হুতিদের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করলো সৌদি

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতিদের ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও দুটি ড্রোন প্রতিহত করার কথা জানিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। সৌদি আরবের দিকে এগিয়ে আসা এসব ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন শনিবার ভোরে প্রতিহত করা হয় বলে জানিয়েছে জোটটি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া কয়েকটি পোস্টে জোটটি জানায়, দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খামিস মুশাইতের দিকে যাচ্ছিল। অন্যদিকে দুটি ড্রোন দেশটির রাজধানী রিয়াদের দিকে যাচ্ছিল। সৌদি আরবের দিকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের হুমকি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে জোটটি। তবে হামলায় কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।হামলার আশঙ্কায় রাতভর খামিস মুশাইত ও আবহা শহরের জন্য সতর্কতা জারি রেখেছিল সৌদি বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ। তবে রাজধানী রিয়াদের জন্য কোনো সতর্কতা জারি করা হয়নি।

সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত খামিস মুশাইত ও আবহা দেশটির গুরুত্বপূর্ণ শহর। ইয়েমেনের সঙ্গে সৌদি আরবের সীমান্তের কাছাকাছি হওয়ায় অতীতেও এসব এলাকা হুতিদের হামলার ঝুঁকিতে ছিল।ইয়েমেনের সবচেয়ে জনবহুল এলাকাগুলোসহ দেশটির উত্তরাঞ্চলের বড় একটি অংশ হুতিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবের সঙ্গে সংঘাতে জড়িত। জুলাইয়ে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধের ঘোষণা দেওয়ার পর হুতিরা সৌদি স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়ে আসছে। এসব হামলার মধ্যে লোহিত সাগরে চলাচলকারী সৌদি জাহাজকে লক্ষ্য করে চালানো হামলাও রয়েছে।

হুতিদের হামলায় সৌদি আরবের বিভিন্ন শহর, জ্বালানি অবকাঠামো এবং জাহাজ চলাচলের পথ ঝুঁকির মুখে পড়েছে।এর প্রভাব আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও পড়ছে। বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে তেল সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। হুতিদের হামলার কারণে উপসাগরীয় দেশগুলোর পণ্য পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প পথ লোহিত সাগরও ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।

উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে ইউরোপ ও অন্যান্য অঞ্চলে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে লোহিত সাগর একটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। এই পথে হামলার ঝুঁকি বাড়লে জাহাজগুলোকে বিকল্প ও দীর্ঘ পথ ব্যবহার করতে হতে পারে। এতে পরিবহন ব্যয় ও সময় দুটোই বাড়তে পারে। এর পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতেও জাহাজ চলাচল অনেকটাই বন্ধ রয়েছে। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহনপথগুলোর একটি হলো এই প্রণালি। ফলে লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালি—দুই পথেই অস্থিরতা থাকায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে চাপ আরো বাড়ছে।

হুতিদের হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে সৌদি রাজধানী রিয়াদে বৈঠক করেন সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের সামরিক বাহিনীর প্রধানেরা। বৈঠকে সৌদি আরবের সামনে থাকা বিভিন্ন নিরাপত্তা ও সামরিক হুমকি নিয়ে আলোচনা করা হয়। গত মাসে তিন দেশ মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করেছে। চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটি দেশের ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। চুক্তির মাধ্যমে তিন দেশ নিজেদের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা ও সম্মিলিত প্রতিরোধক্ষমতা আরো বাড়াতে চায়।

সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান শনিবার ভোরে জানান, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে তার বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হামলা মোকাবিলায় দুই দেশের যৌথ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার বিষয়ে তারা একমত হয়েছেন বলে জানান খালিদ বিন সালমান। তিনি বলেন, এই যৌথ প্রচেষ্টা মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় চালিয়ে যাওয়া হবে। সৌদি আরবের দিকে হুতিদের নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়েছে। ফলে সৌদি আরবের নিরাপত্তার পাশাপাশি আঞ্চলিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

LEAVE A REPLY