যুদ্ধবিরতি আলোচনা থামার খবরে বেড়েছে তেলের দাম

ছবি : রয়টার্স

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনা থমকে যাওয়ায় এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন সীমিত থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে। খবর আলজাজিরার

সোমবার ভোরে (বাংলাদেশ সময়) দেখা যায়, ব্রেন্ট ক্রুড  প্রতি ব্যারেলে ২.২২ ডলার বা ২.১১ শতাংশ বেড়ে ১০৭.৫৫ ডলারে পৌঁছেছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দামও একই সময়ে ২.০২ ডলার বা ২.১৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯৬.৪২ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের ৫ ভাগের ১ ভাগ পরিবাহিত হয় পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালি দিয়ে। মেরিটাইম ইন্টেলিজেন্স প্ল্যাটফর্ম ‘উইন্ডওয়ার্ড’-এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে এই পথটি কার্যত অচল।

যুদ্ধ শুরুর আগে এই পথে দৈনিক গড়ে ১২৯টি জাহাজ চলাচল করত।

গত শনিবার মাত্র ১৯টি বাণিজ্যিক জাহাজ এই প্রণালি অতিক্রম করেছে।

তেহরানের পক্ষ থেকে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধের হুমকির ফলে এই সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে, যা তেলের দাম বাড়ার প্রধান কারণ।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার বিশেষ প্রতিনিধিদের পাকিস্তান সফর বাতিল করেছেন। অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি কোনো সরাসরি বৈঠক ছাড়াই ইসলামাবাদ ত্যাগ করেছেন।

আরাগচি বর্তমানে কূটনৈতিক সংকট নিরসনে রাশিয়ার সহায়তা নিতে মস্কো পৌঁছেছেন, যেখানে তিনি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

উল্লেখ্য, ট্রাম্প দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করলেও স্থায়ী শান্তি চুক্তির শর্তাবলি নিয়ে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।

তেলের দাম বাড়লেও এবং কূটনৈতিক অস্থিরতা সত্ত্বেও সোমবার সকালে এশিয়ার শেয়ার বাজারগুলোতে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। জাপানের ‘নিক্কেই ২২৫’ সূচক ০.৯ শতাংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার ‘কসপি’ ১.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই অচলাবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে।

এতে বিশেষ করে আমদানিনির্ভর দেশগুলোর অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

LEAVE A REPLY