সৌদি আরবে সাম্প্রতিক হুতি হামলার পর জরুরি সামরিক বৈঠক করতে যাচ্ছে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান। তিন দেশের সামরিক কর্মকর্তারা এই বৈঠকে সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং দেশটিকে কীভাবে সহায়তা করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা করবেন।সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানায়, এই বৈঠক তিন দেশের মধ্যে সম্প্রতি সই হওয়া মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় অনুষ্ঠিত হবে। চুক্তিতে বলা হয়েছে, কোনো একটি দেশের ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান গত ৭ আগস্ট মক্কায় এই প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করে।চুক্তির মাধ্যমে তিন দেশ নিজেদের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরো বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বৈঠক করেন। সৌদি আরবের স্থায়ী প্রতিনিধিদপ্তরে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ, পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার এবং তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান অংশ নেন।
বৈঠকে সৌদি আরবের মক্কা এবং দেশটির বিভিন্ন বেসামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনায় সাম্প্রতিক হামলার নিন্দা জানানো হয়।মন্ত্রীরা সৌদি সশস্ত্র বাহিনীর সতর্কতা ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রশংসা করেন। তারা বলেন, আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় সৌদি আরবের নিজের নিরাপত্তা রক্ষার অধিকার রয়েছে। জাতিসংঘ সনদের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদেও কোনো দেশের আত্মরক্ষার অধিকার স্বীকৃত রয়েছে। বৈঠকে শুধু সৌদি আরবের নিরাপত্তা নয়, পুরো অঞ্চলের পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়। তিন দেশের মন্ত্রীরা আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দেন।পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখা এবং সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথগুলোতে নিরাপদে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। হুথিদের সাম্প্রতিক হামলার কারণে সৌদি আরব ও আশপাশের অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরো জটিল হয়েছে।
বৈঠকে অংশ নেওয়া দেশগুলো একই সঙ্গে উত্তেজনা কমানোর ওপর জোর দিয়েছে। তারা সামরিক উত্তেজনা বাড়ানোর বদলে আলোচনার মাধ্যমে সংকটের সমাধানের প্রতি নিজেদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। তুরস্ক এরই মধ্যে জানিয়েছে, যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় সৌদি আরবের প্রয়োজন হলে দেশটির সামরিক সহায়তার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেছেন, সৌদি আরবের সামরিক প্রয়োজন মেটাতে প্রযুক্তিগত সহায়তাও দেওয়া হতে পারে। পাকিস্তানও সৌদি আরবের নিরাপত্তার প্রতি নিজেদের প্রতিশ্রুতির কথা জানিয়েছে। তবে তিন দেশের নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তির বাস্তব প্রয়োগ কীভাবে হবে, তা নিয়ে সামরিক বৈঠকেই বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা।
এদিকে সৌদি আরবের ওপর হুতিদের হামলা অব্যাহত থাকায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। রিয়াদসহ সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে সাম্প্রতিক সময়ে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করেছে হুতিরা। সৌদি কর্তৃপক্ষও কয়েকটি হামলা প্রতিহত করার কথা জানিয়েছে। সামরিক বৈঠকে সৌদি আরবকে সহায়তার সম্ভাব্য উপায়, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।











































