সংগৃহীত ছবি
মাঝে মাঝে মাথা ব্যথা হওয়া সাধারণ বিষয় হলেও ঘন ঘন একই সমস্যা ফিরে এলে এর পেছনে থাকা কারণ খুঁজে দেখা জরুরি। হরমোনের পরিবর্তন থেকে শুরু করে ঘুমের ঘাটতি, পানিশূন্যতা, দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা কিংবা ঘাড়ের পেশিতে টান বিভিন্ন কারণেই মাথাব্যথা বাড়তে পারে।
হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে মেনোপজ কোচ ও মেনোভেদার সহপ্রতিষ্ঠাতা তামান্না সিং বলেন, বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে হরমোনের ওঠানামা মাথা ব্যথার একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হতে পারে।
হরমোনের পরিবর্তন
পেরিমেনোপজ বা মেনোপজের আগের সময়ে শরীরে ইস্ট্রোজেন হরমোনের মাত্রায় পরিবর্তন ঘটে। তামান্না সিংয়ের মতে, ইস্ট্রোজেনের দ্রুত ওঠানামা কিছু নারীর ক্ষেত্রে মাথা ব্যথা বা মাইগ্রেনের প্রবণতা বাড়াতে পারে।
এমনকি যাদের আগে নিয়মিত মাথা ব্যথার সমস্যা ছিল না, তাদেরও বয়স ৪০-এর দিকে গিয়ে নতুন করে ঘন ঘন মাথা ব্যথা শুরু হতে পারে।
ঘুমের ঘাটতি ও পানিশূন্যতা
পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়াও মাথা ব্যথার পরিচিত একটি কারণ। বিশেষ করে পেরিমেনোপজের সময়ে রাতে ঘাম হওয়া বা ঘুম বারবার ভেঙে যাওয়ার কারণে ঘুমের মান কমে যেতে পারে। এর সঙ্গে শরীরে পানির ঘাটতি যোগ হলে মাথা ব্যথা আরো বাড়তে পারে।
তাই প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং নিয়মিত ঘুমের অভ্যাস বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা
অনেকক্ষণ না খেয়ে থাকা বা নিয়মিত খাবারের সময়ের মধ্যে দীর্ঘ বিরতি হলেও মাথা ব্যথা শুরু হতে পারে। বিশেষ করে শরীরে হরমোনের পরিবর্তন চললে এর প্রভাব আরো বেশি অনুভূত হতে পারে।
তাই ব্যস্ততার কারণে দিনের কোনো খাবার বাদ না দেওয়া এবং দীর্ঘ সময় খালি পেটে না থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।
ঘাড় ও কাঁধে টান
মানসিক চাপ অনেক সময় অজান্তেই চোয়াল, ঘাড় ও কাঁধের পেশিতে টান তৈরি করে। দিনের পর দিন এই টান জমতে থাকলে মাথা ব্যথার প্রবণতা বাড়তে পারে।
দীর্ঘ সময় কম্পিউটার বা ডেস্কে ভুল ভঙ্গিতে বসে কাজ করলেও ঘাড়ের ওপর চাপ পড়ে। ফলে দিনের শেষ দিকে মাথা ব্যথা দেখা দিতে পারে বা আগের ব্যথা আরো তীব্র হতে পারে।
মাথা ব্যথার ধরন খেয়াল রাখুন
বারবার মাথা ব্যথা হলে কখন, কতক্ষণ এবং কী পরিস্থিতিতে ব্যথা হচ্ছে—তা লিখে রাখলে সম্ভাব্য কারণ শনাক্ত করতে সুবিধা হতে পারে। যেমন মাসিকের আগে, কম ঘুমের পর, দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলে বা অতিরিক্ত চাপের সময়ে মাথা ব্যথা হচ্ছে কি না, তা খেয়াল করা যেতে পারে।
বিশেষ করে জীবনে প্রথমবার ঘন ঘন মাথা ব্যথা শুরু হলে, বয়স বাড়ার সঙ্গে নতুন ধরনের ব্যথা দেখা দিলে বা ব্যথার ধরন বারবার ফিরে এলে শুধু নিয়মিত ব্যথানাশক ওষুধের ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।











































