হাফিজ সাইদ কাশ্মীরে ১০ হাজার সন্ত্রাসী পাঠিয়েছিলেন, পাকিস্তানি আলেমের দাবি

পাকিস্তানের জনপ্রিয় ইসলামী বক্তা ও আলেম আল্লামা নাসির মাদনি দাবি করেছেন, লস্কর-ই-তৈয়বার প্রধান হাফিজ সাইদ জম্মু-কাশ্মীরে ১০ হাজার লস্কর যোদ্ধা পাঠিয়েছিলেন। গত ১৪ আগস্ট পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বাহাওয়ালনগরে আয়োজিত এক সমাবেশে নাসির মাদনি এ মন্তব্য করেন।তার এ বক্তব্যে নিষিদ্ধ সংগঠন লস্কর-ই-তৈয়বা এবং এর প্রধান হাফিজ সাইদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগের স্বীকৃতি এলো।

লস্কর-ই-তৈয়বার রাজনৈতিক শাখা মারকাজি মুসলিম লীগ আয়োজিত ওই সমাবেশে নাসির মাদনি লস্করপ্রধান হাফিজ সাইদের ভূয়সী প্রশংসা করেন। সমাবেশে নাসির মাদনি ঘোষণা করেন, লস্কর-ই-তৈয়বা সফলভাবে কাশ্মীর উপত্যকায় অনুপ্রবেশ করতে সক্ষম হয়েছে। সন্ত্রাসী নেতা হাফিজ সাইদের প্রশংসা করে মাদনি তাকে এমন একজন ব্যক্তি হিসেবে চিত্রিত করেন, যিনি তার মাতৃভূমি এবং কাশ্মীরি এজেন্ডার জন্য নিজের জীবন ও সব কিছু উৎসর্গ করেছেন।

নাসির মাদনির এই বিস্ফোরক বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। ভারতের প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মাদনির এই বক্তব্যটি পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় মদদে সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ এবং ভারতের বিরুদ্ধে প্রক্সি ওয়ার পরিচালনার আরো একটি বড় প্রমাণ।

আল্লামা নাসির মাদনি পাকিস্তানের একজন সুপরিচিত এবং আলোচিত ইসলামী বক্তা। প্রথাগত ধর্মীয় আলোচনার বাইরে তার নিজস্ব বাচনভঙ্গি, কৌতুকরস এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের উপস্থিতির কারণে তিনি বেশ সমাদৃত ও বিতর্কিত।তার নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইবারের সংখ্যা ১ মিলিয়নেরও বেশি।

পাকিস্তানের গোয়েন্দা সূত্র এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নাসির মাদনির সঙ্গে পাকিস্তানের নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈয়বা এবং জৈশ-ই-মোহাম্মদের সংযোগ রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

আল-কায়েদা এবং তালেবানের সঙ্গে যোগসূত্র থাকার কারণে ২০০৫ সালে জাতিসংঘ লস্কর-ই-তৈয়বাকে নিষিদ্ধ করে। পরবর্তী সময়ে ২০০৮ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সাইদকে তাদের বৈশ্বিক সন্ত্রাসীদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে। লস্কর প্রধান হাফিজ সাইদ ভারতে একাধিক সন্ত্রাসী হামলার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিযুক্ত।২৬/১১-এর মুম্বাই হামলাসহ ভারতের প্রধান প্রধান সন্ত্রাসী হামলার তদন্তেও তার নাম এসেছে। গত জুলাই মাসে, পেহেলগাম সন্ত্রাসী হামলা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে জম্মুর একটি আদালত সাইদের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ওয়ারেন্ট জারি করে।

২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বর মুম্বাইয়ে হামলার ঘটনায় মুম্বাই পুলিশ হাফিজ সাইদসহ ৬ পাকিস্তানি আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘অনুপস্থিতিতে বিচার’ প্রক্রিয়া শুরু করেছে। ২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বর রাতে ১০ জন সন্ত্রাসী সমুদ্রপথে মুম্বাইয়ে প্রবেশ করে। পরবর্তী চার দিন ধরে তারা শহরজুড়ে সমন্বিত হামলা চালায়, যার ফলে ১৬৬ জন নিহত এবং প্রায় ৩০০ জন আহত হয়। এই হামলা মুম্বাইয়ের সবচেয়ে ব্যস্ত এবং প্রধান কিছু স্থানকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছিল।

LEAVE A REPLY