ছবি : রয়টার্স
বিরল এক রোগে দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর দিল্লির এক হাসপাতালে মারা গেলেন আফগানিস্তান ক্রিকেটের অন্যতম পথিকৃৎ এবং সাবেক পেস বোলার শাপুর জাদরান। একদিন পরেই ৩৯ বছরে পর্দাপন করতেন আফগানদের এই তারকা পেসার।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) স্যোশাল প্ল্যাটফর্মে এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানায় আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (এসিবি)। এতে আফগান ক্রিকেটে নেমে আসে এক শোকের ছায়া।
জাদরান চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে নয়াদিল্লির একটি হাসপাতালে নিবিড় চিকিৎসাধীন ছিলেন এই পেসার। গত বছরের অক্টোবরে নিজ দেশে প্রথম অসুস্থ বোধ করার পর তার ভাই গামাই জাদরান ও সাবেক অধিনায়ক আসগর আফগান তার সঙ্গে ভারতে এসেছিলেন।
বিবৃতিতে এসিবি জানায়, গভীর শোক ও দুঃখের সঙ্গে আমরা আফগানিস্তানের সাবেক পেসার শাপুর জাদরানের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করছি।
আফগানিস্তান ক্রিকেটের শুরুর দিকের অন্যতম পথিকৃৎ পেসার ছিলেন জাদরান। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দলটির উত্থানে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তিনি আফগানিস্তানের হয়ে একদিনের আন্তর্জাতিক (ওয়ানডে) ও টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক—উভয় সংস্করণেই প্রতিনিধিত্ব করেছেন এবং গতিময় ও আক্রমণাত্মক বোলিংয়ের জন্য পরিচিত ছিলেন।
জাদরান ছিলেন সেই প্রজন্মের সদস্য, যাদের হাত ধরে আফগানিস্তান প্রথমবারের মতো ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে জায়গা পায়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আফগানিস্তানকে প্রতিযোগিতামূলক দলে পরিণত করার পথচলায় তার অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
জানা যায়, এই বাঁহাতি পেসার দীর্ঘ দিন ধরে ‘হেমোফ্যাগোসাইটিক লিম্ফোহিস্টিওসাইটোসিস’ নামক একটি বিরল রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করছিলেন।
কিছুটা সুস্থ হলে হাসপাতাল থেকে হোটেলে স্থানান্তর করা হয় এই ক্রিকেটারকে। তিন সপ্তাহ সুস্থ থাকার পর শাপুর জাদরানের শরীরে পুনরায় মারাত্মক ইনফেকশন ছড়িয়ে পড়ে।অবস্থার অবনতি হওয়ায় পুনরায় আইসিইউতে নেওয়া হলে, ৩৯তম জন্মদিনের এক দিন আগে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।
২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দেন শাপুর জাদরান। এতে দীর্ঘ ২২ বছরের ক্রিকেপ ক্যারিয়ারের সমাপ্তি হয় এই পেসারের। ২০০৯ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হওয়া এই পেসার দেশের হয়ে ৪৪টি ওডিআই এবং ৩৬টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন। ২০২০ সালে তিনি নিজের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচটি খেললেও ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলা চালিয়ে যান। ২০২২ সালে ক্যারিয়ারের শেষ প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচটি খেলেন তিনি। আফগান ক্রীড়াঙ্গনের এক নির্ভীক অগ্রদূত হিসেবে তিনি যে গৌরবময় অবদান রেখে গেছেন, তা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।










































