উপকূলীয় জেলা লক্ষ্মীপুর থেকে বেড়ে উঠা হাসান মাহমুদ আজ বিশ্বক্রিকেট মাতাচ্ছেন। তার বোলিং নৈপুণ্যে বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম পরাশক্তি অস্ট্রেলিয়ার কাছে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল।
দুই ইনিংসে ৯ উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ সেরা হয়েছেন লক্ষ্মীপুর এক্সপ্রেসের হাসান মাহমুদ। তার এমন কৃতিত্বে উচ্ছ্বসিত লক্ষ্মীপুরসহ সারা দেশ। হাসানের জন্য দেশবাসীর কাছে প্রতি ওয়াক্ত নামাজে দোয়া চেয়েছেন তার বাবা মো. ফারুক।
ক্রীড়া ব্যক্তিত্বসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০২০ সালের জানুয়ারিতে পাকিস্তান সফরের মধ্য দিয়ে হাসান মাহমুদ প্রথম বাংলাদেশ জাতীয় দলের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে পা রাখেন।শুরু থেকেই তার বোলিং নৈপুণ্য দেখে এসেছে ক্রিকেটবিশ্ব। টি-টোয়েন্টি থেকে শুরু করে এক দিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বিভিন্ন ম্যাচেও বল হাতে জ্বলে উঠার কৃতিত্ব রয়েছে তার।
এবার একইভাবে ক্রিকেট বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচের দুই ইনিংসে ৯ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরার কৃতিত্ব অর্জন করেছেন তিনি। হাসানের এমন কৃতিত্বে সারাদেশের মতো তার জন্মস্থান লক্ষ্মীপুরবাসীও উচ্ছ্বসিত।ভবিষ্যৎ ক্রিকেটে আরো বেশি কৃতিত্বের অংশীদার হয়ে বাংলাদেশসহ লক্ষ্মীপুরের সুনাম ছড়াবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে ক্রীড়া ব্যক্তিত্বসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
ক্রিকেটার হাসান লক্ষ্মীপুর পৌরসভার বাঞ্চানগর এলাকার অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা মো. ফারুক ও গৃহিণী মাহমুদা খাতুন রানীর ছোট ছেলে। তারা দুই ভাই ও তিন বোন।
হাসানের বাবা মো. ফারুক বলেন, হাসান সবার দোয়ায় ভালো খেলেছে। সে যেন ভালো খেলে লক্ষ্মীপুরসহ দেশের সুনাম ধরে রাখতে পারে, সে জন্য প্রত্যেকের কাছে দোয়া চেয়েছেন তিনি।
লক্ষ্মীপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার ক্রিকেট কোচ মনির হোসেন বলেন, ‘হাসানের বোলিং নৈপুণ্যে বাংলাদেশ দলের সঙ্গে ক্রিকেটের অন্যতম পরাশক্তি অস্ট্রেলিয়ার হার দেখতে পেরেছি। অস্ট্রেলিয়ার দাম্ভিকতা ভেঙেছে। আমরা হাসানকে নিয়ে গর্ববোধ করি। তার কৃতিত্বে লক্ষ্মীপুরের ক্রীড়া পরিবার বেশ উচ্ছ্বসিত।’
রাইজিং ফুটবল একাডেমির পরিচালক আব্দুল মমিন বলেন, ‘লক্ষ্মীপুর স্টেডিয়ামেই হাসানের হাতেখড়ি। তার কৃতিত্বে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল অস্ট্রেলিয়াকে টেস্ট ম্যাচে হারিয়েছে। তার জন্য শুভ কামনা।’
হাইফাই সাংস্কৃতিক সংঘের সভাপতি জাকির হোসেন বলেন, ‘হাসান মাহমুদ আমাদের হাইফাই ক্রীড়া সংসদের খেলোয়াড় ছিল। সে আজ অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ৯ উইকেট নিয়েছে, এ আনন্দ বলে বুঝানো সম্ভব নয়। এছাড়া একের পর এক জয় দিয়ে বাংলাদেশ টিম যোগ্যতার প্রমাণ রেখে চলেছে।’
ক্রীড়া সংগঠক রাজিব হোসেন রাজু বলেন, ‘লক্ষ্মীপুরের মতো একটি পিছিয়ে থাকা জেলা থেকে হাসান মাহমুদ আজ বিশ্ব ক্রিকেট রাঙাচ্ছে। অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে বাংলাদেশ ঐতিহাসিক জয় পেয়েছে। এতে আমাদের লক্ষ্মীপুর এক্সপ্রেস হাসান মাহমুদ ম্যাচ সেরা হয়েছেন। তার কৃতিত্বে আমরা অত্যন্ত খুশি হয়েছি। ভবিষ্যতের জন্য দোয়া রইল।’
২০১৩ সালে বিসিবি আয়োজিত জেলা অনুর্ধ্ব-১৪ দলে বান্দরবানে বিভাগীয় পর্যায়ে রাঙামাটি বনাম লক্ষ্মীপুর ম্যাচ হাসান মাহমুদের অভিষেক হয়। ২০১৫ সালে জাতীয় অনূর্ধ্ব-১৫ খেলার সুযোগ পায়। তখনই বাংলাদেশ হয়ে ভারতের সঙ্গে খেলে ১৫ ওভার বল করে ১৮রান দিয়ে ৩ উইকেট ছিনিয়ে নেয় এবং বাংলাদেশ টিম জয়লাভ করে। ২০১৬ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ ও ২০১৭ সালে এশিয়া কাপ অনূর্ধ্ব-১৯ খেলার সুযোগ পায়। কিন্তু ইনজুরির কারণে খেলতে পারেননি। ২০১৮ শুরুর দিকে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের হয়ে খেলেছেন। ২০২০ সালের ১৮ জানুয়ারি বিসিবি হাসানকে পাকিস্তান সফরে টি টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের জন্য জাতীয় দলে মনোনীত করে।











































