জাপানি প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া উপহার নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবেনিজ।
গত মে মাসে অস্ট্রেলিয়া সফরকালে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি আলবেনিজকে দুটি অত্যন্ত মূল্যবান ক্রাউন মেলন ((এক ধরণের উচ্চমূল্যের ফল) ) উপহার দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে জুলাই মাসে ‘বুশ ডিপ’ নামক একটি পডকাস্টে অংশ নিয়ে সেই উপহার সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে বিতর্কে জড়ান তিনি।
পডকাস্টের সঞ্চালক ও কৌতুকাভিনেত্রী নিকি অসবোর্ন উপহারের মেলন দুটি প্রসঙ্গে পামেলা অ্যান্ডারসনের সাথে তুলনা করে একটি কৌতুক করলে প্রধানমন্ত্রী আলবেনিজ তার জবাবে বুকে হাত ইশারা করে মেলন দুটিকে ‘বেশ অদ্ভুত’ বলে মন্তব্য করেন।
জাপানের সাবেক রাষ্ট্রদূত শিংও ইয়ামাগামি এই মন্তব্যকে ‘যৌনতাবাদী রসিকতা’ এবং দুই দেশের ঘনিষ্ট সম্পর্কের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি একটি মতামত কলামে লিখেছেন যে জাপানে ক্রাউন মেলন অত্যন্ত মূল্যবান এবং একটি মাত্র মেলনের দাম ৩০ হাজার ইয়েনেরও বেশি (প্রায় ১৮৮ মার্কিন ডলার)। তাই এ ধরনের উপহার নিয়ে নারীর শরীর নিয়ে ব্যঙ্গ না করে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর নজর দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
জাপানি কূটনীতিবিদের এই তীব্র প্রতিবাদের পর অস্ট্রেলিয়ার বিরোধী দলীয় নেতা আঙ্গুস টেলর প্রধানমন্ত্রী আলবেনিজের এই মন্তব্যকে ‘আপত্তিকর’ বলে অভিহিত করে তাকে ব্যক্তিগতভাবে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার বিরোধী দলের এক সংসদ সদস্য পডকাস্টের ওই মন্তব্যকে ‘শালীনতা বর্জিত ও নারীদের প্রতি অবমাননাকর’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমা প্রার্থনা দাবি করলেও আলবেনিজ তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি দাবি করেন, অস্ট্রেলিয়া ও জাপানের সম্পর্ক বর্তমানে সবচেয়ে সুদৃঢ় অবস্থানে রয়েছে এবং তার সরকার এই কৌশলগত অংশীদারিত্বকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও তার মন্ত্রিসভার বেশ কয়েকজন সদস্য তার পক্ষ নিয়েছেন। অর্থমন্ত্রী কেটি গ্যালাগার এবং সামাজিক পরিষেবা মন্ত্রী তানিয়া প্লিবারসেক দাবি করেছেন, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও কিছু গণমাধ্যম ইচ্ছাকৃতভাবে ভুলভাবে উপস্থাপন করেছে এবং এর সাথে অন্য কোনো অসৎ উদ্দেশ্য ছিল না।
উল্লেখ্য, গত জুলাই মাসে একই পডকাস্টে বিখ্যাত সংগীতশিল্পী কাইলি মিনোগ, নিকোল কিডম্যান এবং রোন্ডা বার্চমোরের মধ্যে কাকে বিয়ে বা ডেট করবেন—এমন এক আপত্তিকর প্রশ্নের জবাবে কাইলির পক্ষে মত দিয়ে আলবেনিজ ইতোপূর্বে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন এবং সে সময় তাকে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করতে হয়েছিল।
সূত্র: বিবিসি।











































