ছবি : রয়টার্স
জলবায়ু পরিবর্তনের তীব্র প্রভাবে ইউরোপজুড়ে ইতিহাসের ভয়াবহতম তাপপ্রবাহ শুরু হয়েছে। একের পর এক দেশে ভেঙে চলেছে তাপমাত্রা বৃদ্ধির সর্বকালের সব রেকর্ড।বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) সতর্কবার্তা জারি করে জানিয়েছে, এই তাপপ্রবাহ জনস্বাস্থ্য ও বাস্তুতন্ত্রের ওপর মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনছে। বর্তমানে মহাদেশটির প্রায় ১৫ কোটি মানুষ ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপর তীব্র তাপমাত্রা অনুভব করছেন। আবহাওয়া বিভাগগুলোর প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, তাপপ্রবাহের কেন্দ্রস্থলটি এখন দ্রুত উত্তর ও পূর্ব ইউরোপের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
জার্মানিতে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো তাপমাত্রা ৪১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছে সর্বকালের সর্বোচ্চ রেকর্ড স্থাপন করেছে।এর আগে দেশটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৪১.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তীব্র উত্তাপের মুখে রাজধানী বার্লিনে সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে পুলিশ জলকামান ব্যবহার করে পানি ছিটানোর ব্যবস্থা করেছে। চেক প্রজাতন্ত্রের জাতীয় আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, প্রাগের উত্তরাঞ্চলীয় ডকসানি কেন্দ্রে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৪০.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা নথিভুক্ত করা হয়েছে। ডেনমার্কে ১৯৭৬ সালের রেকর্ড ভেঙে তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে দাঁড়িয়েছে।অন্যদিকে, সুইজারল্যান্ডের বাসেলে পারদ ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছানোর মাধ্যমে টানা তৃতীয় দিনের মতো জুন মাসের উষ্ণতার রেকর্ড ভেঙেছে।
আইবেরীয় উপদ্বীপে শুরু হওয়া এই তাপপ্রবাহে ইতিমধ্যে শত শত মানুষের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। স্পেনের ‘মোমো’ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার তথ্যমতে, তীব্র গরমের কারণে মাত্র পাঁচ দিনে ৩২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে, ফ্রান্সে গরম থেকে রক্ষা পেতে পানিতে ডুবে অন্তত ৫৫ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের বড় অংশই অনিরাপদ ও অরক্ষিত এলাকায় সাঁতার কাটছিলেন।
বিবিসির প্রধান আবহাওয়াবিদ বেন রিচ জানিয়েছেন, একটি ধীরগতির ও দীর্ঘস্থায়ী উচ্চচাপ বলয় বা ‘হিট ডোম’ এর কারণে এই চরম পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।এই প্রক্রিয়ায় উচ্চচাপের কারণে বাতাস নিচে নেমে সংকুচিত ও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। মেঘমুক্ত আকাশ ও তীব্র রোদ একে আরো ভয়ংকর করে তুলেছে। ‘ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশন’-এর বিজ্ঞানীদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই ৫০ বছর আগের তুলনায় এখন গ্রীষ্মের শুরুতেই এমন তীব্র তাপপ্রবাহ দেখা যাচ্ছে। বর্তমানে ইউরোপ বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত উষ্ণায়নশীল মহাদেশে পরিণত হয়েছে।
আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, সোমবার (২৯ জুন) পর্যন্ত এই তীব্র গরম অব্যাহত থাকবে এবং কিছু অঞ্চলে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরেই থাকবে। তবে চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে ইউরোপের পশ্চিমাঞ্চলে শীতল আবহাওয়া তৈরি হয়ে তা পূর্ব দিকে প্রবাহিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা এ পরিস্থিতি থেকে কিছুটা স্বস্তি এনে দিতে পারে।











































