ছবি : রয়টার্স
সৌদি আরব ট্রাম্প প্রশাসনকে এ বছরের হজ মৌসুম শেষ না হওয়া পর্যন্ত ইরানের বিরুদ্ধে কোনো বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ এড়িয়ে চলার জন্য অনুরোধ করেছে। পবিত্র হজ চলাকালীন এই ধরনের হামলা হলে যুক্তরাষ্ট্রের মারাত্মক ‘ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন’ করতে পারে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছে সৌদি আরব।
হজের মতো বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় সমাবেশ চলাকালীন নতুন করে সংঘাত শুরু হলে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের অস্থিতিশীলতা তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে আঞ্চলিক দেশগুলো।
বুধবার একাধিক প্রতিবেদনে বলা হয়, হজের সময় ১৫ লাখেরও বেশি তীর্থযাত্রীকে আতিথেয়তা দিবে সৌদি এবং সেই অনুসারে প্রস্তুতি চলছে, এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে পরিস্থিতি আরো জটিল না করার আহ্বান জানিয়েছে দেশটি।
সূত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য মিত্র দেশ এবং শীর্ষ কর্মকর্তারাও হজ মৌসুমে কোনো ধরনের সামরিক উত্তেজনা এড়াতে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর চাপ বাড়িয়েছেন। এ বছর হজ ২৪ মে শুরু হয়ে ছয় দিন চলার কথা রয়েছে।
সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতাদের সঙ্গে আলাদা আলাদাভাবে আলোচনা করেছেন।
এসব আলোচনায় উপসাগরীয় নেতারা ওয়াশিংটনকে সামরিক পদক্ষেপ বিলম্বিত করে কূটনৈতিক সমাধানের পথে থাকার আহ্বান জানান। তাদের আশঙ্কা, এ সময় নতুন করে হামলা শুরু হলে ইরান প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নিতে পারে, যা পুরো অঞ্চলকে ঝুঁকিতে ফেলবে। উপসাগরীয় দেশগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা একযোগে যুক্তরাষ্ট্রকে সংযম দেখানোর আহ্বান জানিয়েছে, বিশেষ করে হজ মৌসুমকে কেন্দ্র করে।
কর্মকর্তাদের মতে, এই সময়ে সামরিক উত্তেজনা তৈরি হলে তা শুধু নিরাপত্তা নয়, বিপুল সংখ্যক তীর্থযাত্রীর চলাচলেও বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি করতে পারে। এ ছাড়া সতর্ক করা হয়েছে, হজ ও ঈদুল আজহার মতো পবিত্র সময়ে কোনো হামলা মুসলিম বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের ভাবমূর্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সংবেদনশীল সময়ে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে সৌদি আরবের জন্য নিরাপত্তা, লজিস্টিকস ও তীর্থযাত্রী ব্যবস্থাপনা আরো জটিল হয়ে উঠবে।
বিশ্লেষকরা আরো সতর্ক করেছেন, নতুন করে সংঘাত শুরু হলে কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রধান বিমান চলাচল কেন্দ্রগুলো মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। এতে দক্ষিণ ও পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ আকাশপথও বিঘ্নিত হবে, যেখান থেকে বহু তীর্থযাত্রী হজের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন।
এদিকে প্রতিবেদনগুলো এমন সময়ে এসেছে যখন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের ইরান সফরের কথা রয়েছে। ইসলামাবাদ ইতোমধ্যে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে আর তেহরান সংঘাত নিরসনের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের একটি নতুন প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে বলে জানা গেছে।
এই সফর এমন এক প্রেক্ষাপটে হচ্ছে, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করেছেন যে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও পরিস্থিতি এখন ‘নিষ্পত্তির কাছাকাছি’ এবং একই সঙ্গে নতুন করে সামরিক পদক্ষেপের ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে।
এর আগে ৮ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া একটি যুদ্ধবিরতি এই বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা সংঘাত থামিয়েছিল। তবে সেই যুদ্ধবিরতির পরও এখন পর্যন্ত স্থায়ী কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।










































