সংগৃহীত ছবি
ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) শাসনাধীন খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে সরকার ভেঙে দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি। রবিবার (১১ অক্টোবর) প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানা গেছে। এর মধ্য দিয়ে এখন প্রদেশটিতে গভর্নরের শাসন জারি হলো।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সরকার ও কারাবন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পিটিআইয়ের মধ্যে চলমান রাজনৈতিক বিরোধের মধ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।
পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে ক্ষমতায় রয়েছে পিটিআই। জরুরি অবস্থা ঘোষণার পর প্রদেশটির নির্বাচিত প্রশাসনের ক্ষমতা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত দেশটির চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।খবর রয়টার্স ও জিও নিউজ।
রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারির কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রদেশটিতে সন্ত্রাসী হামলার ক্রমবর্ধমান ঘটনা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির পরিপ্রেক্ষিতে সংবিধানের ২৩২ অনুচ্ছেদের অধীনে জরুরি অবস্থা জারির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রাষ্ট্রপতি।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের (পিএমও) এক বিবৃতিতে জানানো হয়, খাইবার পাখতুনখাওয়ায় জরুরি অবস্থা জারির প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য রাষ্ট্রপতি আসিফ আলী জারদারির কাছে পাঠানো হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রদেশটির আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে সদস্যদের অবহিত করা হয়।বৈঠকে সন্ত্রাসবাদ দমনে কেপি সরকারের ইচ্ছাকৃত নিষ্ক্রিয়তা এবং প্রদেশটির অবনতিশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। প্রদেশটিতে ক্ষমতায় রয়েছে ইমরান খানের দল পিটিআই।
ফজলুর রহমানের মাধ্যমে শেষ চেষ্টা
কেপির পরিস্থিতি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে জমিয়ত উলেমা-ই-ইসলাম-ফজল (জেইউআই-এফ) প্রধান মাওলানা ফজলুর রহমানের মাধ্যমে শেষবারের মতো চেষ্টা চালানোর প্রস্তাব দিয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। রবিবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ প্রস্তাব দেয়া হয় বলে সূত্র জানিয়েছে।
বৈঠকে সদস্যরা প্রদেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বৃদ্ধির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।খাইবার পাখতুনখোয়ার সরকার সন্ত্রাসবাদবিরোধী লড়াই থেকে ইচ্ছাকৃতভাবে দূরে সরে রয়েছে বলেও উদ্বেগ জানান তারা।
বৈঠকের সময় উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার টেলিফোনে মাওলানা ফজলুর রহমানের সঙ্গে কথা বলেন বলে সূত্র জানিয়েছে। এর আগে রবিবার ভোর ৬টায় প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে শেহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক করেন ফজলুর রহমান। বৈঠকে উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারও উপস্থিত ছিলেন। পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) নেতৃত্ব এবং বিরোধী দলের অন্যান্য প্রতিনিধিদের সঙ্গে তার বৈঠক নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন ফজলুর রহমান।
গভর্নরের হাতে যেতে পারে প্রদেশের নিয়ন্ত্রণ
কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর খাইবার পাখতুনখাওয়ার নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেন প্রদেশটির গভর্নর ফয়সাল করিম কুন্ডি। সাবেক ফেডারেলি অ্যাডমিনিস্টার্ড ট্রাইবাল এরিয়াস (ফাটা), ট্যাঙ্ক, ডেরা ইসমাইল খান, লাক্কি মারওয়াত ও বান্নুসহ আটটি জেলার জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।
প্রস্তাবিত সচিবালয়ে একজন অতিরিক্ত মুখ্য সচিব এবং একজন অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) থাকবেন। এর সদর দপ্তর সাবেক উপজাতীয় এলাকার কোনো একটি জেলায় স্থাপন করা হতে পারে। এ সচিবালয়ের জন্য বিশেষ তহবিল দেয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের।
পেশোয়ারে মোবাইল সেবা বন্ধ, সড়ক ও বিআরটি চলাচল স্থগিত
নিরাপত্তা জোরদারের অংশ হিসেবে পেশোয়ারে মোবাইল ফোন সেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে কয়েকটি সড়ক যান চলাচলের জন্য বন্ধ করে দেয়া হয়েছে, ফলে বাসিন্দাদের যোগাযোগে সমস্যা হচ্ছে। শহরজুড়ে নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং রেড জোন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও সড়ক বন্ধ থাকার কারণে পেশোয়ারের বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) সেবাও সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে বলে রবিবার জানিয়েছে ট্রান্সপেশোয়ার।










































