হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের জন্য ইরানকে কোনো ধরনের টোল বা ফি প্রদান করলে সংশ্লিষ্ট জাহাজ কোম্পানিগুলো কঠোর নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়বে বলে হুমকি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
শুক্রবার (১ মে) মার্কিন প্রশাসন এই বিশেষ সতর্কতা জারি করে। খবর আলজাজিরার।
বর্তমানে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধ তৃতীয় সপ্তাহে গড়িয়েছে। এর মধ্যেই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতি আলোচনা স্থবির হয়ে পড়েছে। নিজ দেশের বন্দরগুলোর ওপর এই অবরোধকে ‘অসহনীয়’ বলে অভিহিত করেছেন ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল হামলা শুরু করার পর থেকেই এই জলপথের নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বাড়ে। মূলত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার সক্ষমতাকে ইরান একটি বড় কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়েই পরিবহণ করা হয়।
যুদ্ধ বন্ধের বিভিন্ন প্রস্তাবে ইরান ইতিপূর্বে তাদের জলসীমা দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজের ওপর ফি বা টোল আরোপের দাবি জানিয়ে আসছিল। তবে ওয়াশিংটন বারবারই এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে দিয়েছে।
মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের বৈদেশিক সম্পদ নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক দপ্তর (ওএফএসি) জানিয়েছে, ইরান বিভিন্ন উপায়ে জাহাজ কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করতে পারে। এর মধ্যে প্রচলিত মুদ্রা, ডিজিটাল কারেন্সি বা অনানুষ্ঠানিক বিনিময় প্রথাও থাকতে পারে।
সতর্কবার্তায় আরও বলা হয়, এই অর্থ আদায়ের প্রক্রিয়াকে যদি ‘দাতব্য অনুদান’ হিসেবেও দেখানো হয়, তবুও রেহাই মিলবে না। বিশেষ করে ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, বোনিয়াদ মোস্তাজাফান বা ইরানি দূতাবাসের অ্যাকাউন্টে কোনো অর্থ জমা দেওয়া হলে তা সরাসরি নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে।
ওএফএসি স্পষ্ট করে জানিয়েছে, নিরাপদ চলাচলের নিশ্চয়তা পেতে ইরান সরকারকে যে কোনো পদ্ধতিতে অর্থ প্রদান করা হলে মার্কিন ও যুক্তরাষ্ট্রের বাহিরে উভয় ধরনের ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপিত হবে। লেনদেনের ধরন যাই হোক না কেন, এই ঝুঁকি সবার জন্যই কার্যকর থাকবে।










































