মারা গেছেন হংকংয়ের প্রথম সরকারপ্রধান তুং চি-হুয়া

ব্রিটেনের কাছে থেকে ১৯৯৭ সালে চীনের অধীনে যাওয়ার পর হংকংয়ের প্রথম প্রধান নির্বাহী (লিডার) হয়েছিলেন তুং চি-হুয়া। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) পরিবার ও প্রিয়জনদের উপস্থিতিতে ৮৯ বছর বয়সে তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) তার কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে এনডিটিভি

বিবৃতিতে বলা হয়, তুং চি-হুয়া অত্যন্ত নিষ্ঠা, সততা ও মর্যাদার সাথে হংকং এবং দেশের সেবায় নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন। তার অবদানের কথা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

১৯৯৭ সালে ব্রিটেনের কাছ থেকে চীনের অধীনে হংকং হস্তান্তরের পর বেইজিংয়ের মনোনীত এই সাবেক জাহাজ ব্যবসায়ী শহরের শীর্ষ পদে দায়িত্ব নেন।তবে ২০০৫ সালে শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করার পূর্ব পর্যন্ত তার আট বছরের মেয়াদটি ছিল অত্যন্ত ঝঞ্ঝাপূর্ণ ও রাজনৈতিকভাবে উত্তাল। ঔপনিবেশিক শাসন থেকে হংকংয়ের উত্তরণের সময়ে তিনি বেইজিং ও হংকংয়ের মধ্যে একটি সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করেছিলেন। তার প্রাথমিক মেয়াদে হংকং একের পর এক বড় সংকটের মুখোমুখি হয়। ১৯৯৭ সালের এশীয় আর্থিক সংকট ও বার্ড ফ্লু, আবাসন বাজারে ধস, রেকর্ড বেকারত্ব, ২০০৩ সালের প্রাণঘাতী সার্স মহামারী করতে গিয়ে তার সরকারকে চরম বেগ পেতে হয়।এ ছাড়া ২০০৩ সালের জুলাইয়ে চীনের প্রস্তাবিত একটি কঠোর রাষ্ট্রদ্রোহিতাবিরোধী আইনের বিরুদ্ধে হংকংয়ের রাজপথে নেমে আসে প্রায় ৫ লাখ মানুষ। ব্যাপক গণবিক্ষোভের মুখে সরকার তখন বিলটি স্থগিত করতে বাধ্য হয়। ২০০৪ সালে গণতন্ত্রের দাবিতে হংকংয়ে পুনরায় বিক্ষোভ শুরু হয়। একই বছর ডিসেম্বরে দুর্বল কর্মক্ষমতার জন্য চীনের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হু জিনতাও প্রকাশ্যে তুং ও তার মন্ত্রিসভাকে তিরস্কার করেন।

১৯৩৭ সালে সাংহাইয়ের এক ধনাঢ্য ব্যবসায়ী পরিবারে জন্মগ্রহণকারী তুং শিক্ষাজীবনে যুক্তরাজ্যে মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনা করেন।বেইজিংয়ের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের সুবাদে পরবর্তীতে তিনি রাজনীতিতে প্রবেশ করেন এবং হংকংয়ের সংবিধান ‘বেসিক ল’ প্রণয়ন কমিটির যুক্ত ছিলেন।

২০০৫ সালে পদত্যাগের পর তার স্থলাভিষিক্ত হন ডেপুটি ডোনাল্ড সাং। শীর্ষ পদ ছাড়ার পরও তুং চীনের প্রবীণ রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে বেইজিংয়ের শীর্ষ রাজনৈতিক উপদেষ্টা সংস্থার ভাইস চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব পালন করেন। এমনকি ২০১৪ সালে হংকংয়ের ছাত্র বিক্ষোভের সময়ে তিনি তরুণদের আন্দোলন ছেড়ে ঘরে ফেরার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি আর জনসমক্ষে তেমন আসেননি।

LEAVE A REPLY