চীনে বেকারত্বের লজ্জা ঢাকতে চাকরির ভান করছে তরুণরা

নিজের চাহিদা মেটাতে হোক কিংবা পরিবারের ভরণপোষণ, পড়াশোনা শেষে প্রথম টার্গেট একটা ভালো চাকরি। এরপর মাস শেষে সেই টাকা প্রয়োজনমতো খরচ। ঠিক এর উলটোটাই ঘটছে এখন বেকারত্বে ঠাসা চীনের চাকরি বাজারে।

সামাজিক স্ট্যাটাস ধরে রাখতে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে পকেটের টাকা ঢেলে চাকরি করছেন সদ্য পাশ করা শিক্ষিত বেকাররা। লোকলজ্জার ভয়ে চাকরির ভান করছে। আত্মপ্রতারণার এ ছলচাতুরি এখানেই শেষ নয়, সামাজিক মাধ্যমে বা পরিবারের সামনে তারা এমন ভাব ধরছেন যেন তাদের চাকরি আছে। বিবিসির এক খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে ।

অনেক তরুণ সকালে ঘর থেকে বের হন, অফিসে যাওয়ার ভান করেন এবং দিন শেষে ‘কাজ’ থেকে ফিরে আসেন। মূলত সামাজিক চাপ, আত্মসম্মান রক্ষা এবং পরিবার বা সমাজের কাছে ‘ব্যর্থ’ না দেখানোর জন্য তারা এমনটি করে থাকেন।

চীনের শহরাঞ্চলে তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার ২০% ছাড়িয়ে গেছে। বিষয়টি অনেকের জন্য মানসিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু এই চাকরি করার ‘ভান’ করে অনেকে আত্মবিশ্বাস ধরে রাখার চেষ্টা করছেন। এছাড়া চীনে প্রকৃত চাকরি পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ায় তরুণরা ঘরে বসে থাকার চেয়ে নগদ অর্থ দিয়ে হলেও অফিস করতে যান। এ ধরনের কার্যক্রম এখন চীনের প্রধান শহরগুলো যেমন শেনজেন, সাংহাই, নানজিং, উহান, চেংডু এবং কুনমিংতে দেখা যাচ্ছে।

তরুণদের বেকারত্ব ও হতাশাকে কাজে লাগিয়ে অনেকেই চালু করেছে এই ব্যবসা। সেসব প্রতিষ্ঠানকে অর্থ দিলেই তারা কাজে নিয়ে নিচ্ছেন বেকার তরুণদের। এমনকি তাদের সেই নকল অফিসগুলো অবিকল আসল অফিসের মতো দেখায়। প্রতিষ্ঠানগুলোতে কম্পিউটার, ইন্টারনেট অ্যাক্সেস, মিটিং রুম এবং চায়ের ব্যবস্থাও আছে। অংশগ্রহণকারীদের অনেকে কেবল বসে থাকার পরিবর্তে চাকরি অনুসন্ধান করতে বা নিজেদের ব্যবসা শুরু করতে কম্পিউটার ব্যবহার করে থাকেন। এছাড়াও ৩০ থেকে ৫০ ইউয়ানের মধ্যে দুপুরের খাবার, এবং পানীয়র ব্যবস্থা থাকে নকল অফিসগুলোতে। পাশপাশি অংশগ্রহণকারীরা যখন খুশি আসতে এবং চলে যেতে পারেন।

৩০ বছর বয়সি শুই ঝোউয়ের একজন উদ্যোক্তা ছিলেন। কিন্তু ২০২৪ সালে তিনি ব্যবসায় ক্ষতিগ্রস্ত হন। এ বছরের এপ্রিলে, তিনি ডংগুয়ান শহরে প্রিটেন্ড টু ওয়ার্ক কোম্পানি নামে একটি নকল অফিসে যাওয়া শুরু করেন। এর জন্য প্রতিদিন ৩০ ইউয়ান অফিসে দেন। মি. ঝো বলেন, ‘আমি খুব খুশি বোধ করছি। সম্মান বজায় রাখার জন্য মিথ্যা বললে এটি কিছু লোককে সত্য খুঁজে পেতে সাহায্য করে।’

LEAVE A REPLY