ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্যে বিশ্ববাজারে তেলের দরপতন

ছবি: রয়টার্স

ইরানের যুদ্ধ দ্রুত শেষ হতে পারে বলে আবারও মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এই বক্তব্যের পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কিছুটা কমে গেছে।একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য আলোচনার অগ্রগতির খবরেও বাজারে স্বস্তি ফিরেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম কমে যায় বুধবার। গ্রিনিচ সময় ভোর ৪টা ১০ মিনিট পর্যন্ত ব্রেন্ট ক্রুডের ফিউচারসের দাম ৮৮ সেন্ট বা প্রায় ০.৮ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১১০ দশমিক ৪০ ডলারে নেমে আসে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দামও কমেছে।এই তেলের ফিউচারসের দাম ৬৭ সেন্ট বা ০.৬ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১০৩ দশমিক ৪৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, ইরানকে ঘিরে রাজনৈতিক পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় তেলের দামে চাপ কমেছে। বিনিয়োগকারীরা এখন দেখার চেষ্টা করছেন, চলমান উত্তেজনা শেষ পর্যন্ত কোন দিকে যায় এবং কোনো সমঝোতা হয় কি না।

লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ গ্রুপের (এলএসইজি) জ্যেষ্ঠ তেল গবেষণা বিশ্লেষক এমরিল জামিল বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, সম্ভাব্য কোনো চুক্তির আশায় বাজারে দামের ওপর চাপ কিছুটা কমেছে।তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে সময় লাগতে পারে।

তার মতে, যুদ্ধ বা উত্তেজনা কমলেও তেলের সরবরাহ দ্রুত আগের অবস্থায় ফিরবে না। ফলে ভবিষ্যতে আবারও তেলের দাম বাড়তে পারে।

এর আগের দিনও আন্তর্জাতিক বাজারে দুই ধরনের অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ১ ডলার কমেছিল। তখনো বাজারে আলোচনার সম্ভাবনাকে ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছিল।

বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের এক বক্তব্যের পর বাজারে আশাবাদ তৈরি হয়। তিনি বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হয়েছে। এরপর থেকেই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ধারণা তৈরি হয় যে, পরিস্থিতি আরো খারাপের দিকে না গিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের দিকে যেতে পারে।

LEAVE A REPLY