সাদিয়া আফরিন মাহি
নাটক, চলচ্চিত্র, ওয়েব ও স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র—সবখানেই আছেন সাদিয়া আফরিন মাহি। এ সপ্তাহে এসেছে তাঁর অভিনীত স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘নারী, তুমি আওয়াজ তোলো’। অভিনেত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন সুদীপ কুমার দীপ।
কোথায়আছেন, কেমন আছেন?
ঢাকাতেই আছি।
নতুন একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নিয়ে নির্মাতার সঙ্গে বৈঠক করছি। উনি একজন ইনডিপেনডেন্ট নির্মাতা, চট্টগ্রামে থাকেন। গল্প অনুযায়ী আমাদের শুটিং করতে হবে দেশের বাইরে। সেসব বিষয় নিয়েই আলোচনা।
স্বল্পদৈর্ঘ্যচলচ্চিত্রেরপ্রতিআপনার আগ্রহটা বেশি দেখা যায়। বিশেষ কোনো কারণ?
আমি ভিউয়ের দিকে মনোযোগী নই। আমার কাজ দেখলে বুঝবেন, একটা বক্তব্য থাকে। এই কাজগুলো হয়তো কোটি মানুষ দেখে না।
তবে যারা দেখে তারা একটা বার্তা পায়। স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন সাধারণত স্বাধীন নির্মাতারা। বাজেটের কারণে তাঁরা সব সময় নামি অভিনয়শিল্পী নিতে পারেন না। প্রস্তাবগুলো আমার কাছেই আসে। আমিও তাঁদের হতাশ করি না।
এটলিস্ট গল্পটা ভালো লাগলেই করি।
তিন দিন আগে এলোস্বল্পদৈর্ঘ্যচলচ্চিত্র ‘নারী, তুমি আওয়াজ তোলো’…
হ্যাঁ। যারা দেখেছে সবাই ছবিটির প্রশংসা করেছে। আমাদের নারীরা সমাজে বরাবরই উপেক্ষিত, পদে পদে বাধা—একটা সময় আওয়াজ না তুলে তো উপায় নেই। আমার মনে হয়, স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবিটি নারীদের দেখা উচিত। কোথায় কখন কোন পরিবেশে রুখে দাঁড়াতে হবে সেটা শিখতে পারবে।
‘পদ্মাপুরাণ’-এর পর আর কোনো চলচ্চিত্রে আপনাকে দেখা গেল না…
আমার কাজের ধরন একটু আলাদা। অন্যদের সঙ্গে মেলালে চলবে না। ২০১৪ সালে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলাম। এক দশকের বেশি সময় পার করেছি ইন্ডাস্ট্রিতে। দেখেন যে কাজগুলো করেছি বেশির ভাগই আলোচিত। ‘পদ্মাপুরাণ’ তো কয়েকটি শাখায় জাতীয় পুরস্কারও পেয়েছে। নাটকগুলোও পছন্দ করেছে দর্শক। যে পণ্যগুলোর শুভেচ্ছাদূত হয়েছি সেগুলোও দেশের অন্যতম সেরা ব্র্যান্ড। এই ধারাবাহিকতা সব সময় রাখতে চাই। এখন তো অনেক নাটক হচ্ছে। চাহিদাসম্পন্ন অভিনয়শিল্পী হাতে গোনা কয়েকজন। আমি চাইলেই প্রতিদিন শুটিং করতে পারি। কিন্তু সেটা চাই না। কাজ কম করছি বলে আমার আফসোস হয় না। বিশ্বাস করি ভাগ্যে, ভাগ্যে যা আছে তা হবেই। অযথা দৌড়ঝাঁপ করে লাভ নেই।
মাহি নামে শোবিজে আরো কয়েকজন অভিনেত্রী আছেন। নামে মিল থাকায় বিড়ম্বনায় পড়েছেন কখনো?
হ্যাঁ। বিশেষ করে সামিরা খান মাহির সঙ্গে অনেকে আমাকে গুলিয়ে ফেলে। মাহি আর আমি একই সঙ্গে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলাম। দুজন ভালো বন্ধুও। এখন হয়তো ওর জনরা এক আমারটা আরেক। অনেকে আমাকে সাদিয়া আফরিন মাহি না বলে সামিরা খান মাহি বলেন। এটা বেশ মজা লাগে। অন্যদিকে মাহিয়া মাহি আপু তো বাণিজ্যিক ছবির স্টাবলিশড নায়িকা। তাঁর সঙ্গেও আমাকে গুলিয়ে ফেলেন অনেকে। কী আর করা। তবে মাহি নামের সবাই কিন্তু সফল।
নতুন কী করছেন?
মাঝখানে নেপালে গিয়েছিলাম। একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র, একটি ওয়েব ছবি ও একটি নাটকের শুটিং করেছি। নাটক ‘কেয়ার অব সারাংকোট’ আইস্ক্রিনে মুক্তি পেয়েছে। স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবিটি আন্তর্জাতিক উৎসবে অংশ নেবে। আর ওয়েব ছবিটি শিগগিরই মুক্তি পাবে। একটি বাণিজ্যিক ছবি করার কথা হয়েছে। আসলে শুটিং শুরু না হলে বলতে পারছি না। আগেও অনেক ছবি করার কথা হয়েছে; কিন্তু শুটিং পর্যন্ত যায়নি। ওহ! ওটিটি প্ল্যাটফর্মের জন্য নতুন আরো দুটি কাজ করেছি। সে দুটিও খুব শিগগির মুক্তি পাবে। সব মিলিয়ে এ বছর আরো সাত-আটটা কাজ আসবে।











































