শাহরুখ-গৌরী ও আরিয়ান খান
দীর্ঘ ৩৪ বছরের দাম্পত্য জীবন তাদের। দুজন ভিন্ন ধর্মের মানুষ। নানা ধরনের বাধা এসেছে তাদের প্রেমের পথে। কিন্তু সেসব তোয়াক্কা না করেই চার হাত এক করেছিলেন তারা।
সেই সম্পর্ক আজও অক্ষত। সংসারে নিজেদের ধর্ম নিয়েও সব সময় ভারসাম্য বজায় রেখেছেন তারা। বাড়িতে গণেশপুজো যেমন হয়, তেমনই ঈদ পালন করেন সবাই মিলে। তেমনি বড়দিনও পালন করে খান পরিবার।
যদিও ছেলে আরিয়ান খান অবশ্য নিজেকে ‘মুসলিম’ বলে ঘোষণা করেছেন।
শাহরুখ-গৌরীর বড় সন্তান আরিয়ান খানের ধর্ম কী? এমন প্রশ্ন ঘুরপাক খায় নেটিজেনদের মনে। তবে এই বিষয়ে গৌরী একবার কথা বলেছিলেন কফি উইথ করণের শো’তে এসে। গৌরী জানিয়েছেন, “আরিয়ান শাহরুখকে এতটাই ভালোবাসে যে সে তার ধর্ম অনুসরণ করে।
সে সবসময় বলে, ‘আমি একজন মুসলিম।”
গৌরীর মতে, বাবার ধর্মই বেছে নিয়েছেন আরিয়ান খান। সম্প্রতি সেই ভিডিওটি নতুন করে ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। তাই বিষয়টিও উঠে এসেছে আলোচনায়। শাহরুখ-গৌরীর পারিবারিক শক্তিশালী বন্ধন যা তারা বহণ করছেন, এ বন্ধন তাদের সন্তানদের মানুষের মতোই মানুষ করেছে বলেও মন্তব্য করছেন অনুরাগীরা।
তবে দুজনের প্রেম তখনো চলছিল। তাদের আলাদা, এরপর হিন্দু ধর্মমতে গৌরীর সঙ্গে শাহরুখকে বিয়ে দিতে রাজি হন গৌরীর বাবা-মা। ১৯৯১ সালের ২৫ অক্টোবর হিন্দু রীতি অনুযায়ী বিয়ে হয় তাদের। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই গৌরীর উদ্দেশে শাহরুখ বলে ওঠেন, ‘নামাজের সময় হয়েছে।’ শাহরুখের মুখে এ কথা শুনে বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যান বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাই।
বিয়ের পর থেকে দিল্লির সম্ভ্রান্ত ব্রাহ্মণ পরিবারের মেয়ে গৌরী শিবার হিন্দু ধর্ম পালন করেন, শাহরুখ পালন করেন মুসলিম ধর্ম। তিন দশকের বেশি সময় ধরে তাদের ভালোবাসায় ধর্ম বাধা হতে পারেনি। তিন সন্তানের বাবা-মা তারা। সন্তানদের হিন্দু-মুসলিম হওয়ার বিষয়ে কোনো চাপ দেননি, ধর্ম বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে স্বাধীনতা দিয়েছেন তারা।









































