হামলাকারী (বাঁয়ে) ও সাইফ আলি খান (ডানে)
বলিউড অভিনেতা ও ছোট নবাব সাইফ আলি খানের ওপর হামলা চালানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন শরিফুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি। গত দুই মাসের বেশি সময় ধরে সংশোধনাগারে রয়েছেন তিনি। সম্প্রতি সেই শরিফুল জামিনের আবেদন করেছেন। জামিনের আবেদনে তিনি বলেছেন, সাইফের ঘটনা পুরোটাই মনগড়া গল্প।
তিনি দোষী নন। তবে তার জামিনের বিরোধিতা করল মুম্বাই পুলিশ। তদন্তে মুম্বাই পুলিশ জানতে পারে, শরিফুল আসলে বাংলাদেশের বাসিন্দা। বেআইনিভাবে ভারতে অনুপ্রবেশ করেছিলেন তিনি।
‘আমার হাতে সব প্রমাণ আছে’, গৃহকর্মীকে মারধর প্রসঙ্গে পরীমনি
ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন অনুসারে, শরিফুলের বিরুদ্ধে প্রথম অভিযোগ, তিনি গভীর রাতে বান্দ্রার এলাকার অভিজাত আবাসনে ঢুকে চুরির চেষ্টা চালিয়েছেন। বাধা পেয়ে অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়েছেন খোদ বলিউড অভিনেতা সাইফ আলী খানের ওপর। দ্বিতীয় অভিযোগ আরো গুরুতর— অবৈধভাবে বাংলাদেশ থেকে ভারতে ঢুকে বসবাস করছিলেন তিনি। এরপরও তিনি জামিনে মুক্ত হলে সাক্ষী এবং আক্রান্ত পরিবারের ওপর প্রভাব বিস্তার করে মামলার ক্ষতি করতে পারেন বলে দাবি পুলিশের।
এ ছাড়া বাংলাদেশেও পালিয়ে যেতে পারেন শরিফুল, এমনটাই আশঙ্কা পুলিশের।
পিটিআই-এর তথ্য অনুযায়ী, আদালতে শুক্রবার পুলিশ জানিয়েছে, তারা মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ ফরেনসিক প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করেছে। পুলিশ জানায়, অভিনেতার মেরুদণ্ডের কাছে যেই ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয়েছিল, তার ভাঙা অংশ এবং ঘটনাস্থলে পাওয়া অপর টুকরাটি তদন্তে মিলেছে শরিফুল ইসলামের কাছ থেকে উদ্ধারকৃত অস্ত্রের সঙ্গেই। ফলে এই তিনটি ছুরির অংশ একই অস্ত্রের বলে নিশ্চিত হয়েছে, যা সাইফ আলি খানের ওপর হামলার সময় ব্যবহৃত হয়েছিল। পাশাপাশি তারা আদালতে ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরির (এফএসএল) রিপোর্টসহ লিখিত জবাবও জমা দিয়েছে।
পুলিশ আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, শরিফুল ইসলাম পালিয়ে যেতে পারেন, তাই তাকে জামিন দেওয়া উচিত নয়। তারা আদালতে উল্লেখ করেছে যে এই অপরাধ গুরুতর প্রকৃতির এবং তার বিরুদ্ধে শক্ত প্রমাণ রয়েছে।
‘
অন্যদিকে, শরিফুলের আইনজীবী তার জামিন চেয়ে আদালতকে জানান, মামলার তদন্ত প্রায় শেষ। শুধু চার্জশিট দাখিল করা বাকি। অভিযুক্ত শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তদন্তে সহযোগিতা করেছেন। তাকে পুলিশি হেফাজতে রেখে বাড়তি কোনো তথ্য পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত মামলার পরবর্তী শুনানি ৯ এপ্রিল ধার্য করেছেন বলে জানা গেছে।
সাইফ আলি খান ১৬ জানুয়ারি বান্দ্রায় তার নিজ বাসভবনের ভেতরে ছুরিকাঘাতের শিকার হন। জরুরি অস্ত্রোপচার করা হয় অভিনেতার এবং পাঁচ দিন তিনি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। ঘটনার দুই দিন পর শরিফুলকে গ্রেপ্তার করা হয়।











































