‘শোবার ঘরটা নীল হোক, আকাশের মতো’—নব্বই দশকের সেই জনপ্রিয় বিজ্ঞাপনের কথা মনে পড়লেই অনেকের চোখের সামনে ভেসে ওঠে লামিয়া তাবাসসুম চৈতীর মুখ। আবার জুঁই নারকেল তেলের ‘হারানো সেই দিন, মনে ভাসে আজও’ জিংগেলটিও যেন ফিরিয়ে নেয় সেই সময়ের স্মৃতিতে।বিজ্ঞাপনচিত্রে স্বল্প উপস্থিতিতেই দর্শকের মনে জায়গা করে নিয়েছিলেন চৈতী। তবে জনপ্রিয়তার পরও অভিনয় বা মডেলিংয়ে নিয়মিত হননি তিনি।
প্রায় দুই দশক পর নতুন আয়োজনে বার্জার পেইন্টসের সেই বিজ্ঞাপনে আবারও ফিরেছিলেন চৈতী। কিন্তু এরপর ফের নিজেকে সরিয়ে নেন ক্যামেরার জগৎ থেকে।সর্বশেষ তাকে দেখা গেছে ম্যাগি নুডলসের একটি বিজ্ঞাপনে। এরপর আর কোনো কাজে দেখা যায়নি তাকে।

আজ শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) চৈতীর জন্মদিন। রাত ১২টা পেরোনোর পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুভেচ্ছা ও ভালোবাসায় সিক্ত হচ্ছেন তিনি।বিশেষ এই দিনটি পরিবারের সঙ্গেই কাটাচ্ছেন জনপ্রিয় এই মডেল।
কালের কণ্ঠের সঙ্গে আলাপকালে জন্মদিনের অনুভূতি জানিয়ে লামিয়া তাবাসসুম চৈতী বলেন, ‘ফেসবুকে, মেসেঞ্জারে, ফোন কলে সবার এত এত শুভেচ্ছা পাচ্ছি, আমি সত্যি অনেক আপ্লুত। সবার ভালোবাসা দেখে মনে হচ্ছে, আমার জন্ম যেন সার্থক। জন্মদিনটা এলে আমার কাছে এটাই মনে হয়। দিনটা সব সময় পরিবারের সঙ্গেই কাটানো হয়।এখন পরিবারের সবাইকে সঙ্গে নিয়ে বাহিরে ডিনার করতে যাব। মনে হচ্ছে, আমার জন্য কোনো একটা সারপ্রাইজ অপেক্ষা করছে।’
কাজ থেকে দূরে থাকলেও অভিনয় কিংবা মডেলিংয়ে ফেরার আগ্রহ রয়েছে চৈতীর। তবে তার ভাষ্য, নিয়মিত কাজের প্রস্তাবই তেমন আসে না। মজার ছলে তিনি বলেন, ‘আমি তো কাজ করতে চাই কিন্তু পরিচালকরা হয়তো আমাকে এপ্রোচ করতে ভয় পান!’

এ প্রসঙ্গে চৈতী বলেন, ‘ব্যস্ততার কারণেই মূলত এখন আর সেভাবে নিয়মিত কাজ করা হয় না। আর এটাও সত্য, আমার কাছে ওভাবে অনেক কাজ আসে না। পরিচালকরা হয়তো আমাকে এপ্রোচ করতে ভয় পান! আর যেগুলোর প্রস্তাব আসে সেগুলো আমার পছন্দ হয় না। পছন্দ হবে এরকম গল্প বা কনসেপ্ট নিয়ে এলে আমি অবশ্যই কাজ করতে চাই।’
লামিয়া তাবাসসুম চৈতী তারকা মডেল সাদিয়া ইসলাম মৌয়ের খালাতো বোন। চৈতীর ক্যারিয়ারের শুরুটাও হয়েছিল মৌয়ের মা প্রয়াত রাশা ইসলামের সঙ্গে মডেলিংয়ের মাধ্যমে। পরবর্তী সময়ে ভারতের প্রখ্যাত নির্মাতা রাজীব মেননের পরিচালনায় ‘রেক্সোনা’র বিজ্ঞাপনে মডেল হন তিনি।
রাজীব মেনন সে সময় ‘সাপনে’ সিনেমাটি নির্মাণ করেছিলেন। এতে অভিনয় করেছিলেন কাজল, প্রভু দেবা ও অরবিন্দ স্বামী। পরবর্তী সময়ে তিনি পরিচালনা করেন তামিল সিনেমা ‘কান্ডুকোন্ডাইন কান্ডুকোন্ডাইন’, যেখানে অভিনয় করেন ঐশ্বরিয়া রাই, টাবু, মাম্মুটি ও অজিত।
চৈতীর ক্যারিয়ার ছিল অল্প সময়ের। তবে সংখ্যায় কম কাজ করেও বিজ্ঞাপনচিত্রে নিজের স্বতন্ত্র উপস্থিতি ও অভিনয়গুণে দর্শকের মনে জায়গা করে নিয়েছিলেন তিনি। বিজ্ঞাপনের পাশাপাশি ২০০০ সালে বিটিভিতে প্রচারিত ‘ছবির মতো মেয়ে’ নামের একটি টেলিফিল্মে অভিনয় করেন চৈতী। ইমদাদুল হক মিলনের গল্পে নির্মিত টেলিফিল্মটি পরিচালনা করেছিলেন নন্দিত নির্মাতা ও অভিনেতা আফজাল হোসেন। এতে চৈতীর বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন আফজাল হোসেন ও মনির খান শিমুল। ‘ছবির মতো মেয়ে’ই হয়ে ওঠে ক্যামেরার সামনে চৈতীর শেষ অভিনয়। এরপর আর কোনো নাটক বা টেলিফিল্মে দেখা যায়নি তাকে।
অভিনয়ের বাইরে শিক্ষকতার সঙ্গেও যুক্ত চৈতী। এই পেশায়ও কেটে গেছে প্রায় ২৫ বছর। দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষকতা করলেও নব্বই দশকের সেই বিজ্ঞাপনের মুখ হিসেবে এখনো দর্শকের স্মৃতিতে উজ্জ্বল তিনি।











































