হরমুজ প্রণালি এখন যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে— মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন দাবি নাকচ করে দিয়েছে ইরান। সেইসঙ্গে হরমুজ প্রণালি এখনো পুরোপুরি ইরানের নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনায় রয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটি। সেইসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে তাদের অনুমতি ও নজরদারি ছাড়া কোনো বাণিজ্যিক জাহাজ বা তেলবাহী ট্যাংকার নিরাপদে চলাচল করতে পারবে না বলেও জানিয়েছে তেহরান।
ইরানের কেন্দ্রীয় সামরিক সদর দপ্তর খাতাম আল-আনবিয়ার মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাঘারি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় এসব কথা বলেন।
তিনি হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে—যুক্তরাষ্ট্রের এমন দাবিকে ‘ভিত্তিহীন মিথ্যা’ বলে প্রত্যাখ্যান করেন। তার দাবি, এসব বক্তব্য মার্কিন সামরিক বাহিনীর হতাশা ও বিভ্রান্তিই প্রকাশ করছে।
জোলফাঘারি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরির চেষ্টা করছে। ইরানের জনগণ ও সশস্ত্র বাহিনীর শক্তি ও দৃঢ়তা সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব ও সামরিক বাহিনী আগে থেকেই অবগত।
তিনি আরও বলেন, ইরানের সামরিক প্রস্তুতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি কোনো ফল বয়ে আনবে না। বরং এতে মার্কিন বাহিনীর জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হবে।
ইরানি সামরিক বাহিনী অঞ্চলজুড়ে মার্কিন ও ইসরাইলি বাহিনীর সব ধরনের গতিবিধির ওপর নজর রাখছে বলেও তিনি দাবি করেন।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির প্রতি আনুগত্য পুনর্ব্যক্ত করে জোলফাঘারি বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব, জনগণের অধিকার ও ইসলামি বিপ্লবের আদর্শ রক্ষায় সামরিক বাহিনী যেকোনো পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো হুমকির জবাব আগের চেয়েও কঠোরভাবে দেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
ইরানের এই বক্তব্য এলো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে করা এক মন্তব্যের পর। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প দাবি করেন, হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ‘পুরো নিয়ন্ত্রণ’ রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এই নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখবে।
ট্রাম্প মার্কিন নৌ অবরোধকে ‘ইস্পাতের প্রাচীর’ হিসেবে উল্লেখ করে দাবি করেন, ইরান এটি অতিক্রম করতে পারবে না।
এর পালটা জবাবে ইরান আবারও স্পষ্ট করল যে, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতেই রয়েছে।









































