ফাইল ছবি
তাইওয়ানে অস্ত্র বিক্রির অভিযোগে সাতটি ইউরোপীয় কম্পানির ওপর চীনের দেওয়া নতুন নিষেধাজ্ঞাকে খুব বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে না তাইওয়ান। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েলিংটন কু সোমবার স্পষ্ট করে বলেছেন, চীনের এমন পদক্ষেপ নতুন নয়। এটিকে নতুন কোনো চাপ হিসেবে দেখার কোনো প্রয়োজন নেই কারণ আগেও বহুবার এমন দেখা গেছে।
শুক্রবার চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ওই সাতটি কম্পানির বিরুদ্ধে এমন কিছু পণ্য রপ্তানি নিষিদ্ধ করে করে দিয়েছে, যেগুলো সাধারণ কাজেও ব্যবহার করা যায় আবার সামরিক কাজেও ব্যবহার করা সম্ভব।
চীনের অভিযোগ, এই কম্পানিগুলো তাইওয়ানে অস্ত্র বিক্রির সঙ্গে যুক্ত। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলোকে চীনের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ইউরোপীয় কম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে তাইওয়ান ইস্যুতে এ ধরনের জোরদার পদক্ষেপ বেশ অবাক করার মতো।
চীন দীর্ঘদিন ধরেই তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে দাবি করে আসছে।
বিপরীতে তাইওয়ান নিজেদের প্রতিরক্ষার জন্য মূলত যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল। গত প্রায় ৩০ বছর ধরে ইউরোপীয় দেশগুলো চীনের সম্ভাব্য বিরূপ প্রতিক্রিয়ার ভয়ে তাইওয়ানে বড় ধরনের অস্ত্র, বিশেষ করে যুদ্ধবিমান, বিক্রি করা থেকে বিরত আছে।
ইন্টারন্যাজিওনাল– এর প্রতিবেদন জানায়, পার্লামেন্টে এক প্রশ্নের জবাবে তাইওয়ানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েলিংটন কু বলেন, চীনের এমন পদক্ষেপ তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সংগ্রহের ক্ষমতায় কোনো বড় প্রভাব ফেলবে না। তবে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি।
বিশ্লেষকদের মতে, চীনের সম্ভাব্য পাল্টা আক্রমণের ভয়ে অনেক দেশ এখনো তাইওয়ানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় অত্যন্ত সতর্ক অবস্থান বজায় রেখেছে। তবে ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর মধ্য ও পূর্ব ইউরোপে তাইওয়ানের প্রতি রাজনৈতিক সহানুভূতি কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে।
চীনের সর্বশেষ নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা সাতটি কম্পানির মধ্যে চারটি চেক প্রজাতন্ত্রের।
এর আগে তাইওয়ানে অস্ত্র বিক্রির ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের বড় কয়েকটি অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের ওপরও একাধিকবার নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে চীন। সর্বশেষ এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয় গত ডিসেম্বরে, যখন যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানে ১ হাজার ১০০ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রির ঘোষণা দেয়।
অন্যদিকে জাপান সম্প্রতি বিদেশে অস্ত্র রপ্তানির ওপর দীর্ঘদিনের বিধিনিষেধ শিথিল করেছে। তবে তাইওয়ানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, জাপানের সঙ্গে তাইওয়ানের কোনো প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তর চুক্তি হয়নি এখনো।
ফিলিপাইনসহ কয়েকটি দেশ জাপানের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে, কিন্তু চীন এতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। গত নভেম্বরে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বলেন, তাইওয়ানে চীনের কোনো হামলা যদি জাপানের জন্য বিপদ তৈরি করে, তাহলে জাপান সামরিকভাবে জবাব দিবে।
সব মিলিয়ে তাইওয়ান ইস্যু ঘিরে পূর্ব এশিয়ার কূটনৈতিক পরিস্থিতি এখন বেশ উত্তপ্ত।











































