ফিলিস্তিনি বন্দিদের রাখার জন্য কুমিরঘেরা বিশেষ কারাগার নির্মাণের একটি বিতর্কিত পরিকল্পনা নিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির পরিবেশ সুরক্ষা মন্ত্রী ইদিত সিলমান এই সপ্তাহে নীল নদের কুমিরের আইনি অবস্থান পরিবর্তন করেছেন।
এর ফলে জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভিরের কারাগারের নিরাপত্তায় কুমির ব্যবহারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হয়েছে। হিব্রু গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার নেওয়া এই সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। কারণ, ইসরায়েলের প্রকৃতি ও উদ্যান কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে কারাগার বা আটক কেন্দ্রের চারপাশে কুমির ব্যবহারের পরিকল্পনার বিরোধিতা করে আসছে।
চ্যানেল ১৩-এর তথ্য অনুযায়ী, কট্টর-ডানপন্থী নেতা বেন গভির গত ডিসেম্বরে কারা বিভাগের প্রধান কোবি ইয়াকোবির সঙ্গে এক বৈঠকে প্রথম ফিলিস্তিনি নিরাপত্তা বন্দিদের কুমিরঘেরা আটক কেন্দ্রে রাখার প্রস্তাব দেন।
তবে ইতামার বেন গভির এই পরিকল্পনার পক্ষে জোরালো অবস্থান নিলেও এবং কারা বিভাগের কর্মকর্তারা উত্তর ইসরায়েলের হামাত গাদের কুমির খামার পরিদর্শন করলেও, প্রকৃতি ও উদ্যান কর্তৃপক্ষ এর বিরোধিতা করেছে। কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা বলেছেন, বর্তমান আইন অনুযায়ী কুমির শুধু শিক্ষা ও গবেষণার উদ্দেশ্যে রাখা যেতে পারে।
তবে কুমিরকে নতুনভাবে শ্রেণিভুক্ত করার ফলে এগুলোকে শুধু চিড়িয়াখানা বা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যেই নয়, অন্য ধরনের স্থাপনাতেও রাখার সুযোগ তৈরি হয়েছে। ওয়াইনেটের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকৃতি ও উদ্যান কর্তৃপক্ষের একজন কর্মকর্তা দুই ডানপন্থী মন্ত্রীকে বলেন, ‘কুমিরদের সুরক্ষা দেওয়া আমাদের দায়িত্ব।আমাদের সুরক্ষার জন্য তাদের ব্যবহার করার কথা আইনের উদ্দেশ্য নয়।’
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পরিবেশমন্ত্রী ইদিত সিলমান নির্দিষ্ট শর্তে কুমিরগুলোকে কিছু আটক কেন্দ্রে রাখার অনুমতি দিতে পারবেন। তবে এ ক্ষেত্রে কুমিরগুলোর দেখভাল ও ব্যবস্থাপনার নিয়ম প্রকৃতি ও উদ্যান কর্তৃপক্ষের পরিচালক নির্ধারণ করবেন।
হিব্রু প্রতিবেদন অনুসারে, বেন গভির প্রথমে কুমিরগুলোকে দক্ষিণ ইসরায়েলের কেৎজিওত কারাগারে ছাড়ার চেষ্টা করছেন, যেখানে প্রধানত ফিলিস্তিনি বন্দিদের রাখা হয়।
কয়েক সপ্তাহ আগে জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভির ও পরিবেশমন্ত্রী ইদিত সিলমান প্রকৃতি ও উদ্যান কর্তৃপক্ষের প্রধান রায়া সোরাকি এবং পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের আইন উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করেন।সেখানে তারা কারাগারের নিরাপত্তায় কুমির ব্যবহারের পরিকল্পনার পক্ষে অবস্থান নেন।
ওয়াইনেটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের আইন উপদেষ্টা সিলমানকে সতর্ক করে জানান, কারাগারে কুমির ব্যবহারের জন্য একতরফাভাবে আইনি ভিত্তি তৈরি করার ক্ষমতা তার নেই। তবে সেই সতর্কতা উপেক্ষা করেই সিলমান পরে এ বিষয়ে একটি সিদ্ধান্ত জারি করেন।
প্রকৃতি ও উদ্যান কর্তৃপক্ষের পূর্ণাঙ্গ সভা শিগগিরই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে পরিবেশমন্ত্রী ইদিত সিলমানের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে আবার আলোচনা হবে। সমালোচকদের অভিযোগ, তিনি এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় নিজের মন্ত্রণালয়ের আইন উপদেষ্টার আপত্তি উপেক্ষা করেছেন।
এর আগে জানুয়ারিতে কারা বিভাগের কর্মকর্তারা উত্তর ইসরায়লের হামাত গাদের কুমির খামার পরিদর্শন করেন। তাদের উদ্দেশ্য ছিল কারাগারের নিরাপত্তায় কুমির ব্যবহারের সম্ভাবনা যাচাই করা।
চ্যানেল ১৩-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কারা বিভাগের কর্মকর্তারা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন। তারা গ্যালিলি সাগরের দক্ষিণে হামাত গাদের এলাকার কাছে কুমিরঘেরা একটি আটক কেন্দ্র স্থাপনের সম্ভাবনাও পর্যালোচনা করছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেন গভিরের এই পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের একটি বিতর্কিত আটক কেন্দ্র থেকে অনুপ্রাণিত। ‘অ্যালিগেটর আলকাট্রাজ’ নামে পরিচিত ওই কেন্দ্রটি কুমির-অধ্যুষিত একটি এলাকায় নির্মিত হয়েছিল এবং সেখানে অভিবাসীদের রাখা হতো। তবে কেন্দ্রটি খারাপ পরিবেশ, মানবাধিকার উদ্বেগ এবং আইনি জটিলতা নিয়ে পরিবেশবাদী ও আদিবাসী গোষ্ঠীগুলোর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে।









































