ইউক্রেনে রাতভর রুশ হামলায় নিহত ৩, বিদ্যুৎহীন ৬ লাখ মানুষ

রয়টার্স ছবি

রাশিয়ার একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইউক্রেনজুড়ে অন্তত ৬ লাখ মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছেন। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাতে চালানো এসব হামলায় রাজধানী কিয়েভে অন্তত তিনজন নিহত এবং ২১ জন আহত হয়েছেন।

বিষয়টি দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি নিশ্চিত করেছেন বলে জানিয়েছে বিবিসি। জেলেনস্কি বলেন, কিয়েভ ও এর আশপাশের অঞ্চল এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর খারকিভের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালানো হয়েছে।

অথচ এ ঘটনার মাত্র দুই দিন আগে রবিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে বলে দাবি করেছিলেন।

ইউক্রেনের জরুরি পরিস্থিতিবিষয়ক রাষ্ট্রীয় সংস্থা ডিএসএনএস জানিয়েছে, কিয়েভে হামলায় তিনজন নিহত ও ২১ জন আহত হয়েছেন।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাতে চালানো ‘ব্যাপক’ হামলায় কিয়েভ ও খারকিভ অঞ্চলে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর ব্যবহৃত যোগাযোগ ও জ্বালানি স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

এদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, রাতভর দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে ইউক্রেনের ৯০২টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। এসব অঞ্চলের মধ্যে রাজধানী মস্কো ও ২০১৪ সালে রাশিয়ার দখলে নেওয়া ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপদ্বীপ ক্রিমিয়াও রয়েছে।

ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, রাতভর রাশিয়া ৩৯টি ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১২৮টি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে।এর মধ্যে চারটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ১১৫টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে বলে দাবি করেছে তারা।

যুদ্ধবিরতির বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছিলেন, ‘অবিলম্বে রাশিয়া ও ইউক্রেনের যুদ্ধে জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হচ্ছে। দুই পক্ষই এতে সম্মত হয়েছে। এটি ভঙ্গ করবেন না।’

এরপর জেলেনস্কি বারবার বলেছেন, মস্কো একই পদক্ষেপ নিলে ইউক্রেনও রাশিয়ার তেল শোধনাগার ও অন্যান্য জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধ করতে প্রস্তুত।

তবে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বলেছেন, যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে যে সাময়িক স্বস্তি আসবে, ইউক্রেন তার যোগ্য নয়। তার দাবি, যুদ্ধবিরতি হলে ইউরোপ ইউক্রেনে আরো অস্ত্র সরবরাহ করতে পারবে, যাতে দেশটি যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারে।

প্রসঙ্গত, ২০২২ সালে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু করেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। বর্তমানে ইউক্রেনের প্রায় ২০ শতাংশ ভূখণ্ড রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

LEAVE A REPLY