মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু বলেছেন, সার ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমকে আরো সুশৃঙ্খল ও নির্বিঘ্ন করতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে। এ লক্ষ্যে দেশের ৬৪ জেলায় সার মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘সার সরবরাহ ও বিতরণ ব্যবস্থা আরো উন্নত ও কার্যকর করতে সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।’
বুধবার জাতীয় সংসদে পাবনা-১ আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান কার্যপ্রণালি বিধির ৬৮ বিধিতে সারসংকট নিয়ে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা শুরু করলে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন।
তিনি জানান, দেশে সারের চাহিদা ৩৫ লাখ ৮৭ হাজার টন। বিপরীতে বর্তমানে মজুদ রয়েছে ৫১ লাখ ৭১ হাজার টন।ফলে দেশে প্রায় ১৫ লাখ ৮৪ হাজার টন সার উদ্বৃত্ত থাকবে।
সার বিতরণব্যবস্থা নির্বিঘ্ন রাখতে দেশের প্রতিটি মনিটরিং সেল দুজন করে যুগ্মসচিব ও উপসচিবের তত্ত্বাবধানে কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘দেশের যেকোনো স্থান থেকে কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে মনিটরিং সেলগুলো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে।’
সার ডিলার নিয়োগ প্রসঙ্গে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়া ডিলারদের মাধ্যমেই এত দিন সার ডিলারশিপ পরিচালিত হয়ে আসছে।এসব ডিলারের মধ্যে প্রায় ৩ হাজার ৭৫৯ জন পালিয়ে গেছে। ফলে এসব স্থানে বর্তমানে ডিলারশিপ শূন্য রয়েছে।
শূন্য ডিলারশিপ পূরণে ইউনিয়ন পর্যায়ে সরকার আরো ৪ হাজার ৯১৮ জন নতুন ডিলার নিয়োগ দেবে জানিয়ে তিনি বলেন, এসব ডিলার নিয়োগের পর প্রত্যেক ডিলার ইউনিয়ন পর্যায়ে আরো দুজন করে অতিরিক্ত ডিলার নিয়োগ করবেন।
এভাবে ডিলার সফলভাবে নিয়োগ দেওয়া হলে সার ব্যবস্থাপনা আরো উন্নত হবে এবং সারাদেশে সুষ্ঠু সার সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী।
ঢাকার বাতাস আজ ‘অস্বাস্থ্যকর’, বায়ুদূষণে শীর্ষে লাহোর
বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের সারসংকটের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে আমন ধান পাকা পর্যায়ে রয়েছে।তাই কৃষকদের মধ্যে সারের ব্যাপক চাহিদা নেই। কৃষকরা আসন্ন বোরো মৌসুমের জন্য এখন সার কিনে মজুদ করার চেষ্টা করছেন। এ কারণে দেশে নন-ইউরিয়া সারের অতিরিক্ত চাহিদা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সার ব্যবস্থাপনায় বিদ্যমান অব্যবস্থাপনা দুর্নীতির সুযোগ তৈরি করছে—বিরোধী দলের এমন অভিযোগের সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার এখনো নতুন ডিলার নিয়োগ দেয়নি। কারণ ডিলার নিয়োগের আবেদন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ১০ সেপ্টেম্বর। তাহলে দুর্নীতির অভিযোগ কিভাবে ওঠে—বিরোধী দলের প্রতি এমন প্রশ্ন রাখেন তিনি।
তিনি বলেন, ক্ষমতাচ্যুত ফ্যাসিস্টরা সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। তারা বর্তমান সুস্থ গণতান্ত্রিক পরিবেশ পছন্দ করছে না।
সরকারের বিরুদ্ধে কোনো ষড়যন্ত্র বা নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে না জড়ানোর জন্য বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো ষড়যন্ত্র করে বিরোধী দলের লাভ হবে না।
‘কৃষক কার্ড’ চালু করাকে কৃষকদের জন্য সম্মানের বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিরোধী দল বিভিন্নভাবে এ উদ্যোগের সমালোচনা করেছিল। এখন তারা বুঝতে পারছে যে সরকার একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
আলোচনায় অংশ নিয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় দেশে সারের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে।
তিনি জানান, ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে ইউরিয়ার মজুদ ৪ লাখ ১৮ হাজার টন, ট্রিপল সুপার ফসফেট (টিএসপি) ৩ লাখ ৪৩ হাজার টন, ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট (ডিএপি) ৩ লাখ ২ হাজার টন এবং মিউরিয়েট অব পটাশ (এমওপি) ১ লাখ ৭৮ হাজার ৯০০ টন।
এ ছাড়া পরিবহনের পথে রয়েছে ১ লাখ ২৮ হাজার ২০০ টন টিএসপি, ১ লাখ ১৪ হাজার ৬০০ টন ডিএপি এবং ১ লাখ ৮৯ হাজার ৪০০ টন এমওপি।
তিনি বলেন, বর্তমানে সারা দেশে ১ হাজার ১০৫ জন মূল ডিলার এবং ৩১ হাজার ৬০০ জন খুচরা ডিলার রয়েছেন। আরো ৮ হাজার ৬৮৭ জন নতুন ডিলার এবং ১৬ হাজার খুচরা ডিলার নিয়োগ করা হলে সার বিতরণ ব্যবস্থা আরো নির্বিঘ্ন হবে।
নতুন ‘সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ সমন্বিত নীতিমালা-২০২৬’-এ স্থানীয় সংসদ সদস্যদের সার ব্যবস্থাপনা কমিটি থেকে বাদ দেওয়ার অভিযোগের জবাবে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী বলেন, ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্যরা প্রকৃতপক্ষে স্থানীয় সার ব্যবস্থাপনা কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হতে আগ্রহী নন। কারণ, নতুন নীতিমালা বাস্তবায়নের ফলে তৃণমূল পর্যায়ে সার ব্যবস্থাপনা ও সরবরাহে অব্যবস্থাপনা কমবে।
বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম বলেন, ‘আমাদের প্রধান লক্ষ্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কল্যাণে কাজ করা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় আমরা নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছি।’
আলোচনায় কুড়িগ্রাম-৩ আসনের এম মাহবুবুল আলম, পটুয়াখালী-২ আসনের এম শফিকুল ইসলাম এবং পাবনা-১ আসনের মোহাম্মদ নজিবুর রহমান অংশ নেন।










































