সংগৃহীত ছবি
খেলোয়াড়দের চোট কিংবা ফর্মের ওঠানামা নয়, মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের মহারণ ‘লা ফিনালিসিমা’ থমকে গিয়েছিল মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি আর যুদ্ধ পরিস্থিতির মারপ্যাঁচে। বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ও কোপা আমেরিকা জয়ী আর্জেন্টিনা এবং ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেনের মধ্যকার বহুল প্রতীক্ষিত সেই দ্বৈরথ বাতিলের ঘোষণায় রীতিমতো মুষড়ে পড়েছিলেন ফুটবলপ্রেমীরা।কাতার থেকে ম্যাচ সরানোর জটিলতা, সান্তিয়াগো বার্নাব্যু বনাম মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামের ভেন্যু নিয়ে এএফএ ও উয়েফার দড়ি-টানাটানি—সব মিলিয়ে ভেস্তেই গিয়েছিল আসরটি।
তবে সব শঙ্কা, হতাশা আর জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এলো চূরান্ত এক সুখবর। ভাগ্যবিধাতা যেন নিজ হাতেই লিখে রেখেছিলেন অন্য এক রূপকথা! কোপা আমেরিকা ও ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের রাজমুকুট মাথায় তোলা বিশ্বসেরা দুই পরাশক্তি অবশেষে নিজেদের শক্তি যাচাইয়ের চূড়ান্ত লড়াইয়ে নামতে যাচ্ছে। আর সেই মোক্ষম সুযোগটি করে দিচ্ছে ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় মঞ্চ— ২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনাল।আগামী ১৯ জুলাই নিউইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্বজয়ের সোনালী ট্রফির লড়াইয়ে মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। বাতিল হওয়া ফিনালিসিমার সব রোমাঞ্চ এবার সুদে-আসলে মিটবে বিশ্বকাপের ফাইনাল দিয়ে!
ফিনালিসিমা কেবল একটি সাধারণ ফুটবল ম্যাচ নয়, এটি ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল শ্রেষ্ঠত্বের এক মহাসংগ্রাম। ১৯৮৫ সালে উয়েফার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আরতেমিও ফ্রাঞ্চির নামে ‘আরতেমিও ফ্রাঞ্চি কাপ’ হিসেবে যাত্রা শুরু করা এই টুর্নামেন্ট এখন বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম বড় আকর্ষণ। ১৯৯৩ সালের পর দীর্ঘ বিরতি দিয়ে ২০২২ সালে নতুন আঙ্গিকে পুনরুজ্জীবিত হয় এই প্রতিযোগিতা, যেখানে ইতালিকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে ট্রফি উঁচিয়ে ধরেছিল লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা।
চলতি বছরের শুরুতে ২৭ মার্চ কাতারের লুসাইল স্টেডিয়ামে এই বছরের ম্যাচটি হওয়ার কথা থাকলেও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে উয়েফা তা স্থগিত করতে বাধ্য হয়। এরপর ভেন্যু ও তারিখ নিয়ে শুরু হয় তুমুল জটিলতা। উয়েফা চেয়েছিল ম্যাচটি মাদ্রিদের সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে হোক, কিংবা হোম-অ্যান্ড-অ্যাওয়ে ভিত্তিতে দুই লেগে অনুষ্ঠিত হোক। কিন্তু আর্জেন্টিনার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) নিজেদের অনমনীয় অবস্থানে অনড় থাকায় একপর্যায়ে ম্যাচটি সম্পূর্ণ বাতিল ঘোষণা করতে হয়েছিল।
বিশ্বকাপের এই ফাইনাল ম্যাচের মূল আকর্ষণ অবশ্য মাঠের রণকৌশলকেও ছাড়িয়ে এক অনন্য মনস্তাত্ত্বিক রূপকথায় রূপ নিয়েছে।একদিকে আধুনিক ফুটবলের অবিসংবাদিত রাজা, আর্জেন্টাইন জাদুকর লিওনেল মেসি, যিনি ৩৯ বছর বয়সেও আলবিসেলেস্তেদের ফাইনালে তোলার মূল কারিগর। অন্যদিকে, বার্সেলোনার একাডেমি ‘লা মাসিয়া’ থেকে উঠে আসা এবং মেসিরই যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে বিশ্বমঞ্চে আলো ছড়ানো স্পেনের বিস্ময়বালক লামিন ইয়ামাল।
কয়েকমাস আগে বাতিল হওয়া সেই বহুল আকাঙ্ক্ষিত ফিনালিসিমাটা আলোর মুখ না দেখলেও, ভক্তদের হতাশ করেনি ভাগ্য। গুরু মেসির সাথে শিষ্য ইয়ামালের সেই দ্বৈরথ শেষ পর্যন্ত যে ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ মঞ্চ অর্থাৎ বিশ্বকাপ ফাইনাল দিয়েই যাচাই করা যাচ্ছে, তাতেই এখন রোমাঞ্চিত সারা বিশ্বের কোটি কোটি ফুটবল অনুরাগী। ১৯ জুলাই নিউ ইয়র্কের মহাকাব্যিক লড়াইয়ে শেষ হাসি কে হাসবেন— ফুটবল জাদুকর মেসি, নাকি তার সিংহাসনের নতুন দাবিদার ইয়ামাল? উত্তর দেবে সময়ই।










































