শহীদুজ্জামান সেলিম
শোবিজের দক্ষ অভিনেতা হিসেবে পরিচিত শহীদুজ্জামান সেলিম। মঞ্চ থেকে শুরু করে সিনেমা পর্যন্ত অভিনয়ের সব মাধ্যমেই তার সমান বিচরণ। অভিনয়ের পাশাপাশি একজন নির্মাতা হিসেবেও সুখ্যাতি আছে তার। শনিবার ছোট পর্দার নির্মাতাদের সংগঠন ডিরেক্টরস গিল্ডের নির্বাচনে সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।
সংগঠনটি নিয়ে তাঁর পরিকল্পনা, অভিনয় এবং অন্যান্য বিষয় নিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন সুদীপ কুমার দীপ।
অভিনন্দন, নির্বাচন নিয়ে গত কিছুদিন নিশ্চয়ই প্রচারণায় ব্যস্ত ছিলেন। বিজয়ের পর কেমন লাগছে?
এই অনুভূতি তো সুন্দর, আনন্দের। সংগঠনটির সদস্যরা আমাকে নির্বাচিত করেছেন।তাঁরা যোগ্য মনে করেই ভোট দিয়েছেন। নির্বাচনে আমি একাই যে প্রচারণা চালিয়েছি তা নয়, নেপথ্যে অনেকেই আমাদের টিমের হয়ে কাজ করেছেন। দিন-রাত পরিশ্রম করেছেন তাঁরাও। বলব, অসাধ্য সাধন করেছেন।
সবাইকে ভালোবাসা জানাচ্ছি।
দায়িত্ব গ্রহণ করবেন কবে? সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত এলো?
নিয়ম অনুযায়ী ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ আছে। এর পরই আমরা একটা সভা ডেকে শপথের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব। সামনে রমজান মাস। চেষ্টা করব তার আগেই একটা ছোটখাটো অনুষ্ঠান করে শপথগ্রহণের।
পরে বড় কোনো অনুষ্ঠান করার ইচ্ছা রয়েছে।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের এই সময়ে সভাপতির দায়িত্ব পালন কতখানি চ্যালেঞ্জিং হবে বলে মনে করছেন?
অবশ্যই চ্যালেঞ্জিং। আর চ্যালেঞ্জিং বলেই দায়িত্বটা আমি নিজে সেধে নিয়েছি। মনে হয়েছে, পরিচালকদের যে সম্মান, যে মর্যাদা সেটা ফিরিয়ে আনতে গেলে শক্ত হাতেই হাল ধরতে হবে। মনে হলো নির্বাচনে অংশ নিই, দেখি এই অবস্থায় সাধারণ সদস্যরা আমাকে চান কি না! কাল নির্বাচিত হওয়ার পর বুঝতে পেরেছি, তাঁরাও আমাকে দায়িত্বটা দিয়ে নিশ্চিন্তে থাকতে চান। এখন সংগঠনের সবাইকে নিয়ে জয়ী হতে চাই।
প্রথমেই কী কী বিষয়ে সংস্কার বা উদ্যোগ নিতে চান?
প্রথম কাজই হবে সংগঠনটিকে গতিশীল করা। পাশাপাশি হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনা। শুধু ভেতর থেকে নয়, বাইরে থেকেও সংগঠনটির লণ্ডভণ্ড অবস্থা দৃশ্যমান ছিল। ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলে সেটা আরো বেশি ভঙ্গুর হয়ে পড়ে। বাধ্য হয়ে সংস্কার কমিটি গঠন করা হয়। সেই কমিটির মাধ্যমেই কিন্তু নির্বাচন হয়েছে। এটা কিন্তু ছোটখাটো কোনো সংগঠন নয়। পাঁচ শতাধিক সদস্য আমাদের। প্রত্যেকের অধিকার নিশ্চিত করাই আমাদের কাজ।
যাঁরা পরাজিত হয়েছেন, তাঁদের উদ্দেশে কী বলবেন?
মনে করি নির্বাচনে যে ৪৪ জন দাঁড়িয়েছিলেন, সবাই যোগ্য। ভোটাররা হয়তো যোগ্যতর ব্যক্তিকেই বেছে নিয়েছেন। তবে আমি এই ৪৪ জনকে সঙ্গে নিয়ে বাকিদের সঙ্গে পরামর্শ করেই পথ চলতে চাই। যাঁরা পরাজিত হয়েছেন, তাঁদের বলব, জয়-পরাজয় থাকবেই। তবে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করলে সংগঠনেরই ভালো হবে।
এই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আবার অভিনয়ে অনিয়মিত হয়ে পড়বেন না তো?
শিডিউল মেলাতে একটু তো ঝামেলা হবেই। এখন চলচ্চিত্রেও দারুণ ব্যস্ত সময় যাচ্ছে। এমন এমন চরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব পাচ্ছি, না করতেও পারছি না। তবে সংগঠনটিকে সামলেই সব কিছু করব।
এর আগে অভিনয়শিল্পী সংঘের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন, এবার পরিচালকদের সংগঠনের সভাপতি হয়েছেন। পরিচালক হিসেবে নতুন কী করছেন?
পরিচালনায় আপাতত বিরতি। উপায় নেই। আমার প্রথম কাজ, সংগঠনটির ইমেজ পুনরুদ্ধার করা। অভিনয় তো আছেই। তবে পরিচালনা একেবারেই যে ছেড়ে দিচ্ছি তা নয়। সংগঠনটিকে যেখানে দাঁড় করাতে চাই, যখন মনে হবে পেরেছি, এর পরই পরিচালনায় ফিরব।
এখনকার নাটক-সিনেমা নিয়মিত দেখেন?
চেষ্টা করি সমসাময়িক কাজগুলো দেখতে। নাটক, সিনেমা বা ওয়েব কনটেন্ট—যা-ই হোক দেখি, এটা আমার পুরনো অভ্যাস। এখন যাঁরা কাজ করছে, ভালোই করছে। আমার ভালো লাগে।










































