ইয়েমেনে সংঘাত তীব্রতর, হরমুজ নিয়ে ইরানের সঙ্গে উপসাগরীয় দেশের বৈঠক স্থগিত

ইয়েমেন সংঘাত তীব্র আকার ধারণ ও  হুথি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক হামলার প্রেক্ষিতে হরমুজ নিয়ে ইরানের সাথে উপসাগরীয় দেশের বৈঠক স্থগিত করা হয়েছে। সৌদি আরব ও অন্যান্য উপসাগরীয় দেশের অনুরোধে পূর্বনির্ধারিত বৈঠকটি স্থগিত করা হয়েছে।সোমবার ওমানে হরমুজ প্রণালি বিষয়ক বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। খবর দ্য গার্ডিয়ান

ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়িদ বদর আলবুসাইদি জানিয়েছেন, সবার মধ্যে ঐকমত্য ও সমঝোতা তৈরির স্বার্থেই বৈঠকটি আপাতত পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, এ অঞ্চলের স্থিতিশীলতা ও দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার জন্য আলোচনা চালিয়ে যেতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে বৈঠকটি পেছানোর সুনির্দিষ্ট কারণ বা বিস্তারিত আর কিছু জানাননি তিনি।

এই বৈঠকটি সফল হলেও হরমুজ প্রণালি সঙ্গে সঙ্গে উন্মুক্ত হতো না। কারণ ইরান আগে থেকেই বেশ কিছু কঠিন শর্ত দিয়ে রেখেছে। এসব শর্তের মধ্যে রয়েছে—ইরানের তেল বন্দরগুলোর ওপর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ তুলে নেওয়া, তাদের আটকে থাকা সব সম্পদ ফেরত দেওয়া এবং লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা।

তবে বৈঠকটি স্থগিত হওয়া বড় একটি ধাক্কা, কারণ দীর্ঘ দুই বছর পর ইরান ও জিসিসিভুক্ত (উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ)  মূল দেশগুলোর মধ্যে এটিই হতো প্রথম কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা।এই বৈঠকে জাহাজ চলাচলের জন্য একটি অস্থায়ী রুট নিয়ে চুক্তি হওয়ার কথা ছিল, যা কার্যকর হলে নৌ-রুটটি পুরোপুরি ইরানের জলসীমায় পড়ত এবং প্রণালিটির ওপর তেহরানের নিয়ন্ত্রণ আরো পাকাপোক্ত হতো।

ইরানের কর্মকর্তারা জানান, উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর সঙ্গে বৈঠকটিতে তাঁরা অংশ নেবেন। ওই বৈঠকে হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল কিভাবে পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে ওমানের সঙ্গে করা একটি চুক্তি তুলে ধরার কথা ছিল।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র ইরানের ফারস নিউজকে বলেন, এ অঞ্চলের কয়েকটি দেশের অনুরোধে ওমানে অনুষ্ঠেয় বৈঠকটি স্থগিত করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত তেহরান ও মাসকাট যৌথভাবে নিয়েছে।ওমানের সঙ্গে সমন্বয় করে বৈঠকের নতুন তারিখ ঠিক করা হবে।

সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ পাইপলাইনটি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের পরপর ইরানের সঙ্গে প্রতিবেশীদের বৈঠক স্থগিতের খবর পাওয়া গেল। আপাতত বন্ধ থাকা এ পাইপলাইন হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে মধ্যপ্রাচ্যের তেল পরিবহনের প্রধান পথ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল।

LEAVE A REPLY