নারীদের হার্ট অ্যাটাকের গোপন ৪ সংকেত, যা অবহেলা করলেই বিপদ

সংগৃহীত ছবি

কখনো কারও হার্ট অ্যাটাকের সময় ঘটনাস্থলে যদি থেকে থাকেন, তাহলে পরবর্তীতে সেই দৃশ্য ভাবলে বিষয়টি হয়তো নাটকীয় মনে হবে। কারণ, কেউ বুকে হাত দিয়ে চেপে ধরছেন এবং মাটিতে লুটিয়ে পড়ছেন।কিন্তু সবসময় কি একইভাবে হার্ট অ্যাটাক হয়? হয় না; বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে। খবর হিন্দুস্তান টাইমস

নারীদের ক্ষেত্রে তারা এমন কিছু পরিচিত লক্ষণ অনুভব করতে পারেন না, বা পারলেও তা তুলনামূলক কম স্পষ্ট কিংবা সতর্কতামূলক লক্ষণগুলো থেকে একদমই আলাদা। এ কারণে নারীরা হার্ট অ্যাটাক করলে অনেক সময় তা বেশি ঝুঁকির সম্ভাবনা থাকে। সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অ্যানাস্থেসিওলজিস্ট এবং ইন্টারভেনশনাল পেইন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ড. কুণাল সুদ নারীদের হার্ট অ্যাটাকের নীরব চারটি সংকেত সম্পর্কে জানিয়েছেন।যেসব লক্ষণগুলো এড়িয়ে যাওয়া ঠিক নয় বলে জানিয়েছেন এ চিকিৎসক।

  • বুক চাপ বা ব্যথা

বুকে ব্যথা, চাপ বা অস্বস্তি অনুভব করাকে হার্ট অ্যাটাকের বহুল পরিচিত সতর্কতামূলক লক্ষণ হিসেবে গণ্য করা হয়। নারীরাও এই লক্ষণের সম্মুখীন হতে পারেন। ডা. কুণাল বলেন, বুকে ব্যথা, অস্বস্তি বা চাপ অবহেলা করা যাবে না।এটি বুকের মাঝখানে চাপ ধরা বা ভারী হয়ে থাকার মতো অনুভূত হতে পারে।

  • প্রত্যাশিত জায়গার বাইরে ব্যথা

নারীদের ক্ষেত্রে হার্ট অ্যাটাক শরীরের এমন কিছু জায়গায়ও ব্যথার সৃষ্টি করতে পারে, যা আপাতদৃষ্টিতে হৃদযন্ত্রের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে নাও মনে হতে পারে। যেমন- চোয়াল, ঘাড় বা হাত ব্যথা। এমনকি পিঠও ব্যথা হতে পারে। এ কারণে এসব লক্ষণগুলো সহজে উপেক্ষা করা বা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যা বলে এড়ানো উচিত নয়।চিকিৎসকের মতে, শুধু বুক নয়; এক বা উভয় হাত, পিঠ, ঘাড়, চোয়াল ও পেটের অস্বস্তির দিকেও সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে।

  • শ্বাসকষ্ট

শ্বাসপ্রশ্বাসে কষ্ট হওয়া নারীদের হার্ট অ্যাটাকের একটি অন্যতম সতর্কতামূলক লক্ষণ হতে পারে। যা অন্যান্য লক্ষণগুলো যেমন- বুকে ব্যথা বা শরীরের অন্যান্য জায়গায় অস্বস্তির সঙ্গে বা ছাড়াই এককভাবে এই লক্ষণ দেখা দিতে পারে। এ ব্যাপারে ডা. কুণাল বলেন, শ্বাসকষ্ট কখনো কখনো বুকের ব্যথা ছাড়াই বা ব্যথার সঙ্গে হঠাৎ দেখা দিতে পারে।

  • ঠান্ডা ঘাম, বমি বমি ভাব বা মাথা ঘোরা

নারীদের হার্ট অ্যাটাকের স্পষ্ট লক্ষণগুলো কম থাকলেও হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। যেমন মাথা হালকা অনুভব হওয়া, বমি বমি ভাব, বমি হওয়া বা ঠান্ডা ঘাম হওয়া। এসব লক্ষণে তাৎক্ষণিকভাবে হৃদযন্ত্রের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে নাও মনে হতে পারে। তবে এসব গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক লক্ষণ হতে পারে। যা উপেক্ষা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া জরুরি।

এছাড়া ডা. কুণাল বলেন, ঠান্ডা ঘাম, বমি ভাব বা মাথা ঘোরা- এসব সমস্যা ফ্লু বা মানসিক চাপের মতো মনে হতে পারে। এসব সমস্যা হঠাৎ শুরু হলে সতর্ক হতে হবে। অনেক নারীর ক্ষেত্রে লক্ষণগুলো বেশ সূক্ষ্ম বা মৃদু হয়ে থাকে। যা অ্যাসিড রিফ্লাক্স (বুক জ্বালা), ফ্লু বা বয়স বেড়ে যাওয়ার কারণে সমস্যা বলে মনে হতে পারে। এ ক্ষেত্রেও বসে না থেকে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণ করা উচিত।

LEAVE A REPLY