দলের বাইরে লড়াইটা মেসি-সালাহরও। ছবি : রয়টার্স
লিওনেল মেসি ও মোহামেদ সালাহ। একজন বিশ্ব ফুটবলের মহাতারকা, আরেকজন মিসরের ‘কিং’ হিসেবে পরিচিত।বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা তারকাদের একজনও তিনি। আজ আটলান্টায় আর্জেন্টিনা-মিসরের শেষ ষোলোর লড়াই, তাই মেসি বনাম সালাহর দ্বৈরথও।
শেষ ষোলোর বৈতরণী পার হতে দুই দলই তাকিয়ে থাকবে নিজেদের সবচেয়ে বড় তারকার দিকে। দুজনেরই আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায় চলছে বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে।
৩৯ বছর বয়সী মেসি সম্ভবত নিজের শেষ বিশ্বকাপ খেলছেন। অন্যদিকে ৩৪ বছর বয়সী সালাহরও এটি শেষ বিশ্বকাপ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তার আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিয়েও আলোচনা চলছে। ফলে দুজনের জন্যই এই লড়াইয়ের আবেগ অন্যরকম।
তবে দুজন দাঁড়িয়ে আছেন দুই ভিন্ন বাস্তবতায়। মেসির আর্জেন্টিনার লক্ষ্য বিশ্বকাপের শিরোপা ধরে রাখা। আর সালাহর মিসরের স্বপ্ন ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সাফল্য অর্জন। এই মুহূর্তে দলকে সেই পথে আরো এক ধাপ এগিয়ে নিতে পারাটাই হবে তার সবচেয়ে বড় অর্জন। জাতীয় দলের জার্সিতে অর্জনের বিচারে অবশ্য মেসি যোজন-যোজন এগিয়ে।
বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা, ফিনালিসিমাসহ সব বড় ট্রফিই আছে তার ঝুলিতে। অন্যদিকে সালাহর ক্যারিয়ারে জাতীয় দলের হয়ে বড় কোনো শিরোপা নেই। দুইবার আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের ফাইনালে উঠেও রানার্সআপ হতে হয়েছে তার দলকে। তবে দেশের ফুটবলের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা তিনিই। মিসরের প্রতিটি আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দু সালাহ। তাকে ঘিরেই প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের পরিকল্পনা।
দুই তারকার খেলার ধরনও ভিন্ন। মেসি খেলেন যেন সময়কে থামিয়ে দিয়ে। নিখুঁত পাস, হঠাৎ গতি বদল আর এক মুহূর্তের জাদুতে ম্যাচের চিত্র পাল্টে দেন তিনি। অন্যদিকে সালাহর শক্তি গতি, ধারালো কাট-ইন আর গোলের ক্ষুধা। ডান প্রান্ত থেকে ভেতরে ঢুকে প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেঙে ফেলার ক্ষমতা তাকে বিশ্বের অন্যতম ভয়ংকর ফরোয়ার্ডে পরিণত করেছে। এই ম্যাচে কাগজে-কলমে এগিয়ে অবশ্যই আর্জেন্টিনা। অভিজ্ঞতা, স্কোয়াডের গভীরতা এবং বড় ম্যাচে খেলার অভ্যাস—সব দিক থেকেই বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা এগিয়ে। কিন্তু নক আউটে এক মুহূর্তেই সব কিছু বদলে যেতে পারে। সেই মুহূর্তের অপেক্ষায় থাকবেন সালাহ। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে মেসি ও সালাহর এমন দ্বৈরথ হয়তো আর কখনো দেখা যাবে না। তাই শেষ ষোলোর এই ম্যাচটি শুধু দুই দলের টিকে থাকার লড়াই নয়, সমসাময়িক ফুটবলের দুই তারকার আরেকটি স্মরণীয় অধ্যায়ের অপেক্ষাও।










































