হৃদরোগীদের নীরবে কিডনি রোগ হচ্ছে না তো, জেনে নিন এই ৫ পরীক্ষায়

সংগৃহীত ছবি

কারো হার্টের বা হৃদযন্ত্রের রোগ নির্ণয় করার জন্য স্বাভাবিকভাবেই ইসিজি, ইকোকার্ডিওগ্রাম, কোলেস্টেরল পরীক্ষা এবং রক্তচাপ পরিমাপের মতো বিষয়গুলো পরীক্ষার প্রয়োজন হয়ে থাকে। এসব নিয়মিত চিকিৎসার অংশ হয়ে ওঠে।তবে আরো একটি অঙ্গ রয়েছে, যা অবহেলা করার মতো নয়। তা হলো কিডনি। খবর এনডিটিভি

হৃৎপিণ্ড ও কিডনি একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে। হৃৎপিণ্ড কিডনিতে রক্ত পাম্প করে পাঠায়, অন্যদিকে কিডনি শরীরের তরল পদার্থ, ইলেকট্রোলাইটস ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।এর মধ্যে কোনো একটি অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হলে অপরটির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হতে পারে। সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বরাতে বলা হয়েছে, কিডনি রোগ যেমন হৃদরোগের কারণ হতে পারে, একইভাবে হৃদরোগের কারণে কিডনি রোগ হতে পারে। আর ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের মতো স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সমস্যা তো উভয় অঙ্গের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে।

জটিলতা হচ্ছে, দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগ প্রায়ই কোনো ধরনের লক্ষণ ছাড়াই নীরবে বাসা বাঁধে।কোনো ব্যথা, প্রস্রাবের পরিবর্তন বা স্পষ্ট লক্ষণ ছাড়াই একজন মানুষের কিডনি ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষ করে যাদের আগে থেকেই হৃদরোগ, হার্ট ফেইলিউর, উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবেটিস রয়েছে, তাদের নিয়মিত কিডনি পরীক্ষা করা উচিত। তা না হলে নিজের অজান্তেই নীরবে কিডনির ক্ষতি হতে পারে।

  • সিরাম ক্রিয়েটিনিন ও ইজিএফআর

সিরাম ক্রিয়েটিনিন একটি সাধারণ রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে পরিমাপ করা হয়। এটি একটি বর্জ্য পদার্থ, যা স্বাভাবিক অবস্থায় কিডনি শরীর নিঃসরণ করে।চিকিৎসকরা ক্রিয়েটিনিনের ফলাফলের সঙ্গে অন্য সব বিষয় বিবেচনা করে আনুমানিক গ্লোমেরুলার ফিল্ট্রেশন রেট বা ইজিএফআর হিসাব করে থাকেন, যা কিডনি ঠিক কত দক্ষতার সঙ্গে ছাঁকন করছে, সেটি নির্দেশ করে থাকে।

ইজিএফআর’র মান যদি ন্যূনতম তিন মাস ধরে ৬০ এমল/min/1.73 m²-এর কম থাকে, তাহলে সেটি দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগের ইঙ্গিত হতে পারে। তবে শুধু একটি পরীক্ষায় অস্বাভাবিক ফল এলেই নিশ্চিত কিডনি রোগ ভাবা যাবে না। এ জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন।

  • অ্যালবুমিন-টু-ক্রিয়েটিনিন অনুপাত

কিডনির প্রাথমিক ক্ষত শনাক্ত করার জন্য সেরা উপায়গুলোর একটি হচ্ছে ইউরিন অ্যালবুমিন-টু-ক্রিয়েটিনিন অনুপাত পরীক্ষা করা। সুস্থ কিডনি অ্যালবুমিন নামের রক্তের প্রোটিনকে শরীরে ধরে রাখে। কিন্তু কিডনির ফিল্টার যদি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে অ্যালবুমিন প্রস্রাবের সঙ্গে বের হতে থাকে। ইউরিন অ্যালবুমিন-টু-ক্রিয়েটিনিন’র মান যদি ৩০ mg/g-এর বেশি হয়, তাহলে ইজিএফআর’র মান ৬০-এর বেশি থাকলেও তা কিডনি রোগের ইঙ্গিত দিতে পারে। এ জন্য রক্ত পরীক্ষা স্বাভাবিক এলেও প্রস্রাবে অ্যালবুমিনের উপস্থিতি অবহেলা করা যাবে না।

মনে রাখা উচিত, ইজিএফআর এবং ইউরিন অ্যালবুমিন-টু-ক্রিয়েটিনিন একে অপরের পরিপূরক তথ্য প্রদান করে। ২০২৪ সালের কেডিআইজিও সিকেডি দিকনির্দেশনায় কিডনির ছাঁকন ক্ষমতা এবং অ্যালবুমিনের উপস্থিতি উভয় পরীক্ষার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। কেননা, দুটিই ঝুঁকির মাত্রা ঠিকঠাকভাবে নির্ধারণে ভূমিকা রাখে।

  • রক্তচাপ

রক্তচাপ হচ্ছে হৃৎপিণ্ড ও কিডনি, উভয়ের স্বাস্থ্যের একটি সূচক। দীর্ঘদিন যদি অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ থাকে, তাহলে কিডনির ভেতরের সূক্ষ্ম রক্তনালিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। আবার কিডনির কার্যক্ষমতা হ্রাস পেলেও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। এ জন্য রক্তচাপ ক্রমশ বেশি থাকলে বা নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হলে কিডনি পরীক্ষার ব্যাপারে চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত।

  • ব্ল্যাক গ্লুকোজ (এইচবিএ১সি)

ডায়াবেটিস হৃদরোগ ও কিডনি রোগ―উভয় ক্ষেত্রেই বড় ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়। রক্তে অতিরিক্ত গ্লুকোজ কিডনির ছাঁকন এককগুলোকে ধীর গতিতে ক্ষতি করতে পারে। এর প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে প্রস্রাবে অ্যালবুমিন দেখা দিয়ে থাকে। এ কারণে আমেরিকান ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশন টাইপ-২ ডায়াবেটিস আক্রান্তদের বছরে অন্তত একবার ইজিএফআর এবং ইউরিন অ্যালবুমিন-টু-ক্রিয়েটিনিন পরীক্ষা করার পরামর্শ প্রদান করে।

  • সাধারণ প্রস্রাব পরীক্ষা

একটি সাধারণ প্রস্রাব পরীক্ষার ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ কিছুর ইঙ্গিত দিতে পারে। যেমন—প্রস্রাবে রক্ত, প্রোটিন বা অন্য কোনো অস্বাভাবিকতার উপস্থিতি জানান দিতে পারে। যদিও তা সিকেডি মূল্যায়নে ইজিএফআর এবং ইউরিন অ্যালবুমিন-টু-ক্রিয়েটিনিন’র বিকল্প নয়। তবে সাধারণ প্রস্রাব পরীক্ষা চিকিৎসকের সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে সহায়ক হয় এবং গভীরভাবে বুঝতে সহযোগিতা করে।

LEAVE A REPLY