ইরানের সঙ্গে সংঘাতের মধ্যে ইসরায়েলের ভেতরে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে শক্ত অবস্থান দেখা গেছে। দেশটির অনেক নাগরিক ও রাজনৈতিক মহলের ধারণা ছিল, সামরিক অভিযান আরো দীর্ঘ সময় ধরে চালানো উচিত।
ইরান থেকে রকেট হামলা শুরু হওয়ার পর পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানালেও ইসরায়েলের অনেকেই সেই আহ্বানে সাড়া দিতে আগ্রহী ছিলেন না।
বিশ্লেষকদের মতে, এর পেছনে শুধু নিরাপত্তা বা সামরিক কারণই নয়, রাজনৈতিক কারণও কাজ করেছে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্ব ও ভাবমূর্তি নিয়ে দেশে আলোচনা শুরু হয়।
সপ্তাহের শুরুতে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে হওয়া একটি ফোনালাপের তথ্য গণমাধ্যমে ফাঁস হওয়ার পর বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে। ইসরায়েলের অনেকের মধ্যে ধারণা তৈরি হয় যে, ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে সামরিক অভিযান সীমিত রাখতে বলেছেন। পাশাপাশি লেবাননের রাজধানী বৈরুতকে লক্ষ্য করে হামলা না চালানোরও পরামর্শ দিয়েছেন।
এই খবর প্রকাশের পর নেতানিয়াহুর ভাবমূর্তি কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।কারণ, দীর্ঘদিন ধরে তিনি নিজেকে একজন শক্ত অবস্থানের নেতা হিসেবে তুলে ধরেছেন। সমর্থকদের কাছে তিনি এমন একজন নেতা হিসেবে পরিচিত, যিনি ইসরায়েলের জাতীয় স্বার্থ রক্ষার প্রশ্নে প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও দ্বিমত পোষণ করতে পারেন।
কিন্তু সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে অনেকের কাছে এমন ধারণা তৈরি হয়েছে যে, নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে কিছু সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হচ্ছেন। বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি বা সামরিক পদক্ষেপ সীমিত করার বিষয়টি তার রাজনৈতিক অবস্থানকে দুর্বল করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে ইসরায়েলের একটি অংশের প্রত্যাশা ছিল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক আলোচনা ব্যর্থ করতে নেতানিয়াহু কোনো কৌশলগত পদক্ষেপ নেবেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলের জন্য এই পরিস্থিতি শুধু সামরিক নয়, রাজনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ। দেশটির অনেক নাগরিক চলমান সংঘাতকে ইসরায়েলের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনের অংশ হিসেবে দেখেন। তাদের মতে, ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা এবং দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর আরও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা ইসরায়েলের প্রধান লক্ষ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে।
তবে এর পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিও বড় ভূমিকা রাখছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন, জনসমর্থন ধরে রাখা এবং ক্ষমতায় টিকে থাকার প্রশ্নও নেতানিয়াহুর সিদ্ধান্তগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। ফলে বর্তমান সংঘাত শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয় নয়, বরং ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পর্কিত।











































