আজ বসুন্ধরায় বাংলা ও ইংরেজি গানের নস্টালজিক সন্ধ্যা

বাংলা গানের ইতিহাসে সত্তর ও আশির দশক এক বিশেষ সময়। এসময় মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী বাংলাদেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বাংলা গানের ভুবনেও তৈরি হয়েছিল নতুন এক আবহ।আধুনিক গান, ব্যান্ডসংগীত, চলচ্চিত্রের গান—বিভিন্ন ধারায় একের পর এক জনপ্রিয় গান তৈরি হয়েছে। একই সময়ে বিশ্ব সংগীতেও ছিল নানা নতুন পরীক্ষা-নিরীক্ষা। ফলে সত্তর ও আশির দশকের বাংলা ও ইংরেজি গান এখনো বহু শ্রোতার কাছে নস্টালজিয়ার অনুষঙ্গ।

সত্তর-আশির দকের গান নিয়েই রাজধানীতে বসছে বিশেষ এক সংগীত সন্ধ্যা।আজ ১ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় বসুন্ধরার Saffron Dine রেস্তরাঁয় অনুষ্ঠিত হবে ব্যান্ড সংগীতের দুই পরিচিত মুখ লাবু রহমান ও আলী সুমনের সংগীত সন্ধ্যা। ‘হাইভওয়েভ’ আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সত্তর ও আশির দশকের নির্বাচিত বাংলা ও ইংরেজি গান পরিবেশনের মধ্য দিয়ে দর্শকদের ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা থাকবে পুরোনো দিনের সুরের ভুবনে।

আয়োজনটি বড় কোনো কনসার্টের আদলে হবে না। সেটা হবে ছোট পরিসরে, ঘনিষ্ঠ পরিবেশের সংগীত সন্ধ্যা।যেখানে গান শুনতে শুনতে দর্শকের মনে ফিরে আসতে পারে শৈশব, কৈশোর, প্রথম প্রেম, বন্ধুত্ব কিংবা জীবনের কোনো বিশেষ সময়ের স্মৃতি।

এ আয়োজনের অন্যতম শিল্পী লাবু রহমান বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতের দীর্ঘ পথচলার একজন গুরুত্বপূর্ণ গিটারবাদক। তিনি ১৯৭০-এর দশকের মাঝামাঝি থেকে সংগীতচর্চা করছেন। ১৯৭৫ সালে ‘আনন্দ’ ব্যান্ডে যোগ দেওয়ার পর ১৯৭৭ সালে আজম খানের ‘উচ্চারণ’-এর সঙ্গে যুক্ত হন। পরে ‘সিম্ফনি’সহ বিভিন্ন ব্যান্ড ও মিউজিক প্রজেক্টে কাজ করেন।১৯৮৬ সালে তিনি ‘ফিডব্যাক’-এ যোগ দেন।

‘ফিডব্যাক’-এর সঙ্গে লাবু রহমানের দীর্ঘ পথচলা বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতের একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায়ের সঙ্গে যুক্ত। ‘উল্লাস’, ‘মেলা’, ‘জোয়ার’, ‘বঙ্গাব্দ ১৪০০’, ‘বাউলিয়ানা’সহ ব্যান্ডটির বেশ কিছু অ্যালবামে তাঁর সংগীত-অবদান রয়েছে।

গিটারবাদক হিসেবে তাঁর কাজের পরিধিও বিস্তৃত। বিভিন্ন সময়ে দেশের প্রতিষ্ঠিত শিল্পীদের সঙ্গে সেশন মিউজিশিয়ান হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। পাশাপাশি গিটার শিক্ষক হিসেবেও তাঁর পরিচিতি রয়েছে। তাঁর সংগীতজীবনের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো—ব্যান্ডসংগীতের পাশাপাশি তিনি কণ্ঠশিল্পী ও সুরকার হিসেবেও কাজ করেছেন।

অন্যদিকে আলী সুমনও বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতের পরিচিত নাম। শৈশব থেকেই সংগীতের সঙ্গে যুক্ত তিনি। ১৯৮৭ সালে ‘চাইম’ ব্যান্ডের ভোকালিস্ট হিসেবে যোগ দেন। পরে ১৯৯৩ সালে নিজেই ‘পেন্টাগন’ গড়ে তোলেন। ব্যান্ডটির সঙ্গে তিনি ভোকাল, অ্যাকুস্টিক গিটার বাদনের কাজ করেছেন।

১৯৯৩ সালে গঠিত ‘পেন্টাগন’ নব্বইয়ের দশকের ব্যান্ড সংগীতের একটি পরিচিত নাম হয়ে ওঠে। ব্যান্ডটির গানে বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগীতধারার প্রভাবও ছিল।

আয়োজক প্রতিষ্ঠান হাইভওয়েভের কর্ণধার ফারহাতুল জান্নাত বলেন, ‘এটি মূলত ইভেন্ট ও ক্রিয়েটিভ কাজ নিয়ে কাজ করে। আমি নিজেও বাংলাদেশ বেতারের একজন নাট্যশিল্পী ও উপস্থাপক। সাংস্কৃতিক অঙ্গনে দীর্ঘ পথ চলার অভিজ্ঞতা থেকেই সব সময় এমন আয়োজন করতে চেয়েছি, যেখানে শুধু বিনোদন নয়, মানুষের সঙ্গে একটি আবেগের সংযোগও তৈরি হবে।’

তিনি বলেন, ‘এ ভাবনা থেকেই বসুন্ধরায় ছোট পরিসরে একটি সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন করতে যাচ্ছি। সত্তর ও আশির দশকের বাংলা ও ইংরেজি গান আমাদের সংগীত জীবনের অত্যন্ত সমৃদ্ধ একটি সময়ের প্রতিনিধিত্ব করে। গানগুলোর সঙ্গে আমাদের অনেকের শৈশব, কৈশোর, ভালোবাসা, বন্ধুত্ব এবং অসংখ্য স্মৃতি জড়িয়ে আছে।’

বড় পরিসরের জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের বদলে আন্তরিক পরিবেশ তৈরিই এ আয়োজনের উদ্দেশ্য জানিয়ে ফারহাতুল জান্নাত বলেন, ‘খুব বড় বা জাঁকজমকপূর্ণ কোনো অনুষ্ঠান নয়, বরং একটি ছোট, রুচিশীল ও আন্তরিক সন্ধ্যার মধ্য দিয়ে দর্শকদের কিছু সময়ের জন্য সেই পরিচিত সুরের ভুবনে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়াই আমার মূল ভাবনা।’

অনুষ্ঠানের টিকিট Saffron Dine থেকে সংগ্রহ করা যাবে।

LEAVE A REPLY