পুতিনের চীন সফর ‘স্বাভাবিক’ মনে করছেন রুশরা

ছবি : রয়টার্স

চীন ও রাশিয়ার মধ্যে চলমান উচ্চপর্যায়ের বৈঠককে ঘিরে মস্কোয় ব্যাপক আলোচনা চলছে। দুই দেশই জানিয়েছে, জ্বালানি খাতসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সারাদিন আলোচনা হবে।এ কারণে রাশিয়ায় এই সফরের দিকে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী মহল—সবাই গভীরভাবে নজর রাখছেন।

বিশেষ করে চীনের সঙ্গে ব্যবসা করেন এমন অনেক ব্যবসায়ী নতুন কোনো চুক্তি, বিনিয়োগ বা গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণার অপেক্ষায় আছেন। তাদের আশা, এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরো শক্তিশালী হতে পারে।

রাশিয়ার সরকার দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছে, চীন এখন তাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত ও রাজনৈতিক মিত্র।ইউক্রেন যুদ্ধের পর পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্ক খারাপ হওয়ার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মস্কোর ঘনিষ্ঠ বন্ধু দেশের সংখ্যা অনেক কমে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে চীনকে রাশিয়া সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে দেখছে।

বর্তমানে রাশিয়ার অর্থনীতি নানা চাপে রয়েছে। দেশটিতে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে, অনেক পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।সরকারের বাজেটেও ঘাটতি দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন খাতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার খবরও বাড়ছে।

এই পরিস্থিতিতে অনেক রুশ নাগরিক মনে করছেন, চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরো জোরদার করা এখন রাশিয়ার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাদের মতে, এই সফরের মূল লক্ষ্যও হচ্ছে অর্থনীতি ও বাণিজ্যে নতুন সুযোগ তৈরি করা।

তবে সব মানুষ এই সফরকে বড় ধরনের কোনো পরিবর্তনের সূচনা হিসেবে দেখছেন না।অনেকের ধারণা, এটি দুই দেশের নিয়মিত কূটনৈতিক সম্পর্কেরই অংশ।

রাশিয়ার অনেক নাগরিক মনে করেন, যদি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির মধ্যে সরাসরি বৈঠক হতো, তাহলে সেটি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে আরো বেশি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হতো।

তবুও চীন সফরকে রাশিয়ারতে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। কারণ বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে চীনের সমর্থন রাশিয়ার জন্য অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক—দুই দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

LEAVE A REPLY