সংগৃহীত ছবি
২০২৪ সালে একটি ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে সমর্থ সিং নামের এক আইনজীবীর সঙ্গে পরিচয় হয় টুইশা শর্মার। এরপর ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে পারিবারিকভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তারা।কিন্তু বিয়ের পাঁচ মাসের মাথায় ৩৩ বছর বয়সী ভারতীয় ওই তরুণীর রহস্যজনকভাবে ‘মৃত্যু’ হয়েছে। মৃত্যুর ঠিক আগে টুইশার কিছু মর্মস্পর্শী চ্যাট ও মেসেজ প্রকাশ্যে এসেছে, যা তার চরম মানসিক যন্ত্রণা, বিষণ্ণতা এবং শ্বশুরবাড়িতে ‘ফেঁসে যাওয়ার’ প্রমাণ দিচ্ছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, গত ১২ মে ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম রাজ্য ভোপালের কাটারা হিলস এলাকায় স্বামী সমর্থ সিংহের বাড়ি থেকে টুইশার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। অথচ এর ঠিক তিন দিন পর অর্থাৎ ১৫ মে তার বাবার বাড়ি নয়ডায় ফেরার কথা ছিল।
এ ঘটনায় স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন, এমনকি যৌতুকের জন্য হয়রানির অভিযোগ তুলেছে টুইশার পরিবার। প্রতিবেদনে টুইশার বাবা নবনিধি শর্মা বলেন, ‘সবকিছু ভুল হয়ে গেছে। তাকে প্রতিনিয়ত নির্যাতন করছিল শ্বশুরবাড়ির লোকজন।’
টুইশা ও তার মায়ের মধ্যে হওয়া হোয়াটসঅ্যাপ বার্তায় দেখা গেছে, টুইশা নিজেকে অসুখী দাম্পত্যে ‘ফেঁসে গেছে’ অনুভব করতেন।একই সঙ্গে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের দ্বারা মানসিক নির্যাতন ও যৌতুক নিয়ে হয়রানির শিকার হতেন।
গত ৭ মে পাঠানো এক বার্তায় টুইশা লেখেন, ‘দয়া করে আমাকে এখান থেকে নিয়ে যাও।’ তবে এসব ঘটনার পর টুইশার মা রেখা শর্মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমি গভীরভাবে অনুতপ্ত। আরো আগে তাকে সেখান (শ্বশুরবাড়ি) থেকে নিয়ে আসতে পারিনি।’
পরিবারের অভিযোগ, সমর্থ সিং প্রায়ই টুইশাকে অপমান করতেন এবং বাবার বাড়ি থেকে ফোন এলেও বিরক্ত হতেন।এ বিষয়ে টুইশার মা জানান, মেয়েকে ‘লাভ ইউ’ বা ‘মিস ইউ’ লিখে বার্তা পাঠালেও আপত্তি তুলতেন তার স্বামী সমর্থ।
তবে এসব ঘটনায় অভিযুক্ত সমর্থ সিং বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। তাকে আটকের জন্য তথ্যদাতাকে ১০ হাজার রুপি পুরস্কার ঘোষণা করেছে ভোপাল পুলিশ।
অন্যদিকে মামলার আরেক অভিযুক্ত সমর্থের মা ও অবসরপ্রাপ্ত বিচারক গিরিবালা সিং আগাম জামিন পেয়েছেন। তাদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, টুইশা মানসিক রোগী ও মাদকাসক্ত ছিলেন। তবে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেছে টুইশার পরিবার।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, বিয়ের পর নির্যাতনের কারণে টুইশার শারীরিক ও মানসিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটে। চাকরি হারানো ও গর্ভবতী হওয়ার পরও তার ওপর নির্যাতন আরো বেড়ে যায় বলেও অভিযোগ করেন তার চাচাতো বোন।
টুইশার ভাই হর্ষিত শর্মা বলেন, ‘আমরা ন্যায়বিচারের জন্য লড়াই চালিয়ে যাব।’
এনডিটিভি বলছে, টুইশা একজন এমবিএ গ্র্যাজুয়েট ছিলেন এবং বিয়ের আগে দিল্লিতে একটি করপোরেট সংস্থায় উচ্চপদে কর্মরত ছিলেন। বান্ধবীদের সঙ্গে হওয়া হোয়াটসঅ্যাপ ও ইনস্টাগ্রাম চ্যাটে তিনি বিয়ের পর নিজের জীবন নিয়ে তীব্র হতাশা এবং একাকীত্বের কথা প্রকাশ করেছিলেন।
মৃত্যুর মাত্র পাঁচ দিন আগে গত ৭ মে এক বান্ধবীর সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটে টুইশা লিখেছিলেন, ‘আমি সারাদিন ঘরে বসে থাকি, প্রচণ্ড উদ্বেগের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। জীবনে নিজের মতো কিছু করতে চাই।’
তিনি আরো লেখেন, ‘বিয়ে হয়তো একটা পরিবার দেয়, কিন্তু তুমি যেখানেই থাকো না কেন, নিজের জন্য কাজ করা বন্ধ করতে পারো না।’

বান্ধবীকে তড়িঘড়ি বিয়ে না করার পরামর্শ দিয়ে টুইশা হিন্দি ভাষায় সতর্ক করে লেখেন, ‘বিয়ের ভূত মাথায় চাপিয়ে হুট করে বিয়ে করিস না। খুব ভেবেচিন্তে পা বাড়াস। আপাতত শুধু এটুকুই বলব।’
বান্ধবী চিন্তিত হয়ে খোঁজ নিলে টুইশা জবাবে লিখেছিলেন, ‘আমি ঠিক আছি। আমার শুধু বাড়ির কথা খুব মনে পড়ে, তোর কথা মনে পড়ে।’
পরবর্তীতে ইনস্টাগ্রামের আরেকটি চ্যাটে টুইশার বার্তা ছিল আরো বেশি ভয়াবহ ও আতঙ্কগ্রস্ত। সেখানে তিনি অত্যন্ত অসহায়ত্ব প্রকাশ করে লিখেছিলেন, ‘আমি পুরোপুরি ফেঁসে গেছি ভাই। তুই শুধু ফাঁসিস না। এখন বেশি কথা বলতে পারব না, সময় সুযোগ বুঝে তোকে নিজেই ফোন করব।’
এই বার্তাগুলো প্রকাশ্যে আসার পর ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, তা নিয়ে নতুন করে উঠেছে প্রশ্ন। একই সঙ্গে ন্যায়বিচারের দাবিতে তার পরিবার মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের বাসভবনের সামনে তীব্র বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন।
টুইশার বাবা নবনিধি শর্মাসহ তার স্বজনরা গণমাধ্যমে জানিয়েছেন, ভোপালে পৌঁছানোর পর থেকেই তারা চরম হেনস্থার শিকার হচ্ছেন। একইসঙ্গে মামলা নথিভুক্ত করতে গড়িমসি করছে ভোপাল পুলিশ ।
তবে প্রাথমিক ময়নাতদন্তের রিপোর্টে মৃত্যুর কারণ হিসেবে ‘আত্মহত্যার’ কথা বলা হলেও টুইশার শরীরে একাধিক গভীর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। যা দেখে পরিবারের দাবি, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। নিহতের পরিবার এই মৃত্যুর ঘটনার নিরপেক্ষতার জন্য দিল্লির এইমস হাসপাতালে পুনরায় ময়নাতদন্ত করার জন্য কেন্দ্রের কাছে জোরালো দাবি জানিয়েছে।
এই ঘটনায় ভোপালের অবসরপ্রাপ্ত বিচারক গিরিবালা সিংহ এবং তার ছেলে তথা টুইশার স্বামী সমর্থ সিংহের বিরুদ্ধে যৌতুকের জন্য নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগ এনেছে নিহতের পরিবার। তবে অভিযুক্তরা প্রভাবশালী হওয়ায় স্থানীয় পুলিশ তদন্ত প্রভাবিত করতে পারে—এমন আশঙ্কার মুখে মামলাটি তদন্তের জন্য ইতিমধ্যে একটি বিশেষ তদন্ত দল (সিআইটি) গঠন করা হয়েছে।
ভারত সফরে আসছেন পুতিন
অনলাইন ডেস্কপ্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬ ১৮:৫৯ | আপডেট: মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬ ১৯:০০










































