দেশের অর্থনীতিতেও অবদান রাখছে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র

সংগৃহীত ছবি

জাতীয় গ্রিডে ৪০০ কোটি ইউনিটের বেশি বিদ্যুৎ যুক্ত করে দেশের অর্থনীতিতে নীরবে অবদান রাখছে রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন ছাড়াও স্থানীয় মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও পরিবেশ সুরক্ষায় ভূমিকা রাখছে প্রকল্পটি। বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়নে এভাবে সব অবদান মিলিয়ে দেশের অর্থনীতিতে একটি ‘গেম চেঞ্জার’ (যা ইতিবাচক পরিবর্তন আনে) হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র।

রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের অর্থনৈতিক অবদানের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘জাতীয় গ্রিডে প্রতিনিয়ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করে দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকা শক্তি হিসেবে শিল্পায়নে অবদান রাখছে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র।

স্থানীয় যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নারী ও সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট কার্যক্রম ভালোভাবে চালিয়ে যাচ্ছে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি। এর মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতিকেও চাঙ্গা করছে এটি।’

1

বিদ্যুৎকেন্দ্রটি পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কম্পানি লিমিটেডের (বিআইএফপিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সঙ্গীতা কৌশিক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বাংলাদেশের শিল্পায়নকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ-ভারত যৌথ উদ্যোগে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি চালু করা হয়। এখানে কাজ করাটা আমার জন্য গর্বের।

উৎপাদন শুরু থেকে মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্লান্ট বাংলাদেশের জাতীয় গ্রিডে চার বিলিয়ন ইউনিট বিদ্যুৎ যোগ করেছে।’

সঙ্গীতা কৌশিক বলেন, ‘বিদ্যুৎকেন্দ্রটির উদ্দেশ্য ছিল সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে নির্ভরযোগ্য করে তোলা। সম্প্রতি বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহের দিক দিয়ে কেন্দ্রটি দ্বিতীয় সর্বনিম্ন শুল্কে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। আনন্দের বিষয় হচ্ছে, বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিটই এখন চালু।

বিআইএফপিসিএলের এমডি আরো বলেন, ‘একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিদ্যুৎ খাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য এখানে আলট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।’ 

ভারতের এনটিপিসির সঙ্গে যৌথভাবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সংস্থা বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয়। দ্বিতীয় ইউনিটের বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয় চলতি বছরের মার্চে।

বর্তমানে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির দুটি ইউনিট থেকে গড়ে প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে।

রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) শান্তনু কুমার মিশ্র বলেন, ‘এই প্রকল্প স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করছে, যা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এ ছাড়া এর উৎপাদিত বিদ্যুৎ বাংলাদেশের জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের মাধ্যমে অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখছে।’

প্রকল্প পরিচালক জানান, প্রকল্পে বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৬০ জন প্রকৌশলীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ওই প্রকৌশলীরা ভারতেও প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। কেন্দ্রটিতে দেড় হাজার থেকে দুই হাজার শ্রমিক কাজ করছেন। বিদ্যুৎকেন্দ্রে কাজ করতে গিয়ে এই শ্রমিকদের দক্ষতা বৃদ্ধি পেয়েছে। আশা করা হচ্ছে, এর ফলে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি স্থানীয় জনবল দিয়েই সাশ্রয়ীভাবে চালানো সম্ভব হবে।

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এবার গ্রীষ্ম মৌসুমে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ চাহিদা ধরা হয়েছে ১৭ হাজার ৮০০ মেগাওয়াট। গত বছর বিদ্যুতের চাহিদা ছিল সাড়ে ১৫ হাজার মেগাওয়াট। চলতি বছর বিদ্যুতের চাহিদা ও সক্ষমতা বেড়েছে একই হারে। মূলত দেশে ক্রমবর্ধমান হারে শিল্প-কারখানা বৃদ্ধি পাওয়ায়ই বিদ্যুতের চাহিদা ও উৎপাদন বাড়ছে। দেশের এই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম অংশীদার রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র।

LEAVE A REPLY