ছবি : রয়টার্স
ঋণের পরিমাণ বাড়তে থাকায় নতুন করে ইস্যু করা সরকারি বন্ডে ২৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ সুদ দিতে হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রকে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ ৩০ বছর মেয়াদি সরকারি বন্ড ৫ দশমিক ২১৬ শতাংশ সুদে বিক্রি করেছে।২০০১ সালের পর কোনো ঋণ নিলামে এটিই সর্বোচ্চ সুদের হার।
এর এক দিন আগে, বুধবার ১০ বছর মেয়াদি মার্কিন ট্রেজারি বন্ড ৪ দশমিক ৬৮৩ শতাংশ সুদে বিক্রি করা হয়। ২০০৭ সালের পর এই মেয়াদের বন্ডে এটিই সর্বোচ্চ সুদের হার। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণের পরিমাণ ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি পৌঁছানোয় বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে দেশটিকে এখন বন্ডে বেশি সুদ দিতে হচ্ছে।
দেশটির ঋণ ও মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) অনুপাত বর্তমানে ১২১ শতাংশের বেশি। প্রতিবছর জাতীয় ঋণের সুদ পরিশোধে যুক্তরাষ্ট্র এখন প্রতিরক্ষা খাতের চেয়েও বেশি অর্থ ব্যয় করছে।
মার্লবরোর ফান্ড ম্যানেজার জেমস অ্যাথি বলেন, শান্তিকালীন সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজেট ঘাটতি এখন রেকর্ড পর্যায়ে রয়েছে। অথচ দেশে বেকারত্বের হার কম এবং অর্থনীতিও স্বাভাবিক গতিতে প্রায় ৩ শতাংশ হারে বাড়ছে।
বিশ্বের অন্যতম প্রধান অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্রের এই বিশাল ঘাটতি উদ্বেগজনক। এটি ইঙ্গিত দিচ্ছে, দেশটির অর্থনীতি অনেকের ধারণার মতো শক্তিশালী না-ও হতে পারে। ভবিষ্যতে মন্দা দেখা দিলে ঘাটতি আরো বড় হতে পারে। এমন পরিস্থিতি সরকারের অর্থ ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।
বিশাল এই ঘাটতির কারণে মার্কিন সরকারকে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ অর্থ ধার করতে হচ্ছে।এতে বাজারে সরকারি বন্ডের সরবরাহ বাড়বে এবং বন্ডের ইল্ড বা সুদের হার আরো বাড়ার চাপ তৈরি হবে।
এথে আরো বলেন, মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে উদ্বেগের কারণে সরকারের ঋণ নেওয়ার খরচ বাড়ছে। অনেক বিনিয়োগকারী মনে করছেন, ইরানের যুদ্ধের কারণে মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে গেলেও ফেডের নতুন চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শ সুদের হার বাড়াচ্ছেন না। তাদের আশঙ্কা, এটি ফেডের নীতিগত ভুল হতে পারে। একই সঙ্গে প্রেসিডেন্টের প্রভাব থেকে ফেড কতটা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এসপিআই অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের স্টিফেন ইনেস বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি বন্ডের ইল্ড বেশি থাকার পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিপুল পরিমাণ সরকারি বন্ড নিলাম, দেশটির বড় বাজেট ঘাটতি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের দ্রুত সম্প্রসারণে করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণ নেওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি।
গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেট, মাইক্রোসফট, অ্যামাজন, ওরাকল ও মেটার মতো বড় প্রযুক্তি কম্পানি তাদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য করপোরেট বন্ড বাজার থেকে ঋণ নিচ্ছে।
গোল্ডম্যান স্যাকসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই পাঁচ কম্পানি চলতি বছর প্রায় ২৫০ বিলিয়ন ডলারের বন্ড ইস্যু করতে পারে। ২০২৭ সালে এই পরিমাণ বেড়ে ৪০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।
বাজারে বিপুল পরিমাণ বন্ড আসায় এখন পরিস্থিতি অনেকটা ক্রেতাদের অনুকূলে। ফলে বন্ড বিনিয়োগকারীরা বেশি মুনাফা বা রিটার্ন দাবি করার সুযোগ পাচ্ছেন। এতে কম্পানিগুলোর ঋণ নেওয়ার খরচও আরো বেড়ে যাচ্ছে।
অ্যাথে আরো বলেন, এআই খাতের দ্রুত সম্প্রসারণে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরিতে বড় প্রযুক্তি কম্পানিগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এসব প্রতিষ্ঠান বর্তমানে খুব দ্রুত বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করছে এবং আগামী কয়েক বছরও এই প্রবণতা অব্যাহত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, এর ফলে নতুন শেয়ার বা ইক্যুইটি ইস্যু বাড়বে। তবে এর চেয়েও বড় বিষয় হলো, বৈশ্বিক করপোরেট বন্ড বাজারে বিপুল পরিমাণ নতুন বন্ড আসবে। এতে বিভিন্ন ধরনের বন্ডের মুনাফা বা ইল্ডের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হবে।
মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ বৃহস্পতিবার ৩০ বছর মেয়াদি সরকারি বন্ড বিক্রি করে ২৫ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছে। এই বন্ডে তুলনামূলকভাবে বেশি মুনাফা বা ইল্ড দিতে হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রে ঋণ নেওয়ার খরচ এখনো যুক্তরাজ্যের চেয়ে কম। গত বছরের সেপ্টেম্বরে ৩০ বছরমেয়াদি মার্কিন সরকারি বন্ডের একটি নিলামে ইল্ড ছিল ৫ দশমিক ৪৭৬ শতাংশ।










































