বিরূপ আবহাওয়া প্রভাব ফেলতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের ফলাফলে

রয়টার্স ছবি

আগামী মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বহুল আলোচিত ও প্রতীক্ষিত মধ্যবর্তী নির্বাচন। এ নির্বাচনে ক্ষমতার বদল হবে না, তবে মেয়াদের বাকি দুই বছর ট্রাম্প কীভাবে দেশ শাসন করবেন, তার অনেকটাই নির্ভর করছে এ নির্বাচনের ওপর।ডেমোক্র্যাটরা যদি কংগ্রেসে নিয়ন্ত্রণ ফিরে পায়, তবে ট্রাম্পের জন্য সামনে খারাপ দিন অপেক্ষা করছে। 

নির্বাচনের সকল প্রস্তুতিই শেষ। তবে আবহাওয়া তাতে বাগড়া দিতে চাইছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছে, নির্বাচনের দিনে একটি বৃষ্টিবহুল ঝড় যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যাঞ্চলের ওপর দিয়ে ধেয়ে যেতে পারে, যা ওই অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ লড়াইগুলোতে ভোটারদের উপস্থিতির ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।

আগামী মঙ্গলবার গ্রেট লেকস এবং আপার মিডওয়েস্টের কিছু অংশ থেকে শুরু করে পশ্চিম উপসাগরীয় উপকূল পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকায় বৃষ্টির আশঙ্কা জোরালো হচ্ছে; তবে ঠিক কোন কোন এলাকায় সবচেয়ে বেশি বিঘ্নসৃষ্টিকারী ভারি বৃষ্টিপাত হবে, তা নিয়ে এখনো প্রশ্ন রয়েছে।

আবহাওয়া বদলেও যেতে পারে, তবে আপাতত মনে হচ্ছে আইওয়া, কানসাস, মিশিগান, টেক্সাস এবং এমনকি ওহাইওর কিছু অংশকেও এই ভেজা আবহাওয়ার মুখোমুখি হতে হতে পারে।

মিডওয়েস্ট এবং সমভূমি অঞ্চলে বৃষ্টির সাথে দমকা হাওয়াও বইতে পারে। ঝড়ের দক্ষিণ প্রান্তে; টেক্সাস থেকে শুরু করে লোয়ার-মিসিসিপি উপত্যকা পর্যন্ত; তীব্র বজ্রঝড় এবং ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে।

এই আবহাওয়া উক্ত রাজ্যগুলোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যাঞ্চলের অন্যান্য রাজ্যগুলোর ভোটারদের উপস্থিতির ক্ষেত্রে একটি বড় ফ্যাক্টর বা নিয়ামক হয়ে উঠতে পারে। 

ঝড়ের প্রভাবের বাইরে থাকা পূর্ব উপকূল এবং পশ্চিমাঞ্চলের বেশিরভাগ এলাকায় আবহাওয়া মূলত শুষ্ক থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এর একমাত্র ব্যতিক্রম হতে পারে দক্ষিণ-পূর্বের উপকূলীয় অঞ্চলগুলো, যেখানে হালকা বা ছিটেফোঁটা বৃষ্টির সম্ভাবনাকে এখনই পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

তবে অতিরিক্ত গরম কাপড় বা জ্যাকেট জড়িয়ে বের হওয়ার প্রয়োজন হবে না। দেশের পূর্বাঞ্চলের বেশিরভাগ অংশে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ৫ থেকে ১৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট বেশি থাকার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।কেবল দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা কম বা শীতল থাকতে পারে।

গবেষণা এবং অতীতের নির্বাচনের ডেটা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, নির্বাচনের দিনে বৃষ্টি, ঝড় বা তীব্র শীতের মতো প্রতিকূল আবহাওয়া মূলত ভোটারদের উপস্থিতি কমিয়ে দেয়, যা পরোক্ষভাবে নির্বাচনের ফলাফলে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। কট্টর দলীয় সমর্থকেরা আবহাওয়া যতই খারাপ হোক না কেন ভোট দিতে আসেন। কিন্তু যারা নির্দিষ্ট কোনো দলের সমর্থক নন বা শেষ মুহূর্তে ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তারা খারাপ আবহাওয়ায় ঘরের বাইরে বের হতে চান না। ফলে মিশিগান বা টেক্সাসের মত হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের রাজ্যগুলোতে এই ধরনের ভোটারদের অনুপস্থিতি পুরো ফলাফল বদলে দিতে পারে।

একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, বৃষ্টি বা খারাপ আবহাওয়া সাধারণত ডেমোক্র্যাটদের তুলনায় রিপাবলিকানদের কিছুটা সুবিধা দেয়। এর কারণ হলো—ডেমোক্র্যাটদের বড় একটি ভোটার গোষ্ঠী হলো তরুণ, কম আয়ের মানুষ এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, যাদের নিজস্ব গাড়ি বা যাতায়াতের সহজ সুবিধা কম থাকে। ফলে বৃষ্টি হলে তাদের ভোটকেন্দ্রে আসার হার কমে যায়। অন্যদিকে, রিপাবলিকান ভোটারদের একটি বড় অংশ গ্রামীণ ও বয়স্ক মানুষ হওয়া সত্ত্বেও তাদের ভোট দেওয়ার প্রবণতা ও নিজস্ব যাতায়াত ব্যবস্থা তুলনামূলকভাবে ভালো থাকে। তবে নানা জরিপে দেখা গেছে, এবার রিপাবলিকানদের মধ্যে ভোট দেয়ার আগ্রহ তুলনামূলকভাবে কম। সে তুলনায় কংগ্রেসের দখল নিতে মরিয়া ডেমোক্র্যাটরা ভোট দিতে বেশি আগ্রহী। 

তবে যেসব রাজ্যে ইতোমধ্যেই বিপুল সংখ্যক মানুষ আগাম ভোট দিয়ে দিয়েছেন সেখানে নির্বাচনের দিনের ঝড়ের প্রভাব কিছুটা কম হতে পারে। তবে যারা নির্বাচনের দিন সশরীরে ভোট দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন, তাদের ওপর এটি সরাসরি প্রভাব ফেলবে।

ভারী বৃষ্টি বা বজ্রঝড়ের কারণে ভোটগ্রহণের গতি ধীর হয়ে যায় এবং ভোটকেন্দ্রের বাইরে দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হতে পারে। ঝড়ের মধ্যে খোলা আকাশের নিচে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার ক্লান্তি অনেক ভোটারকে ভোট না দিয়েই বাড়ি ফিরে যেতে বাধ্য করে।

এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে যেখানে অনেকগুলো অঙ্গরাজ্যে (যেমন- কানসাস, আইওয়া, মেইন) প্রার্থীদের জয়ের ব্যবধান খুবই সামান্য হতে পারে, সেখানে নির্বাচনের দিনের এক পশলা ভারি বৃষ্টিও জয়-পরাজয়ের প্রধান নিয়ামক হয়ে উঠতে পারে।

LEAVE A REPLY