সারাক্ষণ পরার জুতা কেমন হওয়া উচিত? কেনার আগে দেখুন ৫ বিষয়

সংগৃহীত ছবি

প্রতিদিনের ব্যবহারের জুতা বা স্যান্ডেল শুধু দেখতে ভালো হলেই হয় না। দীর্ঘ সময় হাঁটা, অফিসে থাকা, বাইরে যাওয়া কিংবা হঠাৎ কোনো অনুষ্ঠানে যাওয়ার মতো নানা পরিস্থিতিতে একই জোড়া ব্যবহার করতে হলে আরাম, ফিট, উপাদান ও স্থায়িত্ব—সবকিছুই বিবেচনায় রাখা জরুরি।বিশেষ করে গরম, আর্দ্রতা, ধুলা ও বৃষ্টির মতো আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে চুপসের প্রতিষ্ঠাতা ইয়াশেশ মুখি প্রতিদিনের ব্যবহারের জুতা বা স্যান্ডেল কেনার আগে পাঁচটি বিষয় খেয়াল করার পরামর্শ দিয়েছেন।

১. টানা কয়েক ঘণ্টা পরা যাবে কি না দেখুন

কোনো জুতা দেখতে যতই সুন্দর হোক, এক ঘণ্টা পরেই যদি অস্বস্তি শুরু হয়, তাহলে সেটি প্রতিদিনের ব্যবহারের জন্য উপযুক্ত নয়। তাই শুধু বাইরের নকশা নয়, পায়ের নিচের অংশে পর্যাপ্ত কুশনিং ও সাপোর্ট রয়েছে কি না, সেটিও দেখা দরকার।

বিশেষ করে যারা দিনের বড় একটি সময় হাঁটেন বা দাঁড়িয়ে থাকেন, তাদের জন্য আরামদায়ক ফুটবেড গুরুত্বপূর্ণ। জুতা পরার কিছুক্ষণ পরই খুলে ফেলতে ইচ্ছা করলে সেটি কেনার আগে আবার ভাবা ভালো।

২. সোলের দিকেও নজর দিন

জুতা কেনার সময় অনেকেই উপরের অংশের ডিজাইন ও উপাদান দেখেন, কিন্তু নিচের সোলের দিকে তেমন নজর দেন না। ইয়াশেশের মতে, প্রতিদিনের ব্যবহারের ক্ষেত্রে সোল গুরুত্বপূর্ণ।

হালকা ও নমনীয় সোল হাঁটাচলায় স্বস্তি দিতে পারে। পাশাপাশি নিচের অংশে ভালো গ্রিপ থাকলে মসৃণ, অসমান কিংবা ভেজা রাস্তায় হাঁটার সময়ও সুবিধা পাওয়া যায়।

৩. আবহাওয়ার কথা মাথায় রাখুন

বাংলাদেশের গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় জুতা বাছাইয়ের সময় উপাদানও গুরুত্বপূর্ণ। এমন উপাদান বেছে নেওয়া ভালো, যা সহজে পরিষ্কার করা যায় এবং নিয়মিত ব্যবহারে খুব বেশি ঝামেলা তৈরি করে না।

গরমের সময়ে বাতাস চলাচল করতে পারে এমন খোলা জুতা বা স্যান্ডেল অনেকের জন্য আরামদায়ক হতে পারে।অন্যদিকে বৃষ্টির সময়ে দ্রুত শুকানো ও সহজে পরিষ্কার করা যায়—এমন জুতা ব্যবহারিক হতে পারে।

৪. আরামদায়ক হলেই দেখতে সাধারণ হতে হবে না

আরাম ও স্টাইল—দুটির মধ্যে এখন আর একটিকে বেছে নেওয়ার প্রয়োজন নেই। বিভিন্ন নকশা, রং, টেক্সচার ও আধুনিক সোলের জুতা-স্যান্ডেলেও আরামদায়ক ডিজাইন পাওয়া যায়।

অনলাইনে প্রেম করছেন? প্রতারণা থেকে বাঁচতে চিনুন ৭ সংকেত

তাই নিজের নিয়মিত পোশাকের সঙ্গে মানাবে কি না, সেটিও বিবেচনা করুন। জিনস, ট্রাউজার, শার্ট কিংবা দেশীয় পোশাক—কোন ধরনের পোশাকের সঙ্গে জুতাটি বেশি মানাবে, তা আগে ভাবলে একই জোড়া আরও বেশি ব্যবহার করা সম্ভব।

৫. কতদিন ও কতভাবে ব্যবহার করতে পারবেন ভাবুন

একটি ভালো দৈনন্দিন জুতার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, সেটি বিভিন্ন পরিস্থিতিতে ব্যবহার করা যায়। অফিস, ভ্রমণ, সাপ্তাহিক ছুটির দিন কিংবা সাধারণ বাইরে যাওয়ার সময়—কত জায়গায় জুতাটি পরা যাবে, তা বিবেচনা করুন।

ইয়াশেশের মতে, কাজ, ভ্রমণ ও ছুটির দিন—বিভিন্ন সময় ব্যবহার করা যায় এমন জুতা সাধারণত নির্দিষ্ট একটি অনুষ্ঠানের জন্য কেনা জুতার তুলনায় বেশি কাজে লাগে।

হ

তাই শুধু মুহূর্তের পছন্দে জুতা না কিনে আরাম, সঠিক ফিট, সোল, আবহাওয়া, স্টাইল ও ব্যবহারিক দিক—সবকিছু মিলিয়ে সিদ্ধান্ত নিলে দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য বেশি উপযোগী জোড়া বেছে নেওয়া সহজ হবে।

LEAVE A REPLY