মা ইরিনা জভেরেভার সঙ্গে আলেকজান্ডার জভেরেভ। ছবি : এপি
নিউইয়র্কের ফ্লাশিং মিডোসের কোর্টে আলেকজান্ডার জভেরেভ উঁচিয়ে ধরেছেন ইউএস ওপেনের ট্রফি। অন্তত আগামী এক বছরের জন্য এই কোর্টের নতুন রাজা তিনি।
কিন্তু জভেরেভের কাছে এই জয় শুধু আরেকটি গ্র্যান্ড স্লাম নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে শৈশবের লড়াই, অসুস্থতা আর মায়ের অদম্য বিশ্বাস।
ফাইনালে যুক্তরাষ্ট্ররে বেন শেল্টনকে ৬-৩, ৭-৬ (৭-২), ৫-৭, ৬-২ গেমে হারিয়ে প্রথমবার ইউএস ওপেন জিতেছেন জভেরেভ। জার্মানির এই টেনিস তারকা এর তিন মাস আগে জিতেছিলেন ফ্রেঞ্চ ওপেন।
ট্রফি হাতে নেওয়ার পর জভেরেভ বিশেষভাবে স্মরণ করেছেন তার মা ইরিনা জভেরেভাকে। বিলুপ্ত সোভিয়েত ইউনিয়নের পেশাদার টেনিস খেলোয়াড় ইরিনা পরে কোচ হিসেবেও কাজ করেছেন। জভেরেভের টেনিস ক্যারিয়ার গড়ে তোলার পেছনে তার বড় অবদান আছে।
মাকে নিয়ে বলতে গিয়ে আবেগ সামলাতে পারেননি ২৯ বছর বয়সী জভেরেভ।তিনি বলেন, ‘আমি এমন একজন মানুষকে ধন্যবাদ দিতে চাই, যিনি আসলে আমার ম্যাচ কখনো দেখেন না। কিন্তু আমার টেনিস ক্যারিয়ার এবং সাধারণ জীবন—দুই ক্ষেত্রেই তিনি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষ।’
এরপর জভেরেভ বলতে থাকেন, ‘চার বছর বয়সে আমার টাইপ-১ ডায়াবেটিস ধরা পড়েছিল। চিকিৎসকেরা তখন বলেছিলেন, এই শিশুর জীবন ও খেলাধুলার সুযোগ অনেকটাই সীমিত হয়ে যেতে পারে।’
কিন্তু ইরিনা সেই কথা মেনে নেননি।জভেরেভের ভাষায়, ‘এমন পরিস্থিতিতে একজন মায়ের পক্ষে চিকিৎসকের সেই কক্ষ থেকে বেরিয়ে এসে বলা যে, আমার ছেলে যা হতে চায়, সে তা-ই হবে—এটা ভীষণ শক্ত মনের পরিচয়। মা তখন দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেছিলেন, অসুস্থতা কখনো আমার জীবনকে সংজ্ঞায়িত করবে না।’
মায়ের সেই বিশ্বাসের কথাই ইউএস ওপেন জয়ের পর আবার মনে করিয়ে দিয়েছেন জভেরেভ। বলেছেন, ‘আমি খুব খুশি যে আমরা সেই কঠিন সময় একসঙ্গে পার করে এসেছি এবং লক্ষ্যে পৌঁছাতে পেরেছি। মা যা করেছেন, তা করতে সত্যিই অসাধারণ এক সাহসী নারী হতে হয়।’









































