সংগৃহীত ছবি
ইসলামাবাদে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পেছনে ওয়াশিংটনের অতিরিক্ত শর্তকে দায়ী করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। খবর বিবিসির।
রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে পৌঁছে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। এর আগে ইসলামাবাদে মধ্যস্থতাকারীদের উপস্থিতিতে আলোচনা শেষ করে ইরানের প্রতিনিধিদল।
আরাগচির ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত দাবি এবং কঠোর অবস্থানের কারণে আলোচনা কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জনে ব্যর্থ হয়।
তার টেলিগ্রাম চ্যানেলে প্রকাশিত একটি ফারসি সাক্ষাৎকারে দেখা যায়, সেন্ট পিটার্সবার্গে পৌঁছে তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিয়ে রাশিয়ার মিত্রদের সঙ্গে আলোচনা করবেন।
তিনি আরো জানান, কোন কোন শর্তসাপেক্ষে আলোচনা অব্যাহত থাকতে পারে সেটি নিয়েও কথা হয়েছে।
এদিকে ইরানের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি প্রসঙ্গেও কথা বলেন আরাগচি।
তিনি বলেন, এই জলপথে নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত করা একটি বৈশ্বিক ইস্যু।
এ প্রেক্ষাপটে ওমানসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতি পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষায় ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
আরাগচি আরো উল্লেখ করেন, ইরান ও ওমানের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে মিল রয়েছে এবং হরমুজ প্রণালি ঘিরে ভবিষ্যৎ সহযোগিতা বাড়াতে দুই দেশের মধ্যে পরবর্তী আলোচনার বিষয়ে একটি চুক্তিও হয়েছে।
এদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক এখন এক ধরনের অচলাবস্থায় আটকে আছে বলে জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়া ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষক এমা শর্টিস।
তার মতে, সাম্প্রতিক কিছু ঘটনায় পরিস্থিতি আরো অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সপ্তাহান্তে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার দূতদের পাকিস্তান সফর বাতিল করায় কূটনৈতিক অগ্রগতি থেমে গেছে।
তিনি বলেন, সামনে কী হতে পারে, তা বলা খুব কঠিন। পুরো পরিস্থিতিই অস্থির, আর সংশ্লিষ্ট নেতাদের সিদ্ধান্ত যেকোনো সময় বদলে যেতে পারে।
তবে এই অচলাবস্থার মধ্যেও সম্ভাবনার দরজা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলে মনে করেন তিনি।
ট্রাম্পের পক্ষ থেকে একটি নতুন প্রস্তাবের কথাও উঠে এসেছে, যাকে তিনি ‘অনেক ভালো পরিকল্পনা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
একই সঙ্গে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ইস্যুতে কিছুটা নমনীয়তার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।
তবে সব কিছুই এখনো অনিশ্চয়তায় ঘেরা এমন সতর্কবার্তাও দিয়েছেন শর্টিস। তার মতে, নেতারা মূলত নিজেদের স্বার্থকে সামনে রাখছেন, ফলে যেকোনো সময় পরিস্থিতি নতুন দিকে মোড় নিতে পারে।










































