দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে শিশুদের জন্য সামাজিক মাধ্যম নিষিদ্ধ করল ইন্দোনেশিয়া

সংগৃহীত ছবি

সাইবার বুলিং ও ইন্টারনেট আসক্তি রুখতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে ইন্দোনেশিয়া। শনিবার (২৮ মার্চ) থেকে দেশজুড়ে ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ইন্দোনেশিয়াই প্রথম এই কঠোর আইন বলবৎ করল।

দেশটিতে বর্তমানে ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুর সংখ্যা প্রায় সাত কোটি।

ক্রমবর্ধমান সাইবার বুলিং, পর্নোগ্রাফি, অনলাইন প্রতারণা ও স্ক্রিন অ্যাডিকশনের মতো বিষয়গুলো নিয়ে উদ্বেগ থেকেই সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ইন্দোনেশিয়া সরকার প্রাথমিকভাবে বেশ কিছু ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এই তালিকার মধ্যে রয়েছে—ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব, টিকটক, এক্স (সাবেক টুইটার), বিগো লাইভ ও রোবলক্স ও থ্রেডস।

নিষেধাজ্ঞা অনুযায়ী, এই প্ল্যাটফর্মগুলোকে অবশ্যই অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীদের প্রবেশাধিকার বন্ধ করতে হবে এবং তাদের বিদ্যমান অ্যাকাউন্টগুলো নিষ্ক্রিয় বা মুছে ফেলতে হবে।

ইন্দোনেশিয়ার যোগাযোগ ও ডিজিটাল বিষয়ক মন্ত্রী মেউত্যা হাফিদ গত শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আইন মানার ক্ষেত্রে কোনো আপস করা হবে না। ইন্দোনেশিয়ায় ব্যবসা করতে হলে বিদ্যমান নীতিমালা মেনেই করতে হবে।’

তিনি আরো জানান, এক্স, বিগো লাইভ, টিকটক ও রোবলক্স ইতিমধ্যে নীতিমালার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে কাজ শুরু করেছে। আইন অমান্যকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।

এর আগে গত বছরের ডিসেম্বরে অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করে। এরপর যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া, ডেনমার্ক, গ্রিস, স্পেন, আয়ারল্যান্ড এবং অস্ট্রিয়াও একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বিবেচনা করছে।

জাতিসংঘের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ইন্দোনেশিয়ার প্রায় অর্ধেক অপ্রাপ্তবয়স্ক অনলাইনে যৌন হয়রানি বা বুলিংয়ের শিকার হয়।

সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিপরীতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। পশ্চিম কালিমন্তান প্রদেশের ১৩ বছর বয়সী শিক্ষার্থী অ্যাবিগেল বলেন, ‘তথ্য খোঁজা বা বিনোদনের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া গুরুত্বপূর্ণ।

পুরোপুরি নিষিদ্ধ না করে বয়স অনুযায়ী নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা রাখা ভালো ছিল।’

অন্যদিকে, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ইন্দোনেশিয়ার নির্বাহী পরিচালক উসমান হামিদ এই সিদ্ধান্তকে ‘জটিল সমস্যার অতি সরল সমাধান’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি মনে করেন, শিশুদের ডিজিটাল জগৎ থেকে বিচ্ছিন্ন না করে বরং সেই জগৎকে নিরাপদ করার দিকে নজর দেওয়া উচিত।

অনেক অভিভাবকও এই আইনের কার্যকারিতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। ৩২ বছর বয়সি মা ফ্রান্সিসকা আঞ্জেলিনা বলেন, ‘সরকারের নিষেধাজ্ঞার চেয়েও বাড়িতে মা-বাবার নজরদারি এবং স্বাস্থ্যকর ইন্টারনেট ব্যবহারের শিক্ষা দেওয়া বেশি জরুরি।’

LEAVE A REPLY