হার মানতে হয়েছে রদ্রিগো, হুগো একিতিকে সার্জ ন্যাব্রি ও জাভি সিমন্সদের।
দল ঘোষণা শুরু না হলেও এসব তারকার দলে থাকা অনেকটা নিশ্চিতই ছিল।
তালিকাটা আরো দীর্ঘ হতে পারে। তাতে যুক্ত হতে পারে বিশ্ব ফুটবলের বড় নামগুলো। যাদেরকে কেন্দ্র করে খেলা সাজানোর পরিকল্পনা করছেন নেপথ্যের নায়ক নামে পরিচিত কোচরা।
চলুন দেখে নেওয়া যাক ঝুঁকিতে থাকা সেই সব তারকাদের নাম—
লামিনে ইয়ামাল ও মিকেল মেরিনো (স্পেন)
ফুটবল তো সবাই খেলেন তবে কজনই পারেন দর্শক-সমর্থকদের বিমোহিত করতে। বর্তমানে যে কজন জাদুকরী ফুটবলার আছেন তাদের মধ্যে অন্যতম একজন লামিনে ইয়ামাল। যিনি কৈশোর না পেরোতেই তারকা বনে গেছেন। অপেক্ষায় আছেন নিজের প্রথম বিশ্বকাপে আরো দারুণ কিছু করতে।
কিন্তু বিধিবাম। হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটের কারণে মৌসুমের শেষটা খেলতে পারছেন না বার্সেলোনার হয়ে। এবার স্পেনের হয়ে বিশ্বকাপে যেতে পারবেন কিনা ১৮ বছর বয়সী উইঙ্গার তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে পায়ে চোট বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন কেড়ে নিতে পারে মিকেল মেরিনোর।
কিলিয়ান এমবাপ্পে (ফ্রান্স)
২০১৮ বিশ্বকাপেই আলো কেড়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে।
৪ গোল করে বিশ্বকাপের সেরা তরুণ খেলোয়াড়ের পুরস্কার জেতেন তিনি। ভাগ্য সহায় থাকলে গেল বিশ্বকাপেও চ্যাম্পিয়ন হতে পারতেন তিনি। এবারের বিশ্বকাপেও তারকাখচিত ফ্রান্সের কেন্দ্রীয় মুখ তিনি। কিন্তু মাঠে থাকতে পারবেন কিনা শঙ্কা রয়েছে। হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে ভুগছেন তিনি। তবে বিশ্বকাপ শুরুর আগেই রিয়াল মাদ্রিদের স্ট্রাইকারের সুস্থ হওয়ার কথা রয়েছে।
লুকা মদরিচ (ক্রোয়েশিয়া)
বসনিয়া যুদ্ধ দেখে বড় হয়েছেন লুকা মদরিচ। ক্রোয়েশিয়ার স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তার বয়স ছিল ৭ বছর। যোদ্ধা হওয়ার তালিমটা তাই শৈশবেই পেয়েছেন মিডফিল্ডার। তা না হলে ৪০ বছর বয়সেও খেলার মাঠ দাপিয়ে বেড়ানোর শক্তি পান কোথা থেকে। তার সমবয়সীরা যখন বুটজোড়া তুলে রেখে পরিবারকে সময় দিচ্ছে তখন তিনি হাঁটুর বয়সী ছেলেদের সঙ্গে মাঠে লড়ছেন। ২০১৮ বিশ্বকাপে তার নেতৃত্বেই প্রথমবারের মতো ফাইনাল খেলে ক্রোয়েশিয়া। গেল বিশ্বকাপেও ব্যালন ডি’অর জয়ীর অধীনে সেমিফাইনাল খেলে ক্রোয়েশিয়া। এবারও তাকে কেন্দ্র করেই হয়তো স্বপ্ন বুনছে ইউরোপীয় দলটি। তবে গতকাল এসি মিলানের মিডফিল্ডারের গালের ভেঙে যাওয়ায় ধাক্কা খেয়েছে ক্রোয়েশিয়া। ইতিমধ্যে অস্ত্রোপচারও করানো হয়েছে। তাকে নিয়ে শঙ্কাটা অবশ্য খুব বেশি নেই।
মোহাম্মদ সালাহ (মিসর)
সময়টা ভালো যাচ্ছে না মোহাম্মদ সালাহর। লিভারপুলের ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে নিজের বিপদ বাড়ান আরো। এমন কঠিন সময়েই আবার চোটে পড়েছেন তিনি। তাতে মিশরীয় রাজাকে বিশ্বকাপে দেখা যাবে কিনা তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে ভুগছেন তিনি।
আর্দা গুলের (তুরস্ক)
ছোট দলের বড় তারকা বলতে যা বোঝায়, তার অন্যতম উদাহরণ আর্দা গুলের। যাকে ‘তুর্কি মেসি’ বলে ডাকা হয়। দীর্ঘ ২৪ বছর পর আবারও বিশ্বকাপে সুযোগ পেয়েছে তুরস্ক। তাতে অন্যতম অবদান রেখেছেন রিয়াল মাদ্রিদের মিডফিল্ডার আর্দা গুলার। কিন্তু দলের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটালেও তাকে বিশ্বকাপে দেখা যাবে কিনা তা নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট তার প্রথম বিশ্বকাপ খেলার পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এদের মিলিতাও ও এস্তেভাও (ব্রাজিল)
অপেক্ষার প্রহর শেষ হচ্ছে না বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ ৫ বারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের। সর্বশেষ বিশ্বকাপ জয়ের বয়সটা যে ২৪ বছরে দাঁড়িয়েছে। ২০০২ বিশ্বকাপের পর তাই প্রতিবারই ‘হেক্সা’ পূরণের লক্ষ্যে নেমে হতাশ হয়েই মাঠ ছেড়েছে তারা। এবার ক্লাব পর্যায়ের অন্যতম সেরা কোচ কার্লো আনচেলত্তির অধীনে সেই অপেক্ষা ফুরাতে চায় সেলেসাওরা। কিন্তু বিশ্বমঞ্চে নামার আগেই একের পর এক সেনাকে হারানোর শঙ্কায় ব্রাজিল কোচ। রদ্রিগোর বিশ্বকাপ তো শেষই। তার সঙ্গী হতে পারেন এস্তেভাও এবং এদের মিলিতাও। দুজনই হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে মাঠের বাইরে আছেন।
ক্রিস্টিয়ান রোমেরো ও নিকো পাজ (আর্জেন্টিনা)
বিশ্বকাপ ধরে রাখার মিশনে নামবে আর্জেন্টিনা। তবে বিশ্বকাপ শুরুর আগেই কোচ লিওনেল স্কালোনিকে চোখ রাঙাচ্ছে শিষ্যদের চোট। গেল বিশ্বকাপে রক্ষণভাগ সামলানো ক্রিস্টিয়ানো রোমেরো আছেন হাঁটুর চোটে মাঠের বাইরে। অন্যদিকে কোমোর হয়ে মাঝমাঠ কাঁপানো নিকো পাজ মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়েছেন। দুজনকেই বিশ্বকাপে পাওয়া নিয়ে তাই শঙ্কা রয়ে গেছে।









































