পাশে বসে খেলা দেখলেন, মাতলেন হাসিতেও—শুধু ট্রফিটাই নিলেন না

পিসিবি চেয়ারম্যান নাকভি ও বিসিসিআই সচিব সাইকিয়াকে কথা বলতে দেখা যায়। এ সময় তাদের পেছনেই ছিলেন বিসিসিআইয়ের সহসভাপতি রাজীব শুক্লা। ছবি : সংগৃহীত

মেয়েদের এশিয়া কাপ ফাইনাল চলাকালে দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামের ভিআইপি গ্যালারিতে কয়েকবার টিভি ক্যামেরা ঘোরানো হলো। সেখানে বেশ সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশের দেখা মিলল।

ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) সহসভাপতি রাজীব শুক্লা ও সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) সভাপতি ও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নাকভির পাশে বসেই ভারত-শ্রীলঙ্কা ম্যাচ উপভোগ করছেন। নাকভির সঙ্গে সাইকিয়াকে কথা বলতে ও কোনো এক বিষয় নিয়ে হাসতেও দেখা যায়। 

সেই দৃশ্য দেখে অনেকে হয়তো ভেবেছিলেন, ভারত-পাকিস্তানের শীতল সম্পর্কের বরফ বুঝি গলেছে। গত বছর ছেলেদের এশিয়া কাপে চ্যাম্পিয়ন দল ভারত নাকভির হাত থেকে ট্রফি না নিলেও এবার মেয়েরা চ্যাম্পিয়ন হলে হয়তো নেবেন।

শ্রীলঙ্কাকে ৭২ রানে হারিয়ে ভারতই চ্যাম্পিয়ন হলো। রানার্সআপের পুরস্কার নিতে চামারি আতাপাত্তুর নেতৃত্বাধীন লঙ্কানরা ঠিকই পোডিয়ামে দাঁড়ানো নাকভির কাছে গেলেন। 

BCCI
ট্রফি ছাড়াই উদযাপন করেছে ভারত নারী দল। ছবি : বিসিসিআই

কিন্তু ভারতীয় ওপেনার স্মৃতি মান্ধানা নাকভিকে পোডিয়ামে দেখেই মাঠ ছাড়তে চাইলেন।মান্ধানার মতো ফাইনালের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান বর্জন করলেন তার সতীর্থরাও। সূর্যকুমার যাদবের দলকে অনুসরণ করে হারমানপ্রীত কৌরের দলও ট্রফি ছাড়াই এশিয়া কাপ জয় উদযাপন করল।

কিছুক্ষণ আগেও বিসিসিআইয়ের যে শীর্ষ পরিচালকরা নাকভির পাশে বসে খেলা দেখলেন, হাসি-ঠাট্টায় মাতলেন, সেই তারাই নাকভির কাছ থেকে ট্রফি নিতে দলকে বাধ্য করতে পারলেন না!

এর কারণ চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বৈরিতার এখনো সুরাহা না হওয়া। গত বছর কাশ্মীরের পেহেলগামে হামলার জেরে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে নতুন করে সামরিক সংঘাত শুধু হয়। পরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও শীতল সম্পর্ক রয়েই গেছে।

মহসিন নাকভি শুধু এসিসির সভাপতি ও পিসিবির চেয়ারম্যানই নন; পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও। তাই নরেন্দ্র মোদির সরকার পাকিস্তানের কোনো শীর্ষ রাজনৈতিক নেতার হাত থেকে ভারতীয় দলকে ট্রফি গ্রহণ না করার নির্দেশ দিয়েছে। হারমানপ্রীত-মান্ধানা-শেফালিরা সেই নির্দেশই মেনে চলেছেন।

ফাইনাল-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে ভারত নারী দলের প্রধান কোচ অমল মজুমদার এ ব্যাপারে বলেন, ‘ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে এশিয়া কাপের চ্যাম্পিয়ন। আমরা ট্রফি পেলাম কি পেলাম না, সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। নাকভির কাছ থেকে ট্রফি না নেওয়া—এটা বিসিসিআইয়ের অবস্থান। এ বিষয়ে আমি এর চেয়ে বেশি কিছু বলতে পারি না।’

গত বছরের ঘটনার পর ছেলেদের এশিয়া কাপের ট্রফিটি এখনো ভারতের কাছে পৌঁছায়নি। সেটি দুবাইয়ে এসিসির কার্যালয়ে রাখা হয়েছে। এবার মেয়েদের ট্রফিও সেখানে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

LEAVE A REPLY